১৪ জুলাই, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ২৮ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  প্রতিক্রিয়া : ৫ না ৮—রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসলে কতজন নিহত? সংখ্যার এই বিভ্রান্তির দায় কার?   ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক

এনজিওকর্মী হত্যার জট খুলল হত্যাকারী আলাউদ্দিনের মূখে

উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা গোয়ালিয়া সড়কের চৌরাস্তার মাথায় নিহত এনজিওকর্মী মাজহারুল ইসলাম ব্রাকের লিগ্যাল এইড সার্ভিসে চাকরি করতেন। বিচারপ্রার্থী হিসেবে কক্সবাজারের এক নারীর তার নিকট স্বামীর বিচারের জন্য অভিযোগ করতে আসলে তার সাথে পরিচয় পরে সম্পর্ক হয় মাজহারের সাথে। সেই সুবাধে ওই নারীকে বিয়ে করে সে। কিন্তু দেশের বাড়ী দিনাজপুরের পীরগঞ্জের তার আরো একটি স্ত্রী রয়েছে। সে পীরগঞ্জ কৃষ্টনজর এলাকার আব্দু ছাত্তারের ছেলে। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ২০১৮ সালে ব্রাক থেকে চাকরি হারায় মাজহার। তবে তার চেনাজানা থাকার কারনে সে ঘুরেফিরে কক্সবাজারই বেশি সময় কাটাতেন। মাজহারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে ওই নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে আলাউদ্দিনের। গোপন সুত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সুত্র আরো বলছে, আলা উদ্দিনের সাথে মাজহারের গভীর বন্ধুত্ব থাকার কারনে টাকা পয়সা থেকে শুরু করে সব ধরনের লেনদেন ছিল। যাহা পুলিশের তদন্ত ইতিমধ্যে বেরিয়ে এসেছে।

ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই সিদ্ধার্থ সাহা বলেন, পুলিশ হেফাজতে আলা উদ্দিন জানিয়েছেন, মাজহারের নিকট থেকে ৮০হাজার টাকা পাওয়া ছিল তার। উক্ত টাকা না দেওয়ার কারনে তাকে খুন করেছে বলে জানায় ঘাতক আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, ঘাতক আলা উদ্দিন জানিয়েছে, শুক্রবার তারা ২জন কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করেছে। পরে সন্ধ্যা হলে ঘটনাস্থলের দিকে চলে আসে। মাজহার নিজে মটর সাইকেল চালাচ্ছিলেন এসময় পেছন থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে আলা উদ্দিন। পরে সে মাটিতে পড়ে গেলে মটর সাইকেলটি নিয়ে ঘাতক আলা উদ্দিন পালিয়ে যায়।

উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, টাকা পয়সা লেনদেনের পাশাপাশি ঘাতক আলাউদ্দিন ও মাজহারের মধ্যে নারী সংক্রান্ত ঘটনা থাকতে পারে। যেহেতু তারা দুইজন খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি বলেন, ব্রাকের লিগ্যাল এইড সার্ভিসে চাকরি করা কালীন কক্সবাজারের এক মহিলাকে বিয়ে করে মাজহার। ধারণা করা হচ্ছে, আলা উদ্দিনের সাথে কোন সম্পর্ক থাকতে পারে ওই নারীর। এ নিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে আসল রহস্য তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর বলেন, ঘাতক আলা উদ্দিনকে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জালিয়া পালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। সে মোঃ শফিরবিল গ্রামেরর জাফর আলমের ছেলে। এসময় তার নিকট থেকে মাজহারের ব্যবহৃত মটর সাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ময়না তদন্ত কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। ওসি আরো বলেন, মাজহারের তার কাজ থেকে এনজিও সংস্থা ব্রাকের কিছু কাগজ-পত্র পাওয়া গেছে। তবে তার পরিবার বলছে, গত ১ বছর পূর্বে সে ব্রাকের চাকরি হারিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং পালং  ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা গোয়ালিয়া সড়কের চৌরাস্তার মাথা থেকে মাজহারুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশটি থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউপি সদস্য এম মনজুর আলম জানান, খুনি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেলেও জীবিত থাকা অবস্থায় সে ইনানীর আলাউদ্দিন তাকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে জানায়

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।