১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক হলেন সোহেল   ●  দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশন নির্বাচনে সভাপতি পদে এগিয়ে আবুল হাশেম   ●  সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাবের এর নেতৃত্বে উখিয়া উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল ও ডায়াগন্টিক সেন্টার পরিদর্শন   ●  কক্সবাজার পুলিশ সুপারকে ঘিরে তিনজনের বদলি-পদায়ন বাণিজ্য   ●  পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু   ●  উখিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা, রক্তদান ও উন্নত খাবার বিতরণ   ●  আলোচিত ৫০ হাজার পিস ইয়াবা আটকের মামলায় নাম নেই ইয়াবার মুল মালিক ডালিম ও ভুট্টোর   ●  ফরেস্ট রেঞ্জার্স ডে উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া ইকোপার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন   ●  জবিস্থ কক্সবাজার ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে কলিম-নয়ন   ●  হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক উত্তর শাখার ৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন

হাসপাতালের একটি পর্দার দাম ৩৭লক্ষ টাকা!

দুর্নীতির ঘোড়া যেন কিছুতেই থামছে না। রূপপুরের বালিশকাণ্ডকে হার মানিয়ে এবার বিষ্ময়কর দুর্নীতির নতুন নজির সৃষ্টি করেছে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। যার মধ্যে একজন রোগীকে আড়াল করার পার্দা ক্রয় করতে দাম দেখিয়েছে ৩৭ লাখ টাকা।

এ অভিযোগ ওঠে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০১২-২০১৬ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে। তবে এর সাথে সে সময়কালে হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তারাও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

জানা যায়, মেসার্স অনিক ট্রেডার্সের ১০ কোটি টাকার একটি বিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আটকিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বিল পরিশোধের আবেদন জানিয়ে ২০১৭ সালে একটি রিট আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল উন্নয়ন প্রকল্পে ২০১২- ২০১৬ সাল পর্যন্ত থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্সে বিরুদ্ধে অনুসন্ধানি রিপোর্টে দেখা যায়, একবারের কেনাকাটায় সাড়ে ১১ কোটি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির বিল দেখিয়েছে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

অর্থাৎ একবারে কেনাকাটায় বাড়তি বিল দেখিয়েছে ৪৭ হাজার কোটি টাকা। দেখা যায়, হাসপাতালে রোগিকে আড়াল করার জন্য একটি পর্দার দাম দেখিয়েছে ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। একটি অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্টে খরচ দেখিয়েছে পাঁচ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আইসিইউতে ব্যবহৃত পর্দা ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ড্যাকুয়াম প্ল্যান্টে দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিএইএস মনিটরিং প্ল্যান্টে দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। ডিজিটাল ব্লাড প্রেশার মেশিনে দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা, হেডকার্ডিয়াক স্টেথোসকোপে এক লাখ ১২ হাজার টাকা। এমনই অবিশ্বাস্য দামে কেনা হয়েছে ১৬৭ টি যন্ত্র।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সহকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ মাহমুদ বাশার বলেন, “একজন রোগীকে অন্য রোগী থেকে আড়াল করার একটি পর্দার দাম দেখানো হয়েছে ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা এটা কোনোভাবেই বাজার মূল্যের সাথে নির্ধারণ করা যাবে না।” তিনি আরো বলেন, “সরকারের যেসক দায়িত্বশীল ব্যাক্তি এর সাথে সম্পিক্ত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক নয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দুদকেও মামলা হতে পারে।

একই সাথে হাইকোর্টে দুদককে ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।” এ নিয়ে মেসার্স অনিক টেডার্সের পিটিশনার ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।