১১ জুলাই, ২০২৬ | ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ২৫ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  প্রতিক্রিয়া : ৫ না ৮—রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসলে কতজন নিহত? সংখ্যার এই বিভ্রান্তির দায় কার?   ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক

চট্টগ্রামে দুই পরিবারের কেউ বেঁচে নেই

দিনমজুর নজরুল ইসলামের একার আয়ে চলত চার সদস্যের পরিবার। বাসা ভাড়া নিয়ে নিরাপদে থাকার মতো আয়-রোজগার তার ছিল না। তাই আরেক বন্ধু ইসমাইলকে নিয়ে বসতি গড়েন রাঙ্গুনিয়ার রাজানগরের বগাবিল গ্রামের পাহাড়ের পাদদেশে। তাদের দু’জনেরই বয়স ৪০-এর ঘরে। বিয়ে করেছিলেন দুই দশক আগে। নজরুল ও ইসমাইল উভয়েরই সন্তান ছিল দু’জন করে। দিনমজুর এ দুই বন্ধুর পরিবারের আট সদস্যের সবাই সোমবার রাতে ঘুমের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন। নজরুল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ তাদের ঘরে পাওয়া গেছে। পাশের ঘরে মিলেছে ইসমাইল, তার স্ত্রীসহ দুই সন্তানের লাশ। এ দুই পরিবারের আট সদস্য একসঙ্গে হারিয়ে যাওয়ায় গতকাল কাঁদার জন্যও ছিল না তাদের কোনো স্বজন। এদিকে রাঙ্গুনিয়ার সেলিম নিজে বেঁচে থাকলেও এক রাতেই হারিয়েছেন পরিবারের ছয় সদস্যকে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, রাজানগরের বগাবিল গ্রামে যে আটজন নিহত হয়েছেন, তারা মাত্র দুটি পরিবারের সদস্য। দিনমজুর ইসমাইল ও নজরুল তাদের পরিবারের সব লোকজনসহ মাটিচাপা পড়ে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান সেকান্দর বলেন, দাফনের জন্য নিহত প্রতি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। এ দুই পরিবারের সবাই মারা যাওয়ায় টাকা দেওয়ার মানুষও পাচ্ছি না।

স্থানীয়রা জানায়, ঘুমের মধ্যেই নজরুলসহ তার স্ত্রী আসমা আক্তার বাচু, ১৫ বছরের ছেলে নানাইয়া ও ৯ বছরের মেয়ে সাফিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে। একইভাবে দিনমজুর ইসমাইলসহ তার স্ত্রী মনিরা আক্তার, আট বছরের মেয়ে ইভা ও চার বছরের মেয়ে ইছা নিহত হয়েছে। শুধু নজরুল ও ইসমাইল নন, রাঙ্গুনিয়াবাসীকে শোকে ভাসিয়েছে ইসলামপুরের মইন্যারটেক এলাকার বাসিন্দা সেলিমও। তিনি নিজে বেঁচে থাকলেও তার ছেলে সুজন, পুত্রবধূ মুনি্ন, নাতনি জোছনা, শাহানু ও ফালুমা নিহত হয়েছেন। সুজনের এক বছরের মেয়ে মিম এখনও নিখোঁজ। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন সেলিম। ঘরের ভেতর থেকে একেক করে যখন স্বজনের লাশ বের করে আনা হচ্ছিল, তখন আনমনে কী যেন বলছিলেন সেলিম। নির্বাক সেলিমের চোখেও কোনো অশ্রু নেই।

বান্দরবানে এক দিনেই তিন শিশুসন্তানকে হারিয়েছেন লালমোহন বড়ুয়া। তিনি বলেন, ভারি বৃষ্টিতে বেশি পানি জমে যাওয়ায় বাড়ির পাশের নালা পরিষ্কার করতে তারা স্বামী-স্ত্রী বের হয়েছিলেন। সন্তানরা সবাই ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় পাহাড় ধসে চোখের সামনে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবারে আমরা স্বামী-স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই।’

চট্টগ্রামের চন্দনাইশেও এক রাতে হারিয়ে গেছে একই পরিবারের তিন সদস্য। তারা হচ্ছেন_ ম্যোকাইং ক্যায়াং (৫০), ম্যে ম্যাও ক্যায়াং (১৩) ও ক্যাওস্যা ক্যায়াং (৮)। আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন একই পরিবারের ছ্যান্যুও ক্যায়াং ও ত্যেলাও ক্যাও ক্যায়াং।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।