২ মে, ২০২৬ | ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ১৪ জিলকদ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. আবদুল হাই এর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ   ●  গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জেন্ডার ও জলবায়ু বিষয়ক আলোচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত   ●  ঘুমধুমে অবৈধ পাহাড় কাটা: ডাম্প ট্রাকে মাটি যাচ্ছে বদির ক্যাশিয়ার আঃলীগ নেতা খাইরুল আলম চৌধুরী’র ইটভাটায়   ●  সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিবাদ   ●  ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার আসামি হলেন রামু থানার নবাগত ওসি আরমান   ●  ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টিমের সঙ্গে সাউথ কোরিয়া গেলেন লায়ন মো. মুজিবুর রহমান   ●  কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পেলেন উখিয়ার ডা. নুরুল আবছার শিমুল   ●  উখিয়ায় বসতভিটা দখলকে কেন্দ্র করে হামলা: নারী-পুরুষসহ আহত ৪, এলাকায় আতঙ্ক   ●  বার কাউন্সিলে উত্তীর্ণ সিবিআইইউ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা   ●  এআই বিষয়ে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার

বিপন্ন সেন্টমার্টিন: ৪ সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রুল

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া স্থাপনা তৈরি না করা এবং বিরল প্রজাতির কচ্ছপ ও শামুক রক্ষা করার আদেশ সঠিকভাবে প্রতিপালন না করায় চার সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে সেন্টমার্টিন নিয়ে সমকালে চার পর্বের সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রুল জারি করেন। বেলা আবেদনের সঙ্গে ‘দালানকোঠার ভারে বিপন্ন প্রবালদ্বীপ’ শিরোনামে সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি জমা দেয়।
যাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়েছে তারা হলেন- পরিবেশ ও বন সচিব, বিমান ও পর্যটন সচিব, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ সচিব, নৌ-পরিবহন সচিব, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদফতরের মহাব্যবস্থাপক (এমডি), কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা পরিষদ সচিব,পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক এবং সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

আইনজীবী সাইদ আহমেদ কবির সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৭ সালে কোস্টাল অ্যান্ড ওয়েটল্যান্ড বায়োডায়ভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্টের (সিডব্লিউবিএমপি) এক জরিপে দেখা যায় সেন্ট মার্টিনে ৭৪টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। সেই জরিপের প্রেক্ষিতে এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে বেলার পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। সেই রিটের শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২৪ অক্টেবার আদালত রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ছাড়পত্রবিহীন স্থাপনা অপসারণ করতে হবে। একসইঙ্গে ছাড়পত্রবিহীন নতুন কোন স্থাপনা নির্মাণ না করা, বিরল প্রজাতির কচ্ছপ ও শামুক রক্ষায় নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ারও নির্দেশ আসে হাইকোর্টের ওই রায়ে।

আইনজীবী সাইদ আহমেদ কবির আরও বলেন, আদালতের সেই নির্দেশ সত্ত্বেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি এমনকি তা ক্রমবর্ধমান রয়েছে। সর্বশেষ সেন্টমার্টিনে ১০৬টি ভবন নির্মাণের খবর দৈনিক সমকালে প্রকাশিত হয়। সে কারণেই বেলার পক্ষ থেকে দুদিন আগে আমরা হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করি। আবেদনের সঙ্গে গত ২০ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকালে ‘দালানকোঠার ভারে বিপন্ন প্রবালদ্বীপ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়। সেই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত মঙ্গলবার এই রুল জারি করেছেন।

সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেন্টমার্টিনে ১০৬টি হোটেল-মোটেলসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সেন্টমার্টিন সাগরে ১০৩টি প্রজাতির অনেকগুলোই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পর্যটকের অবাধ চলাচলের কারণে কাঁকড়ার প্রজনন কমে গেছে। অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে পানি ও মাটিদূষণের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। বর্তমানে এ দ্বীপে ১০ হাজার মানুষের বাস। তার ওপর পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাচ্ছেন। যত না মানুষ তার চেয়ে বেশি রিসোর্ট। দ্বীপের ভারসাম্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেই অপরিকল্পিতভাবে ইট-পাথরের দালান গড়ে উঠেছে। উঁচু ভবন নির্মাণের জন্য প্রবাল খুঁড়ে মাটি বের করা হচ্ছে। অবাধে আহরণ হচ্ছে শামুক-ঝিনুক-পাথর। সৈকতসংলগ্ন এলাকায় হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও দোকান নির্মাণের জন্য কেয়াবন ও ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হচ্ছে। হোটেলে চলা জেনারেটরের আওয়াজে দ্বীপে চলছে শব্দদূষণ। যে যেভাবে পারছেন, দ্বীপে ঘুরছেন। পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণহীন। মানুষের অতিরিক্ত চাপে পানি ও পরিবেশদূষণে হুমকিতে দ্বীপের প্রায় ৬৮ প্রজাতির প্রবাল।

সমকালে প্রতিবেদক প্রকাশের পর সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নেয় সরকার। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তদন্ত কমিটি গঠনসহ নানা সুপারিশ করা হয়। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথের বিষয়টি তদন্তে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কমিটি গঠন, নৌপথে অত্যাধুনিক বাতি বয়া বসানোর উদ্যোগ ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সেন্টমার্টিনে তিন বছরের জন্য সাময়িকভাবে পর্যটন বন্ধ করে দ্বীপটি পুনর্গঠনের সুপারিশ করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

আদালতের রুলে সন্তোষ প্রকাশ করে কক্সবাজারের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী এম ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, সেন্টমার্টিন নিয়ে সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। হাইকোর্টের রুলের পর আদালতের রায় বাস্তবায়ন করলে দ্বীপে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।

সুত্র: সমকাল

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।