৫ জুলাই, ২০২৬ | ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ১৯ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি

কক্সবাজারের পর্যটন খাতে ভয়াবহ ধ্বস

coxsbazar pic (1) 14.3.15.psd
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় পর্যটন খাতে ভয়াবহ ধস নেমেছে। ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে শতাধিক হোটেল-গেস্ট হাউস। গত ৫ জানুয়ারির পর থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে কক্সবাজারে পর্যটক আসা আশাংকাজনক হারে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার কমার্শিয়াল ফয়সাল শাহ্ বলেন, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম। কক্সবাজারের কোনো হোটেলের কক্ষ খালি থাকে না।
তিনি বলেন, এসময় যে কোনো হোটেলের শতকরা ৭০ থেকে ৮০ টি কক্ষ ভাড়া থাকে। কিন্তু টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে তা কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ১০ থেকে ১৫ টিতে।
তিনি আরো জানান, গত বছর এই সময়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে ছিল। আর এ বছর ১৫০ জনেরও কম। এদিকে পর্যটক কমে যাওয়ায় বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজ। অন্যদিকে, লোকসানের কারণে অনেক কর্মচারিদের ছাঁটাই করতে হচ্ছে বলে জানান হোটেল মালিকরা।
একাধিক হোটেল মালিকরা বলেন, হোটেলগুলোতে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি বুকিং বাতিল করা হয়েছে। নতুন কোনো বুকিংও হচ্ছে না। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ৪ জানুয়ারির পর থেকে ক্ষতি হয়েছে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা। এ অবস্থায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পুরো সেক্টরটি। গত মাসেও হিমশিম খেতে হয়েছে। এ মাস শেষ হলে শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন দেয়াও সম্ভব হবে না। আর এই কারণেই বাধ্য হয়ে কর্মচারিদের ছাঁটাই করতে হচ্ছে।

Coxsbazar pic (2) 14.3.15.psd

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার ও অর্থ সম্পাদক শফিকুর রহমান জানান, অবরোধ শুরুর পর থেকে প্রায় দুই হাজার কর্মচারিকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
এ ছাড়া পর্যটক না থাকায় শতাধিক ট্যুরিজম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অন্তত এক হাজার কর্মী, দু’শতাধিক রেস্তোরাঁর এক হাজার কর্মচারি, শুঁটকি ও লবণ এবং শতাধিক বিপণি কেন্দ্রের আরও কয়েক হাজার কর্মচারিসহ ১০ হাজার শ্রমজীবী মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর পরিচালক তৌফিক রহমান বলেন, অবরোধ-হরতালের কারণে ট্যুরিস্টরা বাংলাদেশ ভ্রমণে আসছেন না। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ট্যুরিস্ট তাদের ভ্রমণ বাতিল করেছেন। অনেকে হোটেলে রুমের বুকিং বাতিল করেছেন।
তার মতে, শিগগিরই চলমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পর্যটন খাতে এ মৌসুমে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে। এর সঙ্গে হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউস, রেস্টুরেন্ট, জাহাজ ও পরিবহনের ক্ষতি যোগ করলে তা হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

coxsbazar pic (3) 14.3.15.psd

বাংলাদেশ পর্যটন করর্পোরেশনের মহা ব্যবস্থাপক মো.কামরুজ্জামান বলেন, টানা অবরোধে সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ হোটেল-মোটেল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এটা দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। পর্যটন খাতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, পর্যটন খাতের ওপর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আঘাত এলে ব্যক্তি ও দেশ উভয়ই ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধমন্দির, ইনানী সৈকত, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে। কিন্তু এ বছর হরতাল, অবরোধ, নাশকতার আশঙ্কায় এসব পর্যটন কেন্দ্রগুলো শূন্য হয়ে পড়েছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।