১১ মে, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ২৩ জিলকদ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  কক্সবাজারে উত্তম কৃষি চর্চায় টেকসই,নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত   ●  গবেষণার গুরুত্ব ও গবেষণা প্ল্যাটফর্ম নিয়ে CCDRC’র সেমিনার অনুষ্ঠিত   ●  আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা, পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা   ●  উখিয়ার প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ফরিদ আহম্মদ চৌধুরীর ৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ।   ●  কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সিরাজুল হক ডালিম’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ   ●  বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. আবদুল হাই এর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ   ●  গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জেন্ডার ও জলবায়ু বিষয়ক আলোচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত   ●  ঘুমধুমে অবৈধ পাহাড় কাটা: ডাম্প ট্রাকে মাটি যাচ্ছে বদির ক্যাশিয়ার আঃলীগ নেতা খাইরুল আলম চৌধুরী’র ইটভাটায়   ●  সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিবাদ   ●  ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার আসামি হলেন রামু থানার নবাগত ওসি আরমান

কবে ঘুচবে মহেশখালী জেটি দুর্ভোগ?

দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির পরও অবসান হচ্ছে না মহেশখালী জেটিঘাটের দুর্ভোগ। কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটের এই ঘাটটি স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকদের জন্য অধিকতর গুরুত্ব বহন করে চললেও দুর্ভোগ অবসানে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। সম্প্রতি এই রুটে ফেরিঘাট চালুর উদ্যোগের কথা বলা হলেও কবে নাগাদ চালু হবে তা বলা যাচ্ছে না। এখন এই ঘাট দিয়ে চলাচলকারীদের একটাই প্রশ্ন- কবে সীমাহীন দুর্ভোগ?
জেটিঘাট কর্তৃপক্ষ জানান, নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে জেটিঘাট। জোয়ারের সময় স্বাভাবিক থাকলেও ভাটায় নেমে আসে দুর্ভোগ। এই সময় পানি কমে গিয়ে স্পীডবোটসহ কোনো বোট ঘাটে ভিড়তে পারছে না। যার ফলে প্রায় গজ হাঁটুর বেশি পথ মাড়িয়ে জেটিতে উঠতে হচ্ছে। প্রতিদিনই জোয়ারের সময় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কাদা মাড়িয়ে এই পথ চলতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রোগীদেরতো দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সব মিলে এ যেন এক যুদ্ধ জয়ের ব্যাপার। এতে করে অনেক সময় রয়েছে জীবনের ঝুঁকিও।
অন্যদিকে বর্ধিত কাঠের জেটিটিও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। নড়বড়ে এই কাঠের জেটিতে প্রায় সময় অধিক সংখ্যক যাত্রী অবস্থান করেন। এর উপর চলে হুড়োহুড়িও। এই কারণে বেশ কয়েকবার ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে করে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সময় ভাটা থাকে বিকালের দিকে। এসময় নানা প্রয়োজনে কক্সবাজার শহরের আসা মহেশখালীর লোকজন ফেরেন। কিন্তু ভাটার কারণে বোট জেটিতে ভিড়তে না পারায় কাদা মাড়িয়ে জেটিতে উঠতে হয়। একই সময় মহেশখালীর আদিনাথে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা কক্সবাজার শহরে ফিরে আসেন। তাদের অনেক সময় মহেশখালী জেটিঘাট দিয়ে এসে কাদা মাড়িয়ে বোটে উঠতে হয়।
হোয়ানকের চিংড়ি ব্যবসায়ী এনামুল হক জানান, তিনি প্রায় সময় চিংড়ি কক্সবাজার আসেন। সকালের দিকে এসে কাজ সেরে ফিরতে ফিরতে বিকাল গড়িয়ে অনেক সময় সন্ধ্যা হয়ে যায়। এই সময় ভাটা থাকায় প্রায় তিনি কাদা মাড়িয়ে বাড়ি ফিরেন।
ঘাটে দায়িত্বরত লোকজন জানান, ঈদ-পার্বণসহ নানা উপলক্ষ্যে যাত্রী বাড়লে ঘাটে অনেক চাপ বাড়ে। এসময় দুর্ভোগ অনেকাংশে বেড়ে যায়।
যাত্রীরা বলছেন, মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ-রুটে ফেরি চালুর যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছেন তা শিগগিরই চালু করা হোক। ফেরি চালু না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগ কোনো ভাবেই কমবে না। যে ভাবেই হোক এই নিদারুণ দুর্ভোগের অবসান চায় মহেশখালীর মানুষ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ জুলাই নৌ-পরিবহন মন্ত্রনায়লেয়র যুগ্ন সচিব নুর উর রহমানের নেতৃত্বে ৮ সদস্যর প্রতিনিধিদল মহেশখালী দ্বীপে ৩টি স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শক দল মহেশখালীর গোরকঘাটার সী-বীচ থেকে কক্সবাজারের নাজিররাটেক, মহেশখালী জেটিঘাট থেকে চৌফলদন্ডিঘাট এবং আদিনাথ জেটি হয়ে চৌফলদন্ডি ঘাটে ফেরি চালুর সম্ভাব্যতা অবলোকন করেন। এ তিনটি সম্ভাব্য স্থানের উপযুক্ত ও টেকসই স্থানে ফেরিসার্ভিস চালু করা হবে। কিন্ত এখন পর্যন্ত এই উদ্যোগের কোনো অগ্রগতির কথা জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটে ফেরি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক দল। আমরাও সে ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সে সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।