২২ মে, ২০২৬ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৪ জিলহজ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি   ●  বিবেক’কে জাগ্রত রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে- অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান   ●  চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন   ●  বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিএনপি’র পদযাত্রা মরণযাত্রা হয়ে উঠবে-সাবেক সাংসদ বদি

দেশময় রোহিঙ্গা ছড়ানো ঠেকাতে কক্সবাজার-চট্টগ্রামে ১৩৮ চেকপোস্ট

একদিনে ৫শ’ রোহিঙ্গা আটক করে ক্যাম্পে হস্তান্তর করলো র‌্যাব-পুলিশ


বিশেষ প্রতিবেদকঃ আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি নির্ধারিত স্থানে রাখতে সরকারের উদ্যোগ কঠোর ভাবে বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। এ কারণে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-উপসড়কে ১৩৮ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশী করা হচ্ছে। এরই মাঝে কক্সবাজার জেলার মেরিন ড্রাইভসহ বিভিন্ন সড়কে ১৫টি চেকপোস্ট ২৪ ঘন্টা তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন সড়কে যানবাহন থেকে ৫শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করে কুতুপালং ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশ ও র‌্যাব-৭ সদস্যরা পৃথক এ অভিযান চালান। চেকপোস্ট অব্যাহত রাখতে কক্সবাজারে অতিরিক্ত ৪০০ বিভিন্ন পদবীর পুলিশ চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের মূখপাত্র আফরোজুল হক টুটুল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্যাম্পে অবস্থান করবেন। তাদের অবস্থান এবং গতিবিধি শুধুমাত্র কক্সবাজারের নির্দিষ্ট ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ থাকবে। ক্যাম্পের বাইরে কোন পরিচিতদের বাড়িতে অবস্থান ও আশ্রয় কিংবা বাড়িভাড়াও নিতে পারবেন না। এ ব্যাপারে জেলা শহরসহ এলাকায় এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মতে রোহিঙ্গারা নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বাইরে অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করতে পারবে না। সব ধরণের পরিবহণ সংশ্লিষ্ঠদের তাদের বহন না করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। এরপরও অর্থলোভী কিছু পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা তাদের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করছে বলে খবর আসায় পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের সবকটি সড়ক-নৌ-রেল ও আকাশ পথে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জেলায় ১৫টিসহ পুরো চট্টগ্রামে ১৩৮টি চেকপোস্ট কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার সেসব পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশী চালিয়ে ২৫০ রোহিঙ্গাকে সনাক্ত করে কুতুপালং পাঠানো হয়েছে। যারা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছিল। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেউ আশ্রয়, বাড়িভাড়া দেয়ার অথবা তাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার অথবা অবস্থানের খবর জানলে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে, র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর মো. রুহুল আমিন জানান, কক্সবাজারের লিংকরোড় এলাকায় বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চেকপোস্ট বসায় র‌্যাব সদস্যরা। চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশী চালিয়ে ২৫০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু সনাক্ত করে কুতুপালং ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের এক জায়গায় রাখার উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট বাসস্থান, খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ও সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে চলছে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন। কিন্তু রোহিঙ্গারা নির্ধারিত ক্যাম্প এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গেলে সরকারি সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নিজ দেশে ফেরত যেতেও বেগ পাবেন। তারা লুকিয়ে কোথাও আশ্রয় নিলেও আমৃত্যু কোন পরিচিতি ছাড়াই অবৈধ অভিবাসী হিসেবে থাকবেন। তাই আশ্রিতদের কল্যাণে তাদের এক জায়গায় রাখতে চেষ্টা চলছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের আন্তরিক সহায়তা একান্ত দরকার। এখন তল্লাশীতে রোহিঙ্গা পেলে পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের শুধু সতর্ক করা হচ্ছে। আগামীতে রোহিঙ্গা যেখানে পাওয়া যাবে সেসব এলাকার সংশ্লিষ্টদের সাজার মুখোমুখী করা হবে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।