৯ জুন, ২০২৬ | ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ২২ জিলহজ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি   ●  বিবেক’কে জাগ্রত রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে- অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান   ●  চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

‘সেরা করদাতা’ বদির ভ্যাট ও করফাঁকি!

আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ও কর ফাঁকি দিয়েছেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাকে কক্সবাজারের ‘সেরা করদাতা’র স্বীকৃতি দেওয়‍ার পর ছয় মাস না যেতেই এই ভ্যাট ও কর ফাঁকির চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাওয়া এসব তথ্যসহ তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ খতিয়ে দেখতে ঢাকা থেকে কক্সবাজার গেছেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ও সংস্থাটির সহকারী পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম। দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যদিও ভ্যাট ও করফাঁকির পরিমাণ কত তা এখনই তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করতে চাননি দুদকের দায়িত্বশীল সূত্রটি। তবে সূত্রের দাবি, এ পর্যন্ত দুদকের তদন্তে চার্জশিট দায়ের করার মতো তথ্যই পাওয়া গেছে। কক্সবাজারে সরেজমিন তদন্ত শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দুদকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, তদন্তে অগ্রগতিমূলক তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন আরও বস্তুনিষ্ঠ করতে ও তদন্তে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে তদন্ত দলের সদস্য সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য কক্সবাজার গেছেন।
এদিকে আবদুর রহমান বদি ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব নম্বরেও (অ্যাকাউন্ট) ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ পেয়েছে দুদক। রাষ্ট্রীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির কাছে বদির নিজ নামে ১১টি অ্যাকাউন্ট এবং তার স্ত্রী-সন্তানের নামে ১০টি অ্যাকাউন্টের তথ্য রয়েছে।
এসব অ্যাকাউন্টের চারটিতে সন্দেহজনক লেনদেন পেয়েছে দুদক। এদের দু’টি বদির নিজ নামে, আর দু’টি তার পরিবারের সদস্যদের নামে।
পরিবারের সদস্যদের নামে অ্যাকাউন্ট থাকলেও এগুলো বদি নিজেই পরিচালনা করতেন কি-না তাও খতিয়ে দেখছে দুদক।
এসব অ্যাকাউন্টে লেনদেনের পরিমাণ এবং কোন কোন অ্যাকাউন্টে ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ হয়েছে তা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জানাতে চায়নি দুদকের দায়িত্বশীল সূত্রটি।
দুদকের কাছে আবদুর রহমান বদি, তার দুই স্ত্রীর মধ্যে এক স্ত্রী শাহীনা আকতার, ছেলে আবদুল্লাহ আরমান শাওন ও মেয়ে সামিয়া রহমান সামীর নামে মোট ২১টি অ্যাকাউন্টের তথ্য রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে বদির নিজ নামে রয়েছে ১১টি অ্যাকাউন্ট। এগুলো বদি নিজেই পরিচালনা করেন।
এর মধ্যে কক্সবাজার টেকনাফ শাখায় আরব বাংলাদেশ ব্যাংকে ৩টি অ্যাকাউন্ট, ঢাকা ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় ১টি, কক্সবাজারে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ঝিলংজা শাখায় ১টি, একই ব্যাংকের প্রধান শাখায়ও রয়েছে তার আরেকটি অ্যাকাউন্ট। ইসলামী ব্যাংকের কক্সবাজার ও টেকনাফ শাখায় ২টি, সোনালী ব্যাংকের টেকনাফ শাখায় ৩টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এছাড়া তার মালিকানাধীন মেসার্স এ রহমান অ্যান্ড এজেন্সির নামে সোনালী ব্যাংক টেকনাফ শাখায় ২টি, ইসলামী ব্যাংকের টেকনাফ শাখায় ১টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
বদির স্ত্রী শাহীন আক্তারের নামে সোনালী ব্যাংকের টেকনাফ শাখায় ১টি, পূবালী ব্যাংকের উখিয়া শাখায় ১টি, ইসলামী ব্যাংকের টেকনাফ শাখায় ১টি, এবি ব্যাংকের টেকনাফ শাখায় ১টি একাউন্ট রয়েছে।
এছাড়া বদির মেয়ে সামিয়া রহমানের নামে মেসার্স সামিয়া এন্টারপ্রাইজের ২টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে সোনালী ব্যাংকের টেকনাফ শাখায়।
মেয়ে সামিয়া আক্তারের নামে মেসার্স সামিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে সোনালী ব্যাংকের টেকনাফ শাখায় ২টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ছেলে আবদুল্লাহ আরমান শাওনের মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজের নামে সোনালী ব্যাংকের টেকনাফ শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
তবে বদির দ্বিতীয় স্ত্রী খাদেজা আকতার শাখেরুন্নেছা শাকীর নামে কোনো অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য এখনও পায়নি দুদকের তদন্ত টিম। এসবের বাইরে বদি ও তার পরিবারের আরও কোনো অ্যাকাউন্ট রয়েছে কি-না দুদক তাও খতিয়ে দেখছে। এছাড়া ২১টি অ্যাকাউন্ট বিভিন্ন নামে থাকলেও বদিই এগুলো পরিচালনা করছেন কি-না তদন্ত করছে দুদক।
ইতিমধ্যে এসব অ্যাকাউন্টের হিসাব সংক্রান্ত সব তথ্য, হিসাব খোলার আবেদন ফরম, নমুনা স্বাক্ষর কার্ড, কেওয়াইসি প্রোফাইলসহ শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণীর সব রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদের নেতৃত্বে একটি টিম এসব বিষয় তদন্ত করছেন।
প্রসঙ্গত, অবৈধ সম্পদের অভিযোগে গত বছরের ২১ আগস্ট আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। ওই মামলায় প্রায় তিন সপ্তাহ কারাভোগ করেন সরকার দলীয় এ সংসদ সদস্য। এ মুহূর্তে তিনি জামিনে রয়েছেন।

সূত্র-বাংলানিউজ

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।