৬ মে, ২০২৬ | ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ১৮ জিলকদ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সিরাজুল হক ডালিম’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ   ●  বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. আবদুল হাই এর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ   ●  গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জেন্ডার ও জলবায়ু বিষয়ক আলোচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত   ●  ঘুমধুমে অবৈধ পাহাড় কাটা: ডাম্প ট্রাকে মাটি যাচ্ছে বদির ক্যাশিয়ার আঃলীগ নেতা খাইরুল আলম চৌধুরী’র ইটভাটায়   ●  সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিবাদ   ●  ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার আসামি হলেন রামু থানার নবাগত ওসি আরমান   ●  ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টিমের সঙ্গে সাউথ কোরিয়া গেলেন লায়ন মো. মুজিবুর রহমান   ●  কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পেলেন উখিয়ার ডা. নুরুল আবছার শিমুল   ●  উখিয়ায় বসতভিটা দখলকে কেন্দ্র করে হামলা: নারী-পুরুষসহ আহত ৪, এলাকায় আতঙ্ক   ●  বার কাউন্সিলে উত্তীর্ণ সিবিআইইউ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

ইয়াবার টাকায় মাটির ঘরে রাজার বেশে বসবাস

পেশায় তিনি ইজিবাইক চালক। নাম সৈয়দ নূর (৩৬)। বসবাস কক্সবাজারের টেকনাফ থানার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী গাজিপাড়ায়। মাটির ঘরে রোদ বৃষ্টি সামাল দিতে পলিথিন ঝুলিয়ে রাখা। সেই সৈয়দ নূর ইংরেজী নববর্ষে স্ত্রীকে দিয়েছেন ২২ ভরি ওজনের স্বর্ণের হার। যার দাম পড়েছে ১৪ লাখ টাকা। স্ত্রী প্রেমে ‘শাহজাহান’ বনে যাওয়া এ হতদরিদ্রের আসল চেহারা ধরা পড়েছে বৃহস্পতিবার পুলিশি অভিযানে। বিশাল ইয়াবা কারবারের হোতা তিনি। আলোচিত মাটির ঘরেই মিলেছে ১০ হাজার ইয়াবা।

সূত্র জানায়, দুই সপ্তাহ আগে টেকনাফে ইয়াবার বড় কারবারি নুর হাফেজ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। সে সময় পাওয়া কিছু তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের নজর পড়ে স্থানীয় ইজিবাইক চালক সৈয়দ নুরের দিকে। তবে তিনি বড় মাপের ইয়াবা কারবারি এমন ধারনা মেলেনি। সৈয়দ নুর বসবাস করেন একটি ছোট্ট মাটির ভাঙ্গাচোরা ঘরে। কথিত শ্রমজীবির সেই মাটির ঘরেই সন্দেহবশত পুলিশ হানা দেয় বৃহস্পতিবার। ১০ হাজার ইয়াবার একটি বড় চালানসহ সৈয়দ নুরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এরপর ঘরের মালামাল তল্লাশি করতে গিয়ে পুলিশের নজরে আসে আকর্ষণীয় একটি স্বর্ণের হার।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সৈয়দ নুর জানান, ইংরেজী নববর্ষে স্ত্রীকে উপহার দিয়েছেন ২২ ভরি ওজনের স্বর্ণের হারটি। ঘরেই পাওয়া যায় স্বর্ণালঙ্কার কেনার রশিদ। মূল্যমান দেখা যায় ১৪ লাখ টাকা। পুলিশ টাকার রশিদসহ হারটি জব্দ করেছে।
টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘সীমান্তে গত দুই বছর ধরে ইয়াবা আটকের অভিযান চালাচ্ছি। এবারের ঘটনা পুরোই আলাদা। আটক ইয়াবা কারবারি সৈয়দ নূরকে সন্দেহ করার মতো কোন উপাদানই ছিল না। দিনের আলোয় তিনি একজন ইজিবাইক চালক। বসবাস জীর্ন ঘরে। প্রত্যন্ত রঙ্গিখালী গাজিপাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ নুর সম্পর্কে তথ্য মেলে ইয়াবা ডন নুর হাফেজ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবার পর পরই। এখন নিশ্চিত হওয়া গেছে নুর একজন বড় মাপের ইয়াবা কারবারি।’

ইয়াবা কারবারি সৈয়দ নূরের গ্রেপ্তারসহ অবাক করা কাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি জানান, ইয়াবা কারবারিরা এখন কৌশল পরিবর্তন করেছেন। তারা প্রকাশ্যে দীনহীন জীবনযাপন করছেন। আগে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এলাকায় আলিশান ভবন নির্মাণ করে সবার নজরে পড়েছিলেন। সেসব ভবন অভিযানে ভেঙ্গে দেয়ার কারনে এখন তারা মাটি ও খড়ের ভাঙ্গাচোরা ঘরে বাসবাসেরকৌশল নিয়েছেন। সন্দেহের বাইরে থাকে তাদের এসব কলাকৌশল।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।