৬ জুলাই, ২০২৬ | ২২ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ২০ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি

ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে সবজি-মাছ-মাংসে

পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজি, মাছ, মুরগিসহ মাংসের সংকট দেখা দিয়েছে। একদিনের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। মাছের দাম ধরণ ভেদে কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আর সকল প্রকার সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং মাংসের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও সায়দাবাদ অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে বুধবার এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে রাজধানীতে দূর থেকে মাছ, মুরুগি বা সবজি আসছে না। আশপাশের এলাকা থেকে সীমিত মাছ ও সবজি আসছে। ফলে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। এমনকি বাড়তি দাম দিয়েও কোন কোন খুচরা ব্যবসায়ী পণ্য সংগ্রহ করতে পারেননি। তবে পেঁয়াজ, তেল ও আলুর দাম স্বাভাবিক রয়েছে।


যাত্রাবাড়ী, সায়দাবাদ ও মিরহাজীরবাগের বিভিন্ন বাজারে ফার্মের মুরগি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) বয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে আর লাল কক ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। আজ (বুধবার) এক দিনের ব্যবধানে বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা এবং কক মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে।

দাম এতো বাড়ার কারণ জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী বউ বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, ধর্মঘটের কারণে আড়তে মুরগি আসছে না। ফলে আমাদের মুরগি বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে, তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।
সায়দাবদের ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, শুক্রবার বাদে অন্য স্বাভাবিক দিনে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি লাল কক মুরগি বিক্রি করি। আজ এনেছি মাত্র ৫টি। তাও মাহজনের কাছ থেকে বেশি দাম দিয়ে এক প্রকার জোর করে আনতে হয়েছে। আমাদের কি করা বলেন ভাই? বেশি দামে কিনলে তো বেশি দামে বিক্রি করতেই হবে। আমরা তো আর লস দিয়ে বিক্রি করবো না।

এদিকে বয়লার মুরগির সংকটে বেড়ে গেছে গরু ও খাসির মাংসের দামও। যাত্রাবাড়ী-সায়দাবাদ অঞ্চলে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ থেকে ৫০০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকায়। মঙ্গলবার গরুর মাংস বিক্রি হয়েছিল ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকায়। আর খাসির মাংস ৬৫০ টাকা থেকে ৬৭০ টাকায়।


যাত্রাবাড়ী বাজারে কথা হয় মুরগি কিনতে আসা মরিয়ম বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, বাসায় নতুন মেহমান এসেছেন। তাই বাজারে মাংস কিনতে এসেছি। কিন্তু সব মাংস বিক্রেতাই অতিরিক্ত দাম চাচ্ছেন। গরুর মাংস কিনতে হয়েছে ৫০০ টাকা কেজি দিয়ে। আর খাসির মাংস কিনেছি ৬৮০ টাকা কেজি দরে। মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার প্রতিকেজি তেলাপিয়া মাছ বিকি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। আজ তা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। ১ কেজির ওপরে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। যা মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছিল ২২০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। ছোট রুই-মৃগেল (নলা মাছ) বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে, যা মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

সবজি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে, যা মঙ্গলবার ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। মঙ্গলবার যে লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিচ। ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টমেটার দাম বেড়ে হয়েছে ৩০ থেকে ৪৫ টাকা। ১৫ টাকায় বিক্রি হওয়া ডাটার আটি বিক্রি করা হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। ৩০ টাকার করলা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।