মূল খবরে যান

শিরোনাম
● কম খরচে প্রসূতি সেবা দিয়ে প্রশংসিত ডা. রোকসানা● শ্মশানের দেয়াল ভাঙার অভিযোগে ক্ষোভ, ৮ অক্টোবরের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে উখিয়ায় দুর্গাপূজা বন্ধের সিদ্ধান্ত● কৃষকের যত চ্যালেঞ্জ● খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছেন● ফাল্গুনী মেকওভার পার্লারে নিম্নমানের সাজ, নারীদের হয়রানি-হুমকি ‘আমাদের বিরুদ্ধে রিভিউ দিলেও আমাদের কিছু যায়-আসে না’● সম্প্রতি উখিয়ায় সার ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে “গণসংযোগ” ও “উখিয়া বার্তা” নামক অনলাইন সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে● সাহসিকতা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে পিপিএম পদক পেলেন ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া● অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মাহমুদুল হক সিকদারে’র জানাযার নামাজ সম্পন্ন● ঢাবি কক্সবাজার স্টুডেন্টস ফোরামের নতুন নেতৃত্বে এমরান-তারেক-সাহিক● উখিয়া প্রেসক্লাবে নতুন নেতৃত্বের শপথ, দায়িত্ব হস্তান্তর ও নবীন সদস্য বরণ

পুলিশের পোষাকের আড়ালে তাঁর মানবিকতার বিচরণ

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক :
খোকন কান্তি রুদ্র। পেশায় পুলিশ। দায়িত্ব পালন করছেন রামু থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক হিসেবে। বার আউলিয়ার আবাস বলে খ্যাত চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বড়হাতিয়ার সন্তান খোকন। তার গায়ে দেশ সেবায় কঠোরতার পোশাক থাকলেও এর ভেতরকার রক্ত মাংসের কায়ায় রয়েছে মানবিকতার বিচরণ।
নানা অনৈতিক কর্মে সবখানে পুলিশের বিরুদ্ধে অপবাদের শেষ নেই। এতসবের মাঝে নিজের মানবিক আচরণে সেবার মহিমা ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে সবই নিরবে, সবার অগোচরে।
নিত্যদিনকার সেবা কর্মের একটি বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ কৌতুহলী এক সাধারণ মানুষের ক্যামেরা বন্দি হয়। কিছু অভুক্ত পথশিশুকে সাথে নিয়ে রাতের খাবার খাচ্ছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। ছবিটি দেখে খোঁজ নেয়া হয় ঘটনার পেছনের খবরের।
জানাযায়, বৃহস্পতিবার সারাদিনের কাজ সেরে সন্ধ্যায় আরেকটি কাজে গিয়েছিলেন কক্সবাজার শহরে। কাজ সেরে কর্ম স্টেশন ফেরার পথে খেতে যাচ্ছিলেন এক রেস্তোরায়। এমন সময় একদল পথশিশু এসে বললেন, মামা দুপুর থেকে কিছুই খাইনি। খুব ক্ষিধে পেয়েছে।
এদিকে, দুপুরে খেয়েও রাতের এসময়ে নিজেও চরম ক্ষুধার্থ হওয়ায় পথশিশুদের অভুক্ততার যন্ত্রণা অনুধাবন করছিলেন তিনি। এ কারণে-নিজের টেবিলে একসাথে বসিয়ে পছন্দসই খাবার খাইয়ে পথশিশুদের ক্ষুধা মেটালেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে আরো জানাযায়, এটি তার স্বভাবজাত। মানুষের দু:খে তার ছুটে যাওয়ার স্বভাবটা ছোট বেলারই অভ্যাস। যার ধারাবাহিকতায় মহেশখালীতে দায়িত্ব পালনকালে ঘূর্ণিঝড় মোড়ার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থদের নিজের সাধ্যমতো সহায়তা করেছিলেন তিনি। এটিও ছিল সবার অগোচরে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন কান্তি রুদ্র বলেন, এটি আর এমন কি? সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছি তাই মানবতায় তো আমাদের মূল কর্ম ও ধর্ম হওয়া বাঞ্চনীয়। তাছাড়া দেশ সেবার যে শপথে পুলিশের পোষাক গায়ে নিয়েছি তা দিয়ে চাইলে সাধারণ মানুষে অহরহ সেবা করা যায়। শুধু মানসিকতা দরকার। টাকা সব প্রাপ্তির সমান নয়। হৃদয়ের প্রশান্তি আকাশের মত বিশাল আর সমুদ্রের মতো গভীর। যারা এটির স্বাদ একবার পেয়েছেন তারা বার বার পেতে চাইবেন। তাছাড়া সরকার যে বেতন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন তাতে আমজনতার হক রয়েছে। ধর্মীয় ভাবে বলতে গেলে পাড়া-প্রতিবেশীও আমার কাছ থেকে কিছু পাওয়ার অধিকার রাখেন। সেই বোধ থেকেই চারপাশের মানুষগুলোর জন্য যথা সম্ভব কিছু করার চেষ্টা করি। এটা নিজের কাছে দায়িত্ব মনে হয় বিধায় বড় বলে মনে হয় না। আমরা অনেকে এটা এড়িয়ে চলি বলে হঠাৎ কোথাও দেখলে আশ্চর্য বলে জ্ঞান করি। আমার দৃষ্টিতে সবারই উচিত ডানে-বামে অসুবিধায় থাকা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে সাহস ও সহানুভূতি জানানো।

শেয়ার করুন