৩০ জুন, ২০২৬ | ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ১৪ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি

প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম:স্বজনপ্রীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ ‘হতদরিদ্র’ হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্রের তালিকা তৈরীতে স্বজনপ্রীতি, এক পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে কার্ড ইস্যু, হতদরিদ্রদের তুলনায় মধ্যবিত্ত পরিবারকে বেশি উপহার বিতরণ, বিতরণকৃত উপহার থেকে কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহযোগীতায় তৈরী করা হতদরিদ্রের তালিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
কক্সবাজার পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে বিগত বহু বছর ধরে কাজ করছেন হতদরিদ্র মিনতি শর্র্মা। তার বাড়ি জাদিরাম পাহাড় এলাকা। অনেক চেষ্টা তদবিরের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার পেয়েছেন। তাকে নগদ ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। মিনতি শর্মা বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে কার্ড সংগ্রহ করেছিলাম। যে কার্ড করে দিয়েছে তাকে কমিশন দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। আমি পেয়েছি দুই হাজার। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার দায়িত্বপ্রাপ্তরা লুটে-পুটে খেয়েছে।’
সমুদ্র উপকূল থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করে কক্সবাজার শহরের পথে-পথে বিক্রি করেন উপেন্দ্র। তিনি বলেন, ‘খুব কষ্টে সংসার চালাই। দিনে এনে দিনে খেতে হয়। পূজা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব মানুষের জন্য উপহার পাঠিয়েছেন শুনে অনেকের কাছে ধর্না দিয়েছি। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ঘুরেছি মানুষের দ্বারে-দ্বারে। কেউ কার্ড দেয়নি। অথচ টাকাওয়ালা অনেকেই চোখের সামনে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়েছে। এগুলো কি ধনীদের জন্য দেওয়া হয়েছিল?’
ঘোনারপাড়ায় ঝালাইয়ের কাজ করেন অসুস্থ নারায়ন বোস। তিনি বলেন, ‘পরিচিত অনেকেকে দেখেছি, তাদের অনেক টাকা-পয়সা আছে, কিন্তু তারাও উপহার পেয়েছে। আমি গরীব মানুষ। টাকার জন্য ঠিকমত চিকিৎসা করতে পারিনা। কিন্তু আমাদের খবর কেউ নেয়নি। অনেকের কাছে গেছি। কেউ আমাদের কার্ড দেয়নি। যাদের এই কার্ড দেওয়া হয়েছে তারা গরীব নয়।’
প্রায় একই অভিযোগের কথা জানান, ঘোনারপাড়ার বাসিন্দা পান-সুপারী বিক্রেতা বাদল দে। তিনি বলেন, ‘দিনে আনি দিনে খাই। ঘরে অভাব রয়েছে আমাদের। কিন্তু হতদরিদ্রের টাকা পাচ্ছে অন্যরা। ধনীদের এ টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গরীবের জন্য উপহার পাঠালেও সেই উপহার গরীবের কাছে পৌঁছেনি।’
কক্সবাজার পৌরসভার বাসিন্দা, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা পূণ্যবর্ধন বড়–য়া বলেন, ‘বড়–য়া পাড়া, পেতা সওদাগরপাড়া এলাকায় যেসব অসহায় বৌদ্ধ পরিবার রয়েছে তাদের কেউ প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার পাননি। যারা পেয়েছে তারা গরীব নয়। যাদের সবকিছু আছে তাদেরকেই মূলত এ উপহার দেওয়া হয়েছে। হতদরিদ্র বৌদ্ধ পরিবারগুলোকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
আমরা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কিছু লোকজন মিলে বিষয়টি জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। আমাদের কথা শুনতে চাননি। কারা এ শুভেচ্ছা উপহার পেলেন তাদের তালিকাও তার কাছে নেই বলে জানিয়েছেন। তাহলে কোথায় গেলো প্রধানমন্ত্রীর উপহার? কাদের এ উপহার দেওয়া হলো? যাদের বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা ব্যাপক অনিয়ম করেছেন।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হেমন্তিকা’র সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অনিল দত্ত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কক্সবাজারের হতদরিদ্র মানুষের জন্য শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছেন তা সফল হয়নি। যাদের উপহার বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করেছেন। এক পরিবারের দুই-তিন জনকে পর্যন্ত কার্ড দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ হতদরিদ্র ওই উপহার পায়নি। কিছু হতদরিদ্র পরিবার টাকা পেলেও তাদের কাছ থেকে কমিশন এক শ্রেণীর দালাল।’
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার। তালিকা যাচাই-বাছাই করলেই এ অপকর্মের গোমর ফাঁস হবে। পূজা উদযাপন পরিষদের ভূমিকা এখানে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তারা এটা কি ধরনের তালিকা করলো?’
এ বিষয়ে জানতে গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
প্রসঙ্গত, শারদীয় দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার জেলার ১৬ হাজার ৬৭০টি হিন্দু ও বৌদ্ধ পরিবারের জন্য ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছেন। গত বুধবার উপহার হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৩ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।