২৪ মে, ২০২৬ | ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৬ জিলহজ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি   ●  বিবেক’কে জাগ্রত রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে- অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান   ●  চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন   ●  বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিএনপি’র পদযাত্রা মরণযাত্রা হয়ে উঠবে-সাবেক সাংসদ বদি

কচ্ছপের ১৮৫ বাচ্চা বঙ্গোপসাগরে অবমুক্ত

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
হ্যাচারিতে জন্ম নেওয়া ১৮৫টি কচ্ছপের বাচ্চা কক্সবাজারের উখিয়া ও রামুর বঙ্গোপসাগর অংশে অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উখিয়ার ইনানী উত্তর সোনারপাড়া এবং রামুর খুনিয়াপালং পেঁচারদ্বীপ এলাকায় হ্যাচারি সংলগ্ন পশ্চিম সৈকতে বাচ্চাগুলো সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বন বিভাগের সহায়তায় নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের (নেকম) এসব কচ্ছপের বাচ্চা সংরক্ষণ ও অবমুক্ত করেছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সরোয়ার আলম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নেকম’র প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা (এনআরএম) ম্যানেজার আবদুল কাইয়ুম  জানান, গত ১৫ জানুয়ারি হতে অলিভ রিডলি জাতের কচ্ছপ সৈকতে ডিম দিয়েছিল। সেন্টমার্টিনসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন অংশে দেয়া ডিমগুলো সংগ্রহ করে কচ্ছপ নিয়ে কাজ করা নেকম। নেকম কর্মীরা এসব ডিম সংগ্রহের পর হ্যাচারিতে রেখে বালির নিচে বিশেষ কায়দায় ফুটানোর উদ্যোগ নেয়। ৬০ থেকে ৯০ দিনের মাঝে ডিমগুলো ফুটে বাচ্চা বের হয়। সেভাবে রবিবার বিকেলে দক্ষিণ বনবিভাগের ইনানীর উত্তর সোনারপাড়া হ্যাচারিতে ১২০টি ও পেঁচারদ্বীপ হ্যাচারিতে ৬৫টি বাচ্চা বালির নিচ থেকে উঠে আসে। এসব বাচ্চা সোমবার দুপুরে সাগরে অবমুক্ত করা হয়। সৈকতের এ বেল্টে আরো সাড়ে ৫ হাজার ডিম ফুটার অপেক্ষায় রয়েছে।
নেকমের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ড. শফিকুর রহমান বলেন, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম সংরক্ষণ ও প্রজনন প্রক্রিয়ার তদারকি করে নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট। বেশ কয়েকবছর ধরে সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার সৈকত থেকে কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ করছে সংস্থাটি। সেন্টমার্টিনে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। কক্সবাজার অংশে সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার। দুই মাস পর ডিমগুলো থেকে বাচ্চা বের হয়। পরে বাচ্চাগুলো সাগরে অবমুক্ত করা হয়।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সরোয়ার আলম বলেন, কচ্ছপ প্রকৃতির সুইপার। সমুদ্রের আবর্জনাগুলো ভক্ষণ করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখে কচ্ছপ। কিন্তু আমাদের অসচেতনতায় নিজের আবাসস্থল হারাচ্ছে এ উপকারী প্রাণীটি। নিষিদ্ধ জালে মাছ শিকারকালে আটকা পড়ে মারা যায় কচ্ছপ। পর্যটন বিকাশের কারণে কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলে অতিরিক্ত আলোকায়নে কূলে ফিরে কুকুরের আক্রমণেও মরছে কচ্ছপ। এসব নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও আমরা কচ্ছপ প্রজননে গুরুত্বারূপ করছি। তারই ফল স্বরূপ আজকের কচ্ছপের বাচ্চা অবমুক্ত।
কচ্ছপ অবমুক্ত করণকালে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আনোয়ার হোসেন, সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সভাপতি অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমানসহ বন বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনকে কচ্ছপসহ সকল সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য নিরাপদ প্রজনন ও আবাস স্থল হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। পৃথিবীকে মানুষের বসবাস উপযোগী রাখতে হলে প্রানীকূলের উপস্থিতি জরুরী। আমাদের উচিত প্রকৃতি রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখা।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চও সেন্টমার্টিন বঙ্গোপসাগরে ৬০টি বাচ্চা কচ্ছপ অবমুক্ত করেছে নেকম।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।