২৯ মে, ২০২৬ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ১১ জিলহজ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি   ●  বিবেক’কে জাগ্রত রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে- অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান   ●  চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন   ●  বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিএনপি’র পদযাত্রা মরণযাত্রা হয়ে উঠবে-সাবেক সাংসদ বদি

নাইক্ষ্যংছড়ি খাল ভরাট ও দখলের কারনে বন্যা

নাইক্ষ্যংছড়িতে টানা দুই দিন পানি বন্দি থাকার পর পাহাড়ী ঢলের পানি নামতে শুরু করেছে। শনিবার রাত থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি খাল, তুমব্রু খাল, গর্জইছড়ার পানি কমতে থাকায় পানি বন্দি অন্তত ৩৪ হাজার মানুষ ঘরে ফিরেছে। এর আগে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা ৪৮ ঘন্টা পানি বন্দি ছিল উপজেলার ধুংরী হেডম্যানপাড়া, বড়–য়াপাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার, বাইশারী ইউনিয়নের নারিচবনিয়া, দক্ষিণ বাইশারী, ধৈয়ারবাপেরপাড়া, পশ্চিম বাইশারী, ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজার, কোণার পাড়া, মধ্যমপাড়া ও উত্তর পাড়ার মানুষ। বিগত ২০১২ সালে উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও প্রাণ হানি ঘটলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ীত্ব ছিল ৭/৮ ঘন্টা মাত্র। কিন্তু এবার টানা ৪৮ ঘন্টা পানি স্থিত থাকায় উপজেলার সবধরনের যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে হাজার হাজার মানুষ চরম দূর্ভোগে রয়েছে।
পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী ও তুমব্রুতে তিন বছরের ব্যবধানে দুই বার ভয়াবহ পানি বন্দি হওয়ার কারণ হিসেবে প্রবীণ মুরব্বী ও বিশেষজ্ঞ মহল জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি, তুমব্রু ও গর্জন ছড়া, গর্জইখাল গভীরতা কমে যাওয়ায় বার বার এখানকার মানুষ পানি বন্দি হচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ির স্কুল শিক্ষক এএসএম আলমগীর জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও নাইক্ষ্যংছড়ি খালের প্রস্ততা ও গভীরতা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ খালটি মাত্র কয়েক কদম দিয়েই পার হওয়া যায়। যার কারনে পাহাড়ী ঢলের পানি নামলে উপজেলা সদরে পানি প্রবেশ করে চরম দূর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। তাঁর মত একই অভিযোগ তুলেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিসন বড়–য়া। সাম্প্রতিক সময়ে নাইক্ষ্যংছড়ি খালটি ভরাট ও কিছু কিছু জায়গায় বেদখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ পানি বন্দি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
খালের পার্শ্ববতী বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, সীমান্তবর্তী পাহাড় বেয়ে চাকঢালা হয়ে নেমে আসা নাইক্ষ্যংছড়ি খালটি বিছামারা থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ক্যম্প পর্যন্ত এলাকায় পাহাড়ী ঢলে ভরাট হয়ে গেছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় দেওয়াল নির্মাণ ও ভবন নির্মাণের কারনে খালের অস্বীত্বও খুজে পাওয়া দুষ্কর। একসময় এ খাল দিয়ে নৌকায় নিয়মিত পন্য আনা নেওয়া করত। কিন্তু বর্তমানে এ খালটি মাত্র কয়েক ফিট এর প্রস্ততা। স্থানীয়রা জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে পানি নেমে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নাইক্ষ্যংছড়ি খাল। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে পানি চলাচলের কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার ফলে পানির নিচে তলিয়ে যায় উপজেলা সদর।
এদিকে একই ভাবে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু খালের গভীরতা ও প্রস্থতা কমে যাওয়ায় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে কয়েকটি গ্রামে নিয়মিত পানি বন্দি হয়ে পড়ে জনসাধারণ। তুমব্রু খালটি দুই দেশের সীমান্ত রেখা হওয়ায় এখানে সহজভাবে ড্রেজিংও করা সম্ভব নয়, তবে বাংলাদেশ অংশে রক্ষণা বেক্ষণ ও সংষ্কার কাজ করা গেলে কিছুটা ভোগান্তি কমতে পারে বলে মনে করেন ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।
বাইশারী ইউনিয়নের নারিচবুনিয়া, দক্ষিণ বাইশারী, পশ্চিম বাইশারী গ্রামে বার বার পানি বন্দি হয়ে হাজার হাজার মানুষ মারাত্মক দূর্ভোগে পড়ে জানিয়ে পানি নেমে যাওয়ার স্তরগুলো খনন করার দাবী জানান সাবেক নারী ইউপি সদস্য সাবেকুন্নাহার।
উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা, ক্ষয়-ক্ষতি ও প্রাণহানির বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও এমপি প্রতিনিধি আলহাজ্ব খায়রুল বাশার বলেন- স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ এলাকায় যাতায়ত নির্ভর ছিল নৌপথ। যা বর্তমানে ৫ভাগে নেমে এসেছে। ঠিক একই ভাবে একটি সময় তুমব্রু খালে নৌযান চলাচল করত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ামারের ওপারে কাটা তার তৈরীর জন্য নির্মীত রাস্তার কারনে পাহাড়ী ঢলে খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। মূলত খাল, নদী ছড়া ভরাটের কারনে বার বার বন্যার সম্মুখীন হচ্ছে পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ির জনসাধারণ। এক্ষেত্রে খাল ড্রেজিং করাও ব্যয়বহুল একটি কাজ বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু শাফায়াত মুহম্মদ শাহে দুল ইসলাম বলেন- গত কয়েকদিনে নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যার মূল কারণ হচ্ছে খাল ভরাট। তবে এ খালটি দুই জেলার সীমানা হওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি অংশে অবৈধ দখলদারদের বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি খালের অংশে ড্রেজিং এর জন্য জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে বলে তিনি জানান।
বাইশারীতে আওয়ামীলীগের ত্রান বিতরণ: বাইশারীর নারিচবুনিয়া গ্রামে ৮০ পরিবার এবং দক্ষিন বাইশারী গ্রামে ৩০ পরিবার মোট ১১০টি বন্যা কবলিত পরিবারকে ত্রান বিতরণ করেছে। প্রতিজনকে ১০ কেজি চাউল, ২ কেজি চিড়া, আধা কেজি সয়াবিন তৈল, আধা কেজি গোড়, ১ পাবা ডাল, ১ প্যাকেট মোমবাতি, দিয়াশলাই ১টি এবং ২ কেজি মুড়ি বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ আলম কোম্পানীর নেতৃত্বে তাৎক্ষনিক ভাবে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মৌলানা আব্দুর রহিম, ধর্ম-বিষয়ক সম্পাদক মৌলানা আব্দুল মান্নান, ছাত্রনেতা নুরুল কবির রাশেদ, ইউনিয়ন নেতা আব্দুল জব্বার, স্থানীয় ওয়ার্ড সভাপতি আনোয়ারুল আলম, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহিম, সব্বির আহমদ প্রমুখ।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।