২২ মে, ২০২৬ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৪ জিলহজ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি   ●  বিবেক’কে জাগ্রত রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে- অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান   ●  চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন   ●  বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিএনপি’র পদযাত্রা মরণযাত্রা হয়ে উঠবে-সাবেক সাংসদ বদি

নিরীহ মানুষ হত্যা সবচেয়ে বেশি গুনাহর কাজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,‘ইসলামে কোথাও খুন-খারাবি বা জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই’।এ বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরার জন্য মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, ওলামা-মাশায়েখ, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদবিরোধী সচেতনা সৃষ্টিতে অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা বিভাগের ৬ হাজার ১১৬টি স্থানে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবিরোধী ও উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ে যোগ দেন। ঢাকা বিভাগে যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে এবং যেগুলো চলমান আছে তার ওপর একটি উপস্থাপনা দেখানো হয় সভার শুরুতেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম হলো শান্তি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। নিরীহ মানুষ হত্যা করা সব থেকে বেশি গুনাহের কাজ। যারা নিরীহ মানুষ হত্যা করে তারা জান্নাতে যায় না, তারা জাহান্নামে যায়। সমাবেশে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা সবাই মিলে এই দেশের স্বাধীনতা এনেছি। এখানে সব ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করে দেশের স্বাধীনতা এনেছি। তাই আমরা এখানে এটাই চাই যে, এদেশে সব ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করবেন শান্তিপূর্ণভাবে। সব ধর্মের মানুষ বসবাস করবেন একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশে। এটাই তো আমাদের ইসলামের শিক্ষা। এটাইতো আমাদের ইসলামের নির্দেশ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা দেশে হামলার প্রস্তুতি নিলেও গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বেশ কয়েকটি বড় বিপদ এড়ানো গেছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা মিলে সম্মিলিতভাবে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার ফলে ইতোমধ্যে অনেক সন্ত্রাসী ও জঙ্গি দমন করা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা সেই তথ্যগুলো দিতে পেরেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও সঙ্গে সঙ্গে ধরতে পেরেছে বলে আমরা অনেক বড় বড় বিপদ থেকে দেশের মানুষের জানমাল বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ তাদের সহযোগিতাকারী সাধারণ জনগণকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ জঙ্গি দমন করতে পারে নাই। কিন্তু বাংলাদেশ তা করে যাচ্ছে। আমাদের এখানে থেমে থাকলে হবে না। আমাদের আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়নের কাজগুলো করতে হলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন। যখনই এ ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখনই বাংলাদেশের বদনাম হয়। এই বদনামটা যেন না হয়, তার জন্য সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ঢাকা বিভাগসহ সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্রও প্রধানমন্ত্রী এ সময় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী দেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নীতি হচ্ছে আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠন করা। মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত দেশ গড়া। ২০৪১ সালের মধ্যে এ লক্ষ্যে পৌঁছতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের ছেলে-মেয়েদের প্রতি নজর রাখবেন। কার সঙ্গে ওঠাবসা করে, কার সঙ্গে মেশে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। মনে রাখবেন, আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে সতর্ক থাকি তাহলে এ দেশে জঙ্গিদের ঠাঁই হবে না।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।