২৩ জুন, ২০২৬ | ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ৭ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি

‘সব সাংবাদিক শালারা ইয়াবা ব্যবসায়ী’

 SI-Firoj_
 
‘কক্সবাজারের সব সাংবাদিক শালারা ইয়াবা ব্যবসায়ী’ বলে দম্ভোক্তি করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলম।
২২ এপ্রিল বুধবার শহরের তারাবানিয়ার ছড়া এলাকায় নিহত স্কুল শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল আলিম মো: নোবেলকে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
পরে ওই সংবাদকর্মী অপর সহকর্মীদের নিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি থানার সেকেন্ড অফিসার কাইয়ুম উদ্দিনের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ দিকে একজন সংবাদকর্মী তথ্যনির্ভর সংবাদ সংগ্রহ করতে পুলিশ কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক আচরণে সাংবাদিক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এসআই ফিরোজের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছেন সংবাদকর্মীরা। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেছেন সংবাদকর্মীসহ সচেতন সমাজ।
নাজেহালে শিকার ওই সংবাদকর্মী জানান, মডেল থানার ওসি (তদন্ত) বখতিয়ার উদ্দিন ওই সময় ঘটনাস্থলে নিজেই উপস্থিত ছিলেন। তার সামনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বাজে উক্তি করেন এসআই ফিরোজ।
তবে কয়েকজন কনষ্টেবল সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও রহস্যজনক ভাবে নিরবতা পালন করেন ওসি (তদন্ত) বখতিয়ার। এমনটিই দাবি নাজেহাল হওয়া সংবাদকর্মীর।
সাংবাদিক নোবেল বলেন, ২২ এপ্রিল সকালে শহরের তারাবানিয়ার ছড়া এলাকায় শহিদুল ইসলাম নামের শহীদ তিতুমীর ইনস্টিটিউট’র এক শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু’র খবরে ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। সেখানে নিহত ব্যক্তির নিহতের ঘটনার তথ্য ও লাশের ছবি ধারণকালে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে থাকা এসআই ফিরোজ।
ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কক্সবাজারের সব সাংবাদিক শালারা ইয়াবা ব্যবসায়ী।” সে সময় কয়েকজন পুলিশ কনষ্টেবল সাংবাদিকদের আপাতত ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বললেও উপস্থিত ওসি (তদন্ত) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী রহস্যজনক ভাবে নিরবতা পালন করেন।’
পরে মডেল থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি অফিসার ইনচার্জ কাজী মো: মতিউল ইসলামকে জানালে তিনি তাৎক্ষনাৎ উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেই ওসি তদন্তের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে নিহত শিক্ষকের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের নাজেহাল করার বিষয়টি স্বীকার করেন। ওই সময় এসআই ফিরোজের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে বললে সাংবাদিক নোবেল বাদি হয়ে এসআই ফিরোজের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দ্বিতীয় কর্মকর্তা কাইয়ুম উদ্দিন চৌধুরীকে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পরে তিনি রাত ৮টায় উক্ত বিষয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক করা হবে বলে সাংবাদিকদের আশ্বাস প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছেন বাদি।
অভিযুক্ত মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ফিরোজ আলমের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক আর পুলিশ ভাই ভাই। আমি কেন সাংবাদিকদের ইয়াবা ব্যবসায়ী ডাকবো। কিছু ভুঁয়া সাংবাদিক আছে যারা ভুঁয়া কার্ড নিয়ে বিভিন্ন অপরাধ করছে। আমি তাদেরকে গালি দিয়েছি মাত্র। আমার কাছে অনুমতি না নিয়ে ছবি তুলেছে বলে এক সাংবাদিককে নিষেধ করেছি মাত্র।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি কাজী মো: মতিউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন দিতে বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ সম্পর্কে পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখছি। সংবাদকর্মীর সাথে এমন আচরণ একজন পুলিশ কর্মকর্তা করতে পারেনা।’

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।