২৬ মে, ২০২৬ | ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৮ জিলহজ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি   ●  বিবেক’কে জাগ্রত রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে- অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান   ●  চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন   ●  বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিএনপি’র পদযাত্রা মরণযাত্রা হয়ে উঠবে-সাবেক সাংসদ বদি

উখিয়া সহিংসতার সেই বিভীষিকাময় রাত ৩০ সেপ্টেম্বর

কনক বড়ুয়া, নিউজরুম এডিটরঃ সেদিন ছিল ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। বলছি সেই উখিয়া সহিংসতার ৩০ সেপ্টেম্বরের কথা। ২০১২ সালের এ দিনে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে এ দিনে কক্সবাজারের উখিয়া- টেকনাফের ৭টি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
অন্যদিনের চাইতে সেদিন কেটেছিল ভয়ভ্রীতির মধ্য দিয়ে। আস্তে আস্তে নামলো সন্ধ্যা। তখন বেড়ে গেল ভয়। এরই মধ্যে হঠাৎ দেখি , ইসলামিক স্লোগান নিয়ে একটি মিছিল দীপাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারের সামনের রাস্তা দিয়ে বিহারের দিকেই আসছে। তখন প্রায় রাত সাড়ে ৮টা। আসতে না আসতেই তখন শুরু করে দিল বিহারের ভেতরে পাথর, ইটপাটকেল ছুড়ে মারতে। সেই মূহুর্তে কান দিয়ে শব্দ শুনা ছাড়া আর কোন পরিস্থিতি ছিল না আমাদের। সময় যতই গড়াচ্ছে পরিস্থিতি ততই খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেকক্ষণ পর তারা চলে গেল। এরই মধ্যে পুড়ে যায় পূর্ণিমার আলোয় ঝলসানো ধর্মান্ধ মানুষের বিবেকের দহনে উখিয়ার হাজার বছরের সম্প্রীতি ও পুরাকীর্তি, বৌদ্ধ বিহার সহ শতাধিক বসত বাড়ি। সেই সাথে পুড়ে ছাই হয় উখিয়ার মানুষের হাজার বছরের সম্প্রীতির বন্ধন।
বলা যায়, হ্যা- আমরা ফিরে পেয়েছি ইট-কংক্রিট, রট আর মানসম্মত সরঞ্জমাদি দিয়ে তৈরি করা বড় বড় উচু বৌদ্ধ বিহার। যা বর্তমানে রামু-উখিয়াতে অপরুপ সৌন্দর্যে ঘেরা এক ধরনের পর্যটন নগরীতে পরিনত হয়েছে। কিন্তু তা দিয়ে কি তৃপ্তি মেটাবে আমাদের সেই সহিংসতার আগুনে পুড়ে যাওয়া ঐতিহ্যের? প্রতিনিয়ত এই প্রশ্নের উত্তর খুজে নিরবে মায়াকান্না করেই যাচ্ছে রামু-উখিয়ার বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা।
এরই ধারাবাহিকতায় বলার অাছে যে, সংখ্যালঘুরা পরাধীন বাংলাদেশে কোনো না কোনোভাবে তারা টিকে থাকলেও স্বাধীন বাংলায় পারছেন না কেন? এখনও পাকিস্তানি কায়দায় তাদের ঘরবাড়ি পোড়ে কেন? পূজার থালায় রক্তের আলপনা ঝরে, উপাসনালয় পোড়ে, কেন? তাদের ভূমি ও নারী লুটপাট হয়। এরপরও আমরা বিবেকের সঙ্গে আপোস করে বলি: ‘‘আমরা খুব ভালো আছি।’’ এমন কথা বলছি আন্তর্জাতিক সভা, সেমিনার কিংবা কোন বড় সম্মেলনেও। কারন আমরা গৌতম বুদ্ধের দেয়া শান্তির পতাকা নিয়ে বসবাস করি।
ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক অনেক মানুষের মতে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আছে বলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, সহিংসতা, লুটপাট ও ভূমিদস্যুতা তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে। এ কথা অস্বীকার করার জো নেই। তবে এই নিয়ে যুক্তি দাঁড় করিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগারও অবকাশ নেই। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা ন্যায্য অধিকার নিয়ে সবার সঙ্গে মিলেমিশে বাঁচতে চাই। সাম্প্রদায়িক শক্তি কখনও কোনো কালে কোনো জাতি বা রাষ্ট্রের ভালো করেনি। তবে অবনত মস্তকে সকৃতজ্ঞ চিত্তে এও স্বীকার করছি যে, হামলাকারীরা বাদে দেশের সর্বস্তরের মানুষ জাতি, ধর্ম, দলমতনির্বিশেষে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। শোকার্তদের শান্ত্বনা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা কি আদৌ সেই শান্ত্বনা নির্দিদায় গ্রহন তথা মেনে নিতে পেরেছি?

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।