২১ মে, ২০২৬ | ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৩ জিলহজ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি   ●  বিবেক’কে জাগ্রত রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে- অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান   ●  চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন   ●  বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিএনপি’র পদযাত্রা মরণযাত্রা হয়ে উঠবে-সাবেক সাংসদ বদি

দৃষ্টি আজ আদালতে

সবার দৃষ্টি থাকবে আজ বিশেষ আদালতের দিকে। দীর্ঘ ৯৩ দিন পর গুলশান কার্যালয় থেকে আজ বের হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গ্রেফতারি পরোয়ানার মামলায় জামিন নিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি। সেখান থেকে তিনি সরাসরি গুলশান এভিনিউয়ে নিজের ভাড়া বাড়িতে ফিরবেন। এ কারণে গুলশানের সেই বাসায় ধোয়ামোছা ও সাজসজ্জার কাজ করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার আদালত থেকে বাসায় যাওয়ার তথ্যটি গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।তিন মাস পর গতকাল সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এ কারণেই খুলে দেওয়া হয়। গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানে অনড় থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন মহান একুশে ফেব্র“য়ারি এবং স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাননি। এদিকে তার আদালতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আজ সারা দেশে হরতালও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা ২০-দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিও দেওয়া হয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য আজ। পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজের অস্থায়ী এজলাসে এ দুটি মামলার বিচার চলছে। পর পর কয়েক দফায় হাজির না হওয়ায় ২৪ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ওই আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু ৪০ দিনেও পরোয়ানা যায়নি বলে দাবি করে গুলশান থানা। অবশ্য এ নিয়ে আদালত বলেছেন, পরোয়ানা থানায় পাঠানো হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই বিশেষ আদালতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। এ প্রসঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেওয়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গতকাল সকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ম্যাডামের আগামীকাল (আজ) আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটা নির্ভর করছে কাল সকালের পরিস্থিতির ওপর।’ তবে খালেদা জিয়ার মামলার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া জানান, ‘ম্যাডাম কাল (রবিবার) আদালতে যাবেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামিন নিতেই বিএনপি-প্রধান বিশেষ আদালতে যাবেন।’ সানাউল্লাহ মিয়া আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জরুরি। কারণ ২৪ ডিসেম্বর আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার গাড়িবহরে হামলা হয়। এ নিয়ে আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তার বিষয়টি বলেছেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সে ধরনের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’ আদালত সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ মোট ছয়জনকে আসামি করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মামলাটি করে। এ ছাড়া ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলাটি দায়ের হয়। এতে আসামি করা হয় খালেদা জিয়াসহ চারজনকে। মামলা দুটি দায়ের হওয়ার পর বেশ কয়েকবার তারিখ পেছানো হয়েছে। এমনকি অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য গ্রহণও পিছিয়েছে কয়েক দফা। পর পর কয়েকবার আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা মাথায় নিয়েও তিন মাসের বেশি সময় ধরে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া। অবশ্য আদালতের ভাষায় তাকে ‘ফেরারি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি ওই কার্যালয় থেকে বের হননি। মামলার শুনানি হলেও তিনি হাজিরা দেননি। জানা যায়, খালেদা জিয়া তিন দিন ধরে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ নিয়ে কয়েক দফা দলের সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তারাও আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। চলমান পরিস্থিতিতে সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তার ইতিবাচক মনোভাবের পরপরই গুলশান কার্যালয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে কার্যালয়ে থাকা নেতা-নেত্রী ও স্টাফদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও কাজ করছে। বিশেষ করে সেখানে থাকা বিএনপির কয়েকজন নেতা ও প্রেস উইংয়ের সদস্যদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাদের যাত্রাবাড়ীতে পেট্রলবোমা হামলা মামলায় জড়ানো হয়েছে।খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার এক স্টাফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ম্যাডাম আদালতে যাবেন- এমনটাই শুনেছি আমরা। এ জন্য তার বাসাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। কার্যালয় থেকে বেশ কিছু আসবাবপত্র বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ কারণে বাসায় থাকা সব কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।’ বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, এ মুহূর্তে গুলশান কার্যালয়ে থাকা আর বাসায় থাকার মধ্যে তেমন কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। আদালতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি কার্যালয়ে ফিরতে না-ও দেয়, তাতেও জোরালো কোনো আপত্তি করবে না বিএনপি। তবে সিটি নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের এ মুহূর্তে মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয় কিনা, তাও পর্যবেক্ষণ করবে দলটি। বিরোধী দলের প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে অবাধ চলাফেরার সুযোগ না দিলে আন্দোলন ও নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাববে দলটি। তবে কোনো কারণে খালেদা জিয়াকে জেলহাজতে পাঠানো হলে পরবর্তী করণীয় কী হবে, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা করে রেখেছে বিএনপি হাইকমান্ড। প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বয়কট করে ফের অবরোধের সঙ্গে টানা হরতাল এমনকি অসহযোগ আন্দোলনেও যেতে পারে দলটি। প্রায় দুই মাস ধরে গুলশান কার্যালয়ে বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ ছাড়া সবকিছুই বিচ্ছিন্ন। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপি-প্রধানের দেখা-সাক্ষাতের সুযোগও নেই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনেকটাই নেতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বাইরেও বের হতে পারছেন না। কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এসবির সদস্যরা অবস্থান নেওয়ায় পেশাজীবী ছাড়া কারও সঙ্গেই বিএনপি-প্রধানের দেখা-সাক্ষাৎ মিলছে না। তাই বাসায় গেলে পরিস্থিতি কী হয়, তাও যাচাই করতে চান খালেদা জিয়া।এদিকে গতকাল রাতে গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদসহ পেশাজীবী সংগঠনের অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এসে এমাজউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, কাল (রবিবার) আদালতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া।

– See more at: http://www.bd-pratidin.com/lead-news/2015/04/05/72908#sthash.tuiF28mF.dpuf

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।