
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজারের উখিয়া থানায় পুলিশের দায়ের করা একটি নাশকতা মামলায় জুলাইযোদ্ধা, স্নাতক শেষবর্ষের ছাত্র (পরীক্ষা চলমান) আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরানকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘ছাত্রলীগ ট্যাগ’ লাগিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে তোলপাড় চলছে। পুলিশের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সর্বমহলে। অনেকেই ছব্বিশের আন্দোলনে ইমরান রাজপথে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন দাবি করে তার মুক্তির দাবি করেছেন জুলাইযোদ্ধারা।
সুত্র মতে, উখিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক করে নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।
রোববার (২৬ জুলাই) উখিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ বড়ুয়া।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলবুনিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের বাড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন।
পুলিশের দাবি, ওই বৈঠকে সরকার ও রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
সংবাদ পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশের একাধিক টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া (৪২) এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান (২৪) নামে দুজনকে আটক করা হয়। তবে অন্যরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশাসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।
ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো কলেজছাত্র ইমরানের সহপাঠী জুলাইযোদ্ধা তাওহীদুল ইসলাম রাফী বলেন, আমরা একসাথে কক্সবাজার সরকারি কলেজে স্নাতক পাস কোর্সে বিবিএস তৃতীয়বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছি। পালংখালীতে যেদিন ছাত্রলীগ প্রোগ্রামটি করে, সেদিন আমরা পরীক্ষার হলে ইংরেজি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম।
তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি ইমরান রাজনীতি করে না। তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আটক করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সারওয়ার সাহেল নামের এক ব্যবসায়ী খোলা চিঠি লিখেছেন, ইমরান উত্তর পুকুরিয়ার ছেলে। কলেজপড়ুয়া ছাত্র। অনার্সে পড়ছে। যতটুকু জানি, সে কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। এলাকায় গেলে দেখা হয় মাঝে মধ্যে। সবসময় হাস্যোজ্জ্বল মুখ নিয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। বড়দের সম্মান দেখিয়ে কথা বলে। সে কখনো কারো সাথে ঝগড়া করেছে শুনিনি।
তিনি লিখেন, কি অপরাধ তার? কি দরকার ছিল সাধারণ একটা ছাত্রকে জেলের অন্ধকার ঘরে পাঠানোর? অভিযানে একজন না পেয়ে আরেকজনকে ধরে নিয়ে আসতে হবে কেন? যে কোনভাবে যাকে ধরতে গেছেন তাকেই ধরতেন। নিরাপরাধ ছাত্র কেন ধরে আনলেন?
তিনি প্রশ্ন তুলেন, ভাই হলে কি সেও অপরাধী?
২০২১ ফেব্রুয়ারি ০৮ ০৮:৩১:১১
২০২০ জুলাই ২৮ ০৬:০২:৪৫
২০২০ জুন ২৭ ১১:১৮:৫৪
২০২০ জুন ২২ ১২:৫৩:২৯
২০২০ মে ২৯ ০৫:৫৩:৩৫
২০২০ মে ০৯ ০১:০৫:২৩
২০২০ মে ০৭ ০৫:০৩:৩০
২০২০ মে ০৫ ১১:৫৩:৩৯
এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।