৪ জুলাই, ২০২৬ | ২০ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ১৮ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি

ধরাছোঁয়ার বাইরে মানবপাচারের দুই গডফাদার হ্নীলার জাহাঙ্গীর ও শাহিন

দেশের সীমান্ত উপকুলীয় উপজেলা টেকনাফের হ্নীলার মানবপাচারের শীর্ষ দুই গডফাদার জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ আলম শাহিন এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়ে গেছে। প্রতিদিন চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপকর্ম। চলছে বিভিন্ন মাদক ও দেশের যুবসমাজ ধব্বংসকারী ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। এই সব অপকর্ম সাধারন মানুষের কাজ থেকে আড়াল করতে নাকি ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন এই ইয়াবা সম্রাট।
স্থানীয় সুত্র বলছে, তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম এলাকার ইয়াবা ‘রাজা’ হিসেবে পরিচিত। তার বয়ে কথা বলতে চাইনা এলাকার অনেকে। হ্নীলার ইয়াবা সিন্ডিকেটের মধ্যে সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেট ইয়াবা রাজা জাহাঙ্গীর ও তার ছোট ইয়াবা সম্রাট শাহিনের। এই সিন্ডিকেট বিভিন্নভাবে এলাকার যুবকদের কাজে লাগিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা’র রমরমা ব্যবসা। দুই ভাইয়ের বড় সিন্ডিকেট বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসির।
জাতীয় দৈনিক সমকালসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানাযায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে’র দালালদের তালিকায় রয়েছে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রবিউল হোসেন প্রকাশ আনসারের পুত্র মোহাম্মদ আলম শাহিন প্রকাশ ইয়াবা স¤্রাট শাহিনের নাম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিগত ২০১৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত শীর্ষ দুই  উপকূল দিয়ে সাগরপথে অবৈধভাবে মানব পাচারে জড়িত ৭৭ জন গডফাদারের মধ্যে ২৪ নম্বরে আছে ইয়াবা স¤্রাট শাহিনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলমের নাম।
এদিকে প্রশাসনের একাধিক সুত্রে জানাযায়, ইতোমধ্যে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে তালিকাভুক্ত গডফাদারসহ ৫ জন নিহত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক তৈরি করা তালিকায় ৭৭ জনই সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের বাসিন্দা।
এ তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পর এদের মধ্যে তালিভুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশও করা হয়েছিল। মানব পাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী। বরং তারা মানব পাচারকারীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেই কাজ করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে অনেকে আত্মগোপন করেছে বলেও জানান স্থানীয়রা। এদিকে আরেকটি সুত্র বলছে, মানবপাচার ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাদের অপকর্ম আড়াল করতে নাকি যোগ দিচ্ছে হ্নীলা ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলে।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, এবিষয়টি সম্পুর্ণ রাজনৈতিকভাবে হ্ওে প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে। তারপরও অভিযোগটি ক্ষতিয়ে দেখছে উপজেলা ছাত্রদল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ জানান, তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে অনেকে আত্মগোপনে থাকায় তাদের ধরতে অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।