১০ জুলাই, ২০২৬ | ২৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ২৪ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  প্রতিক্রিয়া : ৫ না ৮—রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসলে কতজন নিহত? সংখ্যার এই বিভ্রান্তির দায় কার?   ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক

৩ বিদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন

ফারুক আহমদ,(উখিয়া): মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বচোখে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাপান, জার্মান ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফ্রেডরিকা মোঘেরিনি তাদের সঙ্গে ছিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহামুদ আলীর নেতৃত্বে গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় ৩ বিদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সহ আর্ন্তজাতিক রেড ক্রসের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেন।
এরা হলেন, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার।
বিদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছে প্রথমে ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হয়। দীর্ঘ ১৫ মিনিট বৈঠক শেষে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএমওর) পরিচালনাধীন চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এর পরে তাঁরা বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন ও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আশ্রিত নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে তাদের বক্তব্য ধৈর্য্য সহকারে শুনেন। এসময় পিতা-মাতৃহীন এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের সাথেও কথা বলেন তারা।
পরিদর্শন শেষে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো সাংবাদিকদের এক প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের করুন চিত্র আমরা দেখেছি। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন, জুলুম ও জাতিগত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে। তাদের বাড়ী ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বসত বাড়ী থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আমরা রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধানে কাজ করে যাব। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠিয়ে নাগরিত্বক সহ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আগামী ২০-২১ নভেম্বর মিয়ানমারের অনুষ্ঠিত্য আছেন সম্মেলনে জোরালো ভাবে তুলে ধরা হবে। আমরাও চাই শান্তিপূর্ণ ভাবে রোহিঙ্গাদেরকে স্বীকৃতি দিয়ে মিয়ানমার তাদেরকে ফেরত নেবে। বিশেষ করে বিপন্ন রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশের ডাইরেক্টর পেপি ছিদ্দিকীসহ ৩ দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশী কূটনৈতিক ও আর্ন্তজাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরিয় অঞ্চলের পরিচালক বরিস মিশেল।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় দিকে ৩ বিদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে ৩টি বিশেষ হেলিকপ্টার যোগে উখিয়ার ইনানীতে অবতরণ করেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বিকেল ৩টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে উখিয়া ত্যাগ করেন বিদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।