২২ মে, ২০২৬ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৪ জিলহজ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি   ●  বিবেক’কে জাগ্রত রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে- অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান   ●  চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন   ●  বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিএনপি’র পদযাত্রা মরণযাত্রা হয়ে উঠবে-সাবেক সাংসদ বদি

হাসপাতালের একটি পর্দার দাম ৩৭লক্ষ টাকা!

দুর্নীতির ঘোড়া যেন কিছুতেই থামছে না। রূপপুরের বালিশকাণ্ডকে হার মানিয়ে এবার বিষ্ময়কর দুর্নীতির নতুন নজির সৃষ্টি করেছে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। যার মধ্যে একজন রোগীকে আড়াল করার পার্দা ক্রয় করতে দাম দেখিয়েছে ৩৭ লাখ টাকা।

এ অভিযোগ ওঠে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০১২-২০১৬ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে। তবে এর সাথে সে সময়কালে হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তারাও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

জানা যায়, মেসার্স অনিক ট্রেডার্সের ১০ কোটি টাকার একটি বিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আটকিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বিল পরিশোধের আবেদন জানিয়ে ২০১৭ সালে একটি রিট আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল উন্নয়ন প্রকল্পে ২০১২- ২০১৬ সাল পর্যন্ত থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্সে বিরুদ্ধে অনুসন্ধানি রিপোর্টে দেখা যায়, একবারের কেনাকাটায় সাড়ে ১১ কোটি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির বিল দেখিয়েছে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

অর্থাৎ একবারে কেনাকাটায় বাড়তি বিল দেখিয়েছে ৪৭ হাজার কোটি টাকা। দেখা যায়, হাসপাতালে রোগিকে আড়াল করার জন্য একটি পর্দার দাম দেখিয়েছে ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। একটি অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্টে খরচ দেখিয়েছে পাঁচ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আইসিইউতে ব্যবহৃত পর্দা ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ড্যাকুয়াম প্ল্যান্টে দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিএইএস মনিটরিং প্ল্যান্টে দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। ডিজিটাল ব্লাড প্রেশার মেশিনে দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা, হেডকার্ডিয়াক স্টেথোসকোপে এক লাখ ১২ হাজার টাকা। এমনই অবিশ্বাস্য দামে কেনা হয়েছে ১৬৭ টি যন্ত্র।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সহকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ মাহমুদ বাশার বলেন, “একজন রোগীকে অন্য রোগী থেকে আড়াল করার একটি পর্দার দাম দেখানো হয়েছে ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা এটা কোনোভাবেই বাজার মূল্যের সাথে নির্ধারণ করা যাবে না।” তিনি আরো বলেন, “সরকারের যেসক দায়িত্বশীল ব্যাক্তি এর সাথে সম্পিক্ত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক নয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দুদকেও মামলা হতে পারে।

একই সাথে হাইকোর্টে দুদককে ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।” এ নিয়ে মেসার্স অনিক টেডার্সের পিটিশনার ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।