
এএইচ সেলিম উল্লাহঃ
কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে (এসপি) ঘিরে তিন পুলিশ সদ্যস্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনৈতিক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তাদের গণহারে বদলি করে তাদের নিজস্ব বলয় তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। পুলিশ সুপারের আশকারা পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ওই তিন পুলিশ সদস্য। তাদের চাহিদা মতো টাকা দিলে মিলে ভাল স্টেশনে পোস্টিং।
শুধু বদলি বাণিজ্য নয়, বিভিন্ন থানায় কর্মরত অনেকের কাছ থেকে মাসিক হারে টাকা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
তিন সদস্যের এই চক্রের মধ্যে পুলিশেন মাঠের তথ্য সরবরাহ করেন গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আদম আলী। তার তথ্যের ভিত্তিতে বদলি-পদায়ন নিয়ন্ত্রণ করেন রিজার্ভ অফিসে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ জাকারিয়া ও পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম।
অন্যদিকে পুলিশ সুপারের (এসপি) দেহরক্ষী বোরহানের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তার ভয়ে তটস্থ থাকেন খোদ ওসিরাও।
ভুক্তভোগী একাধিক পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলে এমন সব তথ্য মিলেছে।
প্রাপ্ত তথ্যসূত্র বলছে, কক্সবাজারের বর্তমান পুলিশ সুপার (এসপি) এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই তার আস্থাভাজন হবিগঞ্জ জেলার (এসপির সাবেক কর্মস্থল) কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেনকেও কক্সবাজারে এনে পদায়ন করা হয়। তাকে কক্সবাজারে পদায়ন করে দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা পুলিশের বদলি-পদায়নের আরও ওয়ান পদে।
সূত্রমতে, এই উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান হবিগঞ্জের এসপি থাকাকালিনও আরও ওয়ান পদে দায়িত্বে ছিলেন। সেই ক্ষেত্রে এসপি এবং আরও ওয়ানের মধ্যে বদলি-পদায়নের বিষয়টি অনেক পুরনো কারবার।
সূত্রটি বলছে, এসআই আনোয়ার হোসেন কক্সবাজার জেলার আরও ওয়ান পদে দায়িত্ব নেয়ার পর পুলিশ সুপারের আশকারায় মেতে উঠেন বদলি বাণিজ্যে। বিভিন্ন জেলা-বিভাগ থেকে তার পূর্ব পরিচিত লোকজন এনে সুবিধা মতো থানা-ফাঁড়িতে পদায়ন করে আসছেন। ক্যাটাগরি হিসেবে নেয়া হচ্ছে নগদ মোটা অংকের টাকা। আরও ওয়ান-কে চাহিদা মতো টাকা যোগান দিতে না পারায় ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা থেকে বিনা কারণে দুই ডজন পুলিশ সদস্য পার্বত্য অঞ্চলসহ দূর্গম এলাকায় বদলি হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফসহ বিভিন্ন থানায় কর্মরত ছিলেন পুলিশের চৌকস কিছু সদস্য। অপরাধীরা তাদের কারণে আতংকে থাকতো। যার কারণে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা উন্নতির দিকে এগোচ্ছিল বলেই মনে করা হতো। তবে আরও ওয়ান-এর চাহিদা পুরণ করতে না পারায় তাদের গণহারে বদলি করা হয় কক্সবাজার জেলার বাইরে। এতে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, কক্সবাজার জেলা থেকে একজন পরিদর্শককে অন্য জেলায় বদলি করা হয়। ওই জেলার এসপি সেই পরিদর্শককে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে পদায়ন করেন। পদায়নের বিষয়টি কক্সবাজারের এসপির নজরে আসলে সংশ্লিষ্ট জেলার এসপিকে মিথ্য তথ্য উপস্থাপন করে ওই পরিদর্শককে সেই পুলিশ ফাঁড়ি থেকে একদিনের মাথায় সরিয়ে নেয়া হয়। এভাবে কক্সবাজার পুলিশ সুপারের (এসপি) বঞ্চনা ও প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন অনেকেই।
অপর একটি সূত্র বলছে, সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) আদম আলী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবিতে কর্মরত ছিলেন। বেশিরভাগ সময় তিনি তার কর্মস্থলে না থেকে সিনিয়রদের অগোচরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় চষে বেড়ান। জেলার থানা-পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে আরও ওয়ান-এর কাছে তথ্য সরবরাহ করেন এই আদম আলী। এসপির আস্থাভাজন লোক হওয়ার কারণে কেউ টুঁ-শব্দটিও করতে ভয় পান। তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অভিযোগও রয়েছে।
কয়েকদিন আগে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানায় কর্মরত কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবলকে (মুন্সি) বদলি করা হয়। আরও ওয়ান সিন্ডিকেটের পছন্দের লোকজনকে পদায়নের জন্য তাদের বদলি করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী একাধিক পুলিশ সদস্য। আরও ওয়ান সিন্ডিকেটের পছন্দের লোক হওয়ার কারণে দুই বছরের অধিক সময় পার হলেও রামু থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল (মুন্সি) মেহেদীকে সরানো হয়নি বলেও তাদের অভিযোগ।
‘বদলির রেইট’ কেমন জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ সদস্য বলেন, থানা- ফাঁড়ির ক্যাটাগরি দেখে টাকার অংক নির্ধারণ করা হয় এবং সেভাবে আদায় করা হয়।
হবিগঞ্জের বিএনপি নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কক্সবাজারের বর্তমান পুলিশ সুপার (এসপি) এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান হবিগঞ্জে কর্মকালিন সময়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি ঘরানার লোকজনকে ব্যাপক হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। গত ১৭ বছর তার স্ত্রী মুশফিকা ইফফাত স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার দপ্তরেই কর্মরত ছিলেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা বিভাগের একজন উপসচিব (উপপ্রধান) হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বর্তমানে প্রশিক্ষণ শাখা এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে আরও ওয়ান মো. আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বদলি বাণিজ্য সহ নানা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ আছেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান হবিগঞ্জে তার কর্মকালীন সময়ে মো. আনোয়ার হোসেন আরও এর দায়িত্বে থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ( ভুক্তভোগীদের) বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ দিতে বলেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২০২১ ফেব্রুয়ারি ০৮ ০৮:৩১:১১
২০২০ জুলাই ২৮ ০৬:০২:৪৫
২০২০ জুন ২৭ ১১:১৮:৫৪
২০২০ জুন ২২ ১২:৫৩:২৯
২০২০ মে ২৯ ০৫:৫৩:৩৫
২০২০ মে ০৯ ০১:০৫:২৩
২০২০ মে ০৭ ০৫:০৩:৩০
২০২০ মে ০৫ ১১:৫৩:৩৯
এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।