১৯ মে, ২০২৪ | ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ১০ জিলকদ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  এভারকেয়ার হসপিটালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহেরা নাজরীন এখন কক্সবাজারে   ●  কালেক্টরেট চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্দুল হক, সম্পাদক নাজমুল   ●  ক্যাম্পের বাইরে সেমিনারে অংশ নিয়ে আটক ৩২ রোহিঙ্গা   ●  চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুল আলমের অভিযোগ;  ‘আমার কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে’   ●  নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবকিছু কঠোর থাকবে, অনিয়ম হলেই ৯৯৯ অভিযোগ করা যাবে   ●  উখিয়া -টেকনাফে শাসরুদ্ধকর অভিযানঃ  জি থ্রি রাইফেল, শুটারগান ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৫   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝিকে  তুলে নিয়ে   গুলি করে হত্যা   ●  যুগান্তর কক্সবাজার প্রতিনিধি জসিমের পিতৃবিয়োগ   ●  জোয়ারিয়ানালায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত রামু কলেজের অফিস সহায়ক   ●  রামুর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পুলিশের সহযোগিতায়  আসছে চোরাই গরু

কক্সবাজার উপকূলবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে ৬ ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি, মাঝি-মাল্লারা অক্ষত

index

বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজারের উপকুলবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে জলদস্যূতার শিকার হয়েছে মাছ ধরার ৬টি ট্রলার। কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতারা ট্রলারসহ ৬০ জন মাঝি-মাল্লাকে অপহরণের কথা জানালেও দস্যূতার শিকার ট্রলার মালিকরা জানিয়েছেন তাদের ট্রলারগুলো লুটপাট হয়েছে। তবে মাঝি-মাল্লারা অক্ষত রয়েছে। শনিবার বিভিন্ন সময়ে এ ঘটনা ঘটে।
বোট মালিক সমিতির নেতা ও দস্যূতার শিকার ট্রলার মালিকরা জানান , তাদের পাওয়া খবরে আজ শনিবার অন্তত ৬টি ট্রলার দস্যূতার শিকার হয়েছে। ট্রলারগুলো হলো কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন সড়কের মোহাম্মদ কাইয়ুমের মালিকানাধীন এফবি রিসাত ও এফবি রফিকুল ইসলাম, রুমালিয়ারছড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন খাজার মালিকানাধীন এফবি জুবাইদা, পেশকার পাড়ার ফজল করিমের মালিকানাধীন এফবি হাসান ও নুরুল আলমের মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া, চকরিয়ার সুকুমার জলদাসের মালিকানাধীন এফবি জগদীশ।
দস্যূতার এ ঘটনায় এফবি জগদীশের মাঝি ও মালিক সুকুমার জলদাস (৪৫) কে অপহরণ করে জলদস্যূরা ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে বলে জানান, কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাষ্টার মোস্তাক আহমদ।
বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ আরও জানান, আজ বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজার উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ৬টি ফিশিং ট্রলার জলদস্যূতার শিকার হয়েছে। এ এ ঘটনায় ৫টি ট্রলার সহ অন্তত ৬০ জন মাঝি-মাল্লাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে জলদূস্যরা। এখনো ট্রলারসহ মাঝি-মাল্লারা নিখোঁজ রয়েছে। তবে এফবি জগদীশের মালিক ও মাঝি সুকুমার জলদাসকে অপহরণ করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও ট্রলারটিসহ অন্য মাঝি-মাল্লাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি কোস্টগার্ডের কক্সবাজার ষ্টেশনে অবগত করা হয়েছে।
দস্যুতার শিকার এফবি রিসাত ও এফবি রফিকুল ইসলামের মালিক মোহাম্মদ কাইয়ুম জানান, জলদস্যূরা তার ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানী তেল ও ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশ, ট্রলারের রক্ষিত মাছ সহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এসময় ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। ট্রলার ২টি বিকল অবস্থায় এখনো ভাসছে বলে সাগর থেকে ফিরে আসা বিভিন্ন ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের মাধ্যমে তিনি জেনেছেন। এখন ভাসমান বোট দু’টি কূলে নিয়ে আসতে তিনি অপর একটি ট্রলার নিয়ে রওয়ানা দিয়েছেন বলে জানান।
লুট হওয়া অপর ট্রলার এফবি হাসানের মালিক ফজল করিমও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তার ট্রলারটি থেকেও রক্ষিত মাছ, জ্বালানী তেল, খাদ্য সামগ্রী ও ইঞ্জিনের বিভিন্ন মূল্যবান অংশ জলদস্যূরা লুট করে নিয়ে গেছে। ট্রলারটি সাগরে বিকল অবস্থায় ভাসতে থাকলেও মাঝি-মাল্লারা অক্ষত রয়েছে।
কোস্টগার্ড কক্সবাজার ষ্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এমএ নেওয়াজ জানান, দস্যূতার শিকার ট্রলার মালিকরা বিষয়টি অবহিত করার পর পরই কোস্টগার্ড সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালাচ্ছে। মূলত ট্রলারগুলো লুটপাটের শিকার হয়েছে এবং বিকল অবস্থায় সাগরে ভাসছে। তবে মাঝি-মাল্লারা অপহৃত হওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ট্রলার মালিকেরা অভিযোগ করলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মহেশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন বিকাশ জানাান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তিনিও ট্রলার ডাকাতির বিষয়টি শুনেছেন। তবে কোন ট্রলার মালিক বিষয়টি থানাকে অবহিত করেনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক তারেক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জানান, ট্রলার ডাকাতির বিষয়ে থানায় কেউ এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেনি।

 

 

 

 

 

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।