৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২১ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক হলেন সোহেল   ●  দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশন নির্বাচনে সভাপতি পদে এগিয়ে আবুল হাশেম   ●  সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাবের এর নেতৃত্বে উখিয়া উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল ও ডায়াগন্টিক সেন্টার পরিদর্শন   ●  কক্সবাজার পুলিশ সুপারকে ঘিরে তিনজনের বদলি-পদায়ন বাণিজ্য   ●  পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু   ●  উখিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা, রক্তদান ও উন্নত খাবার বিতরণ   ●  আলোচিত ৫০ হাজার পিস ইয়াবা আটকের মামলায় নাম নেই ইয়াবার মুল মালিক ডালিম ও ভুট্টোর   ●  ফরেস্ট রেঞ্জার্স ডে উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া ইকোপার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন   ●  জবিস্থ কক্সবাজার ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে কলিম-নয়ন   ●  হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক উত্তর শাখার ৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন

সীমান্তের জিরো লাইনে এক মাসে ৮০ শিশুর জন্ম, ৪’শ নারী গর্ভবতী

নাইক্ষ্যংছড়ি চাকঢালায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া ২ রোহিঙ্গা নবজাতক ও মা

শফিক আজাদ,(চীপ রিপোর্টার): সীমান্তের জিরো লাইনে ৬টি আশ্রয়ন রোহিঙ্গা শিবিরে এক মাস ৪ দিনে ৮০ রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হয়েছে। গর্ভবতী অবস্থায় রয়েছে আরো ৪’শত নারী। নো ম্যান্স ল্যান্ডে এক মাসে এত শিশুর জন্ম পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। সদ্য জন্ম নেয়া এ সব শিশু বাংলাদেশ অংশের জিরো লাইনে জন্ম হলেও তারা জন্ম সুত্রে বাংলাদেশী হওয়ার কোন সুযোগ নেই। ফলে এসব শিশুরা কোন দেশের পরিচয়ে পরিচিত হবে তার সঠিক উত্তর কারোর জানা নেই।
তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ ও নানা কারণে লক্ষ লক্ষ শরনার্থীর অবস্থান দীর্ঘদিনের। সীমান্ত ও দেশের অভ্যন্তরে বসবাসরত এ সব শরনার্থীদের সন্তান জন্ম নেয়ার প্রবনতাও লক্ষনীয়। কিন্তু সীমান্তের জিরো লাইনে ( আন্তর্জাতিক সীমা রেখা ) গর্ভবতী নারীর আনুপাতিকে হারে এক মাসে ৮০ শিশুর সুস্থ্য জন্ম বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। আর এই বিরল ইতিহাসের স্বাক্ষর রাখলেন বাংলাদেশ।
গত ২৫ আগষ্ট হতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাস ৪ দিনে সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২টি ইউনিয়নের সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থিত ৬টি অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮০ শিশুর সুস্থ্য জন্ম হয়েছে। নতুন করে জন্মের অপেক্ষায় দিন গুনছে আরো ৪শত গর্ভবতী নারী। ইতিমধ্যেই সদ্য জন্ম নেয়া এসব শিশু ও গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আনা হয়েছে।
নবাগত রোহিঙ্গা শিশুরা বাংলাদেশে ইতিহাসের পাতায় স্বাক্ষী হয়ে থাকলেও জন্ম সুত্রে নাগরিকত্ব লাভের কোন সুযোগ নেই। মিয়ানমার সরকার স্বীকৃতি দিক বা না দিক নো ম্যান্স ল্যান্ডে জন্ম নেয়া নবাগত শিশুরা বাংলাদেশের বিধান অনুযায়ী জাতিগত ভাবে রোহিঙ্গা শিশু তথা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হবে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, সরকারী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ঘুমধুম ও নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে জন্ম নিবন্ধন সনদ দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে নো ম্যান্স ল্যান্ডে জন্ম নেয়া ৮০ শিশু প্রশ্নে তারা রোহিঙ্গা এবং মিয়ানমারের নাগরিক। বাংলাদেশ তাদেরকে স্বীকৃতি দেবে না।
এদিকে নো ম্যান্স ল্যান্ডে জন্ম নেয়া শিশুর জননীরা জানান, পেটে সন্তান ধারণ করে তারা পাহাড়-পর্বত অতিক্রম করে জীবনের ঝুকি নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় গ্রহন করার পর সন্তান প্রসব করেছেন। অনেক গর্ভবতী নারী পাহাড়ের ঢালুতে সন্তান জন্ম দিয়ে মারাও গেছেন। সুস্থ্য ভাবে সন্তান জন্ম দিতে পারায় তারা আল্লাহ’র কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মাথা গুজার স্থায়ী ঠাই না হওয়ায় জন্ম নেয়া অধিকাংশ শিশুর এখনো পর্যন্ত নাম রাখা হয়নি।
অপরদিকে এসব শিশুদের নাগরিকত্বে বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক জানান, ক্যাম্পে অনেক গর্ভবতী নারী ছিল এবং সন্তানও জন্ম দিয়েছেন। তারা চিকিৎসা সেবাও যথারীতি পাচ্ছেন। দেশের প্রচলিত নিয়ম ও আইন আছে, সে আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা রয়েছে সেটাই করা হবে।
সীমান্তের জিরো লাইনের অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সদ্য জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা কারো অপরাধের বোঝা নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে তারা নজির বিহীন শিশু। কালের স্বাক্ষী এসব শিশুরা অধিকার বঞ্চিত না হয়ে বেড়ে উঠার ঠিকানা পাবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।