৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২২ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক হলেন সোহেল   ●  দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশন নির্বাচনে সভাপতি পদে এগিয়ে আবুল হাশেম   ●  সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাবের এর নেতৃত্বে উখিয়া উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল ও ডায়াগন্টিক সেন্টার পরিদর্শন   ●  কক্সবাজার পুলিশ সুপারকে ঘিরে তিনজনের বদলি-পদায়ন বাণিজ্য   ●  পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু   ●  উখিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা, রক্তদান ও উন্নত খাবার বিতরণ   ●  আলোচিত ৫০ হাজার পিস ইয়াবা আটকের মামলায় নাম নেই ইয়াবার মুল মালিক ডালিম ও ভুট্টোর   ●  ফরেস্ট রেঞ্জার্স ডে উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া ইকোপার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন   ●  জবিস্থ কক্সবাজার ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে কলিম-নয়ন   ●  হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক উত্তর শাখার ৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন

৩ বিদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন

ফারুক আহমদ,(উখিয়া): মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বচোখে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাপান, জার্মান ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফ্রেডরিকা মোঘেরিনি তাদের সঙ্গে ছিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহামুদ আলীর নেতৃত্বে গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় ৩ বিদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সহ আর্ন্তজাতিক রেড ক্রসের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেন।
এরা হলেন, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার।
বিদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছে প্রথমে ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হয়। দীর্ঘ ১৫ মিনিট বৈঠক শেষে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএমওর) পরিচালনাধীন চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এর পরে তাঁরা বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন ও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আশ্রিত নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে তাদের বক্তব্য ধৈর্য্য সহকারে শুনেন। এসময় পিতা-মাতৃহীন এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের সাথেও কথা বলেন তারা।
পরিদর্শন শেষে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো সাংবাদিকদের এক প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের করুন চিত্র আমরা দেখেছি। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন, জুলুম ও জাতিগত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে। তাদের বাড়ী ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বসত বাড়ী থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আমরা রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধানে কাজ করে যাব। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠিয়ে নাগরিত্বক সহ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আগামী ২০-২১ নভেম্বর মিয়ানমারের অনুষ্ঠিত্য আছেন সম্মেলনে জোরালো ভাবে তুলে ধরা হবে। আমরাও চাই শান্তিপূর্ণ ভাবে রোহিঙ্গাদেরকে স্বীকৃতি দিয়ে মিয়ানমার তাদেরকে ফেরত নেবে। বিশেষ করে বিপন্ন রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশের ডাইরেক্টর পেপি ছিদ্দিকীসহ ৩ দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশী কূটনৈতিক ও আর্ন্তজাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরিয় অঞ্চলের পরিচালক বরিস মিশেল।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় দিকে ৩ বিদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে ৩টি বিশেষ হেলিকপ্টার যোগে উখিয়ার ইনানীতে অবতরণ করেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বিকেল ৩টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে উখিয়া ত্যাগ করেন বিদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।