২০ জুন, ২০২৬ | ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ৪ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি   ●  বিবেক’কে জাগ্রত রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে- অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের দৌঁড়ঝাপ অপরিকল্পিত : আমির খসরু

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার ‘মাথাবিহীন মুরগী’র মতো অন্ধকারে দৌঁড়ঝাঁপ করছেন। ‘মাথাবিহীন মুরগী’ যেমন এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করে তেমনি সরকারও কোন পরিকল্পনা ছাড়াই এদিক-ওদিক ছুটছে।

তাঁর মতে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সরকারের সুনির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই।

আমির খসরু বলেন, ১৯৭৮, ১৯৯২ ও ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের সফল কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হয়েছিল। শহীদ জিয়াউর রহমানের যে চুক্তির বলে এটি সম্ভব হয়েছিল তার উপর ভিত্তি করেই শক্ত কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সরকারকে এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।

সোমবার (২ অক্টোবর) কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

আমির খসরুর মতে, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দাদের এ ব্যাপারে আগাম তথ্য দেয়া দরকার ছিল।

থাইল্যান্ড কিংবা অন্য কোনো দেশে রোহিঙ্গাদের ঠেলে দিতে মিয়ানমার সাহস করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। যারা বন্ধু হিসেবে পরিচিত তারাও পাশে নেই।

তিনি আরও বলেন, শুরুতে সরকার ও সরকারি দলের কোনো তৎপরতা ছিল না। তারা বরং দ্বিধাদ্বন্ধে ছিল। এমনকি সীমান্তে যৌথ অভিযানের কথাও বলেছিল সরকার। তখন মিয়ানমার সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের সুরের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না।

তাঁর মতে, এখন সারাদেশের মানুষ যখন জেগেছে, মানবতার পক্ষে এগিয়ে এসেছে তখন সরকারও রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকার ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, সরকার এখন ব্যানার রাজনীতি করছে!

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকারি দলের অসংখ্য ব্যানার টানানো হয়েছে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ নিয়ে গেলে সরকারি দলের নেতারা তাদের ব্যানারে তা বিতরণ করেন। অন্য কোন দলের ব্যানার টানানো হলে তা নামিয়ে ফেলেন সরকারি কর্মচারী বা সরকারি দলের কর্মীরা।

বিএনপি প্রথম থেকেই রোহিঙ্গাদের পাশে ছিল। সাধ্যমতো ত্রাণ দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু এটা সমাধান নয়, বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোই একমাত্র সমাধান।

সংবাদ সম্মেলনে ওই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বকর, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শামীম আরা স্বপ্না প্রমুখ। এছাড়াও যুবদল ও ছাত্রদল নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য রোববার (পহেলা অক্টোবর) সকালে কক্সবাজার আসেন এবং পরে তিনি উখিয়া ও টেকনাফে মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্থাপিত শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।