৭ জুলাই, ২০২৬ | ২৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ২১ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি

কক্সবাজারে দফায় দফায় অভিযান, ফের ১০৫ কেজি জাটকা জব্দ

 

 

জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা ইলিশ রক্ষায় দফায় দফায় অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার মৎস্য অধিদপ্তর। ৩ ও ৪ মার্চ (শুক্র-শনিবার) বিভিন্ন পয়েন্টে এসব অভিযান পরিচালনা করেন মৎস্য অধিদপ্তর ও মেরিন ফিশারীজ ডিপার্টমেন্টের যৌথ ভ্রাম্যমান টীম। এসময় ফের জব্দ করা হয়েছে ১০৫ কেজি জাটকা ইলিশ মাছ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোঃ আব্দুল আলীম জানান, শুক্রবার সকাল ৯ টায় নুনিয়াছড়াস্হ কক্সবাজার মৎস্য অবতরনকেন্দ্র (ফিশারী ঘাট) থেকে ২৫ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়। পরে স্হানীয় একটি এতিমখানায় এসব মাছ বিতরন করা হয়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (সদর) ডঃ মঈন উদ্দীন আহমদ জানান, শনিবার সকাল নয়টায় আবারো উপরোক্ত স্হানে ফিশিং বোট থেকে খালাস করার সময় দুই দফায় মোট ৬০ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়। ফিশারীঘাটে ভ্রাম্যমান টীম তৎপর থাকার খবর পেয়ে অসাধু কতিপয় জেলে একই সময়ে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতে ফিশিং বোট ভিড়িয়ে জাটকা খালাস করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল সাড়ে দশটায় সেখানে অভিযান পরিচালনা করে আরো ২৫ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত জাটকা ইলিশ পরে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পি এম ইমরুল কায়েস, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (সদর) ডঃ মঈন উদ্দীন আহমদ, কক্সবাজার মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের ব্যবস্হাপক মোঃ শরীফুল আলম, মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্য অধিদপ্তরীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীগন এসময় উপস্হিত ছিলেন। গত (২ মার্চ) বৃহস্পতিবারেও ৬০ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে ইলিশ প্রজনন মৌসূমে সরকারগৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচী কঠোরভাবে পালিত হয়েছে। এর ফলে জেলার সমুদ্র ও নদ-নদী মোহনায় অবাধে ডিম ছাড়ার সূযোগ পেয়েছে মা-ইলিশ। ডিম থেকে নিষিক্ত শত শত কোটি রেনু পোনা এখন জাটকা ইলিশে পরিনত হয়েছে। আর কয়েকমাস পরেই এসব জাটকা পূর্নাঙ্গ ইলিশ মাছে পরিনত হবে। কিন্তু উপকূলের কাছাকাছি বিচরনরত এসব জাটকা নিধন করছে কতিপয় অসাধু জেলে। জাটকা শিকার নিরোধে সম্ভাব্য বিভিন্ন পয়েন্টে তৎপর রয়েছে মৎস্য অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান টীম। কিন্ত সীমিত সংখ্যক জনবল নিয়ে জেলার হাটবাজার ও বিশাল উপকূলীয় এলাকায় নজরদারী করতে সমস্যা হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে জেলার হাটবাজার ও বিভিন্ন জনসমাগমস্হলে এ সংক্রান্ত লিফলেট বিতরন করা হচ্ছে জানিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, ২৫ সেন্টিমিটার (প্রায় ১০ ইঞ্চি) দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট ইলিশ “জাটকা” নামে পরিচিত। ০১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৮ মাসব্যাপী সারাদেশে জাটকা ধরা, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ রাখা মৎস্য সংরক্ষন অাইনে দন্ডনীয় অপরাধ। এ আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে ১ থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে জেলাব্যাপী জাটকাবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।