২২ মে, ২০২৬ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৪ জিলহজ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি   ●  বিবেক’কে জাগ্রত রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে- অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান   ●  চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন   ●  বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিএনপি’র পদযাত্রা মরণযাত্রা হয়ে উঠবে-সাবেক সাংসদ বদি

জেলায় পৃথক ঘটনায় বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু

চলতি সপ্তাহের একটানা ভারী বষর্ণে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে জেলার জনপদ। পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতভিটা, রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, ফসলের ক্ষেত, চিংড়িঘেরসহ সব অবকাঠামোর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শহরের চেয়ে গ্রামীণ পর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ অত্যাধিক। জেলার বিভিন্নস্থানে পানিবন্দী মানুষের দূর্বলতার সুযোগে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্থরা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোন নজরদারি চোখে পড়ার মত নয়। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণও চলছে প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য।
পবিত্র রমজান মাসে পানিবন্দী অনেকেই শুধু মাত্র পানি খেয়ে রোজা রেখেছেন বলে জানা গেছে। ইফতারও জুটছে না অনেকের। এমন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ রির্পোট লেখাপর্যন্ত জেলার রামু ও টেকনাফ উপজেলায় ৪জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে টানা বর্ষণের মাত্রা না কমায় ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ আরো বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির কোন পরিসংখ্যান নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রামুতে ২ জনের মৃত্যু :
রামুতে বন্যার পানি থেকে বাঁচতে নৌকা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে নৌকা ডুবে ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরা হলো রাম্ু উপজেলার ক্যাজর বিলের কাদের মোহাম্মদের কন্যা কামরুন্নাহার (২০) ও এরশাদ উল্লাহর কন্যা হুমাইরা (৩)।
সেন্টমার্টিনে টর্ণেডোয় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি, মা-শিশু নিহত :
কক্সবাজারের টেকনাফের প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে টর্ণেডোর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে সেন্টমার্টিনদ্বীপে টর্ণেডো আঘাত হানে। এতে নারিকেল গাছ ভেঙ্গে পড়ে কোনারপাড়া নুর মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২৫) ও তাদের শিশু পুত্র মোঃ জিশান (৪) ঘটনাস্থনেই প্রাণ হারিয়েছে। গাছ চাপায়, ঘর উপড়ে ও বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন অনেকেই। টর্ণেডোর আঘাতে দ্বীপের সর্বত্র কম-বেশী ক্ষয়-ক্ষতি হলেও সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৬ ও ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। টর্ণেডোর আঘাতে শত শত বসতঘর বিধ্বস্থ, গাছপালা উপড়ে ও মসজিদ-মাদ্রাসা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় এখনও শত শত বাড়ি পানির নীচে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে গত ১ সপ্তাহ ধরে অবিরাম ভারি বর্ষণ, দুর্যোগপুর্ণ আবহাওয়ায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিনদ্বীপ নৌপথে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় খাদ্য সংকট, টর্ণেডোর আঘাতে সেন্টমার্টিনদ্বীপের বাসিন্দাগণ চতুর্মুখী সমস্যায় পড়েছেন।
অপরদিকে অবিরাম বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে শুক্রবার দুপুরে কাউন্সিলরদের সাথে এক জরুরি বৈঠক করেছেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল।
তিনি বলেছেন, পেশকার পাড়াস্থ সুইচ গেইট অকেজো হয়ে যাওয়ার ফলে শহরে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। উক্ত সুইচ গেইট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পৌরসভা কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
সার্বিক বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অনুপম সাহা জানিয়েছেন, প্রবল বর্ষণে জেলার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।