২৩ জুন, ২০২৬ | ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ৭ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি

চলন্ত সিএনজিতে জবাইয়ের শিকার খরুলিয়ার তরুণী চম্পা

শাহীন মাহমুদ রাসেল:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চলন্ত সিএনজি টেক্সী থেকে তরুণীর জবাই করা মরদেহ ফেলে দিয়ে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়া-পেকুয়া-বাঁশখালী আঞ্চলিক সড়কের চকরিয়ার কোনাখালী ইউনিয়নের মরং ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মরদেহটির মুখ ওড়নায় পেঁচানো অবস্থায় ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে তাকে গাড়িতেই জবাইয়ের পর রাস্তায় ফেলে দেয় হত্যাকারিরা। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান।

হত্যার শিকার তরুণী চম্পা খাতুন (১৭) কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ার নয়াপাড়ার নছিমন চালক রুহুল আমিনের বড় মেয়ে ও রামুর তেচ্ছিপুল এলাকার শাহ আলম নামে তরুণের স্ত্রী। লকডাউন শুরুর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ফুফুর বাসায় বেড়াতে গিয়ে মা-বাবার জন্য মন কাঁদায় শত নিষেধের পরও বুধবার লকডাউন ঝুঁকিতে সিএনজি টেক্সী যোগে সে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে চকরিয়া এসে হত্যার শিকার হন।

চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে কোনাখালী ইউনিয়নের মরং ঘোনা এলাকায় রাস্তার উপর একটি মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ রাত সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহটি উদ্ধার করে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে একটি সিএনজিচালিত বেবি টেক্সি থেকে তার জবাই করা মরদেহটি ফেলে দেয়া হয়। উড়নায় মুখ প্যাচারো মরদেহ থেকে পিচঢালা সড়কের উপর প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তরুণীকে গাড়িতেই হত্যা করে ওই জায়গায় ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গাড়ি এবং হত্যাকারিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। প্রথমে তার পরিচয় না পেলেও কক্সবাজার থেকে তরুণীর মা-বাবা ও স্বজনরা থানায় এসে পরিচয় সনাক্ত করেন।

চম্পার মামা কলিম উল্লাহ জানান, দরিদ্র পিতা হিসেবে যৌতুক দিতে অসমর্থ হওয়ায় রামুর তেচ্ছিপুলের শাহ আলম নামে এক যুবকে ঘর জামাই রেখে সুশ্রী চম্পাকে ৫-৬ মাস আগে বিয়ে দেয়া হয়। কোন কারণে পরিবারের উপর মন খারাপ করে মার্চের শুরুর দিকে চম্পা কাউকে কিছু না বলে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড তার ফুফুর বাসায় চলে যান। সেখানে কয়েকদিন থাকার পরই শুরু হয় লকডাউন। রাগ কমে গেলে বাড়ি চলে আসার জন্য পীড়াপিড়ি করছিল চম্পা। এ কঠিন মুহুর্তে আসতে বারণ করা হচ্ছিল বার বার। কিন্তু বুধবার সকালে জেদ ধরে বলে পায়ে হেটে হলেও বাড়ি চলে আসবে। তখন তার বাবা তার জন্য এক হাজার টাকা বিকাশে পাঠায়। তার ফুফাতো ভাই তাকে নতুন ব্রীজ এলাকায় এসে একটি সিএনজিতে তুলে দেয়। সর্বশেষ যখন তার সাথে যোগাযোগ হয় তখন সে চকরিয়ার জনতাবাজার (গরুবাজার) পর্যন্ত এসেছে বলে জানিয়েছিল। মহাসড়ক দিয়ে গাড়ি না আসায় উপকূলীয় সড়ক দিয়ে কক্সবাজার নেয়ার কথা বলে আরেকটি সিএনজিতে উঠে বলে চট্টগ্রাম থেকে আসা সিএনজি চালক জানিয়েছিল। এটি সন্ধ্যার আগে। কিন্তু এরপরই চম্পার সাথে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। বাবা-মার অস্থিরতা বাড়ার পর রাত ১১টার দিকে সড়কে মরদেহ পাবার খবর পেয়ে সবাই চকরিয়া থানায় এসে গলাকাটা মরদেহটি চম্পার বলে সনাক্ত করে।

কলিম উল্লাহর মতে, লকডাউনে চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার জন্য বের হওয়াটা-ই কাল হলো তরুণী চম্পার। তার অনাকাঙ্খিত মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার মা-বাবার বুকফাটা কান্না সবাইকে অশ্রুসিক্ত করছে। এমন সুশ্রী চঞ্চল মেয়েটিকে কোন অপরাধে হত্যা করলো নরপিশাসরা তা বের করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ ও দাবি জানান কলিমসহ চম্পার পরিবার।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।