১২ জুলাই, ২০২৬ | ২৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ২৬ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  প্রতিক্রিয়া : ৫ না ৮—রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসলে কতজন নিহত? সংখ্যার এই বিভ্রান্তির দায় কার?   ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক

‘ঘুরে আসুন মেরিন ড্রাইভ’

টেকনাফ-ককসবাজার স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ২২ এপ্রিল শুভ উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বের একমাত্র দীর্ঘ ১শ ২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত ককসবাজার। বঙ্গোপসাগরের নীল জল রাশি আর সুউচ্চ সবুজ পাহাড়ের ছায়া ঘেরা বিশাল মেরিন ড্রাইভ সড়ক যেন প্রকৃতির রাণী। ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠোর ও নিরলস পরিশ্রমে প্রায় ৪শ ৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা মেজর নাহিদ বলেন, আগামী ২২ এপ্রিলের দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভ উদ্বোধন করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, শুভ উদ্বোধনের জন্য টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম জোন ও ইনানীতে মঞ্চ তৈরীর প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও চলছে।
এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার আহমেদ (সহকারী কমিশনার ভূমি) বলেন- আগামী ২২ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসবেন ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের শুভ উদ্বোধন হবে তা এখনো দাপ্তরিক ভাবে আমাদের জানানো হয়নি।
উখিয়া-টেকনাফের সাংসদ আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি বলেন- স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ অতি দ্রুত উদ্বাধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন বাড়বে। এছাড়া অর্ধেকেরও কম সময় নিয়ে যাত্রীরা টেকনাফ যেতে সক্ষম হবেন। মেরিন ড্রাইভ সড়কের কাজ শেষ হলে বদলে যাবে টেকনাফের সব কিছু।
কক্সবাজার- টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থবছরে ফিডার রোড টাইপ এ হিসেবে শুরু হয়। ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে কাজের সুবিধার্থে প্রকল্পটি ৩ টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। ২০০৮ সালের জুন মাসে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরের ২য় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় ২য় পর্যায়ের কাজও ধীরগতিতে হয়। বর্তমান সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর উদ্যোগে প্রকল্পের অর্থ ছাড়সহ সার্বিক সহযোগিতায় এবং ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠোর ও নিরলস পরিশ্রমে মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটির ২য় পর্যায় ইনানী থেকে শীলখালী পর্যন্ত কাজ ৬ মাসের পূর্বেই শেষ হয়। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন ইতিমধ্যেই মেরিন ড্রাইভের ৩য় পর্যায়ের শীলখালী থেকে টেকনাফ (৪০-৮০ কি.মি.) প্রায় ৩২ কি.মি. সড়কের মাটি ভরাটের কাজ ৮০ শতাংশ সম্পন্ন করেছে। ২০১৬ সালে শতভাগ মাটির কাজ ও ২০১৭ সালের এপ্রিলে শত ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়।
শুধু রাস্তা নির্মাণ নয়, মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য্য আরো নান্দনিক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন রাস্তাটির শোভাবর্ধন এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনায় রেখে মেরিন ড্রাইভের ২য় পর্যায়ে প্রায় আড়াই লক্ষ ঝাউগাছ এবং কৃষ্ণচুড়াসহ প্রায় ৫০ হাজার অন্যান্য ফুলের গাছ রোপণ করা হয়। এছাড়া ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন মেরিন ড্রাইভের ৩য় পর্যায়ের শোভাবর্ধন ও উপকূলীয় পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে আরও প্রায় ৩ লক্ষ ঝাউগাছ এবং সোনালু, ফলানু, কৃষ্ণচূড়া, মিনঝিরি, বকুলসহ ৫০ হাজার ফুলের চারা লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।