২৬ জুলাই, ২০২৬ | ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১১ সফর, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এম মনজুর আলম মেম্বার   ●  টেকনাফে সরকারী জমি ও ভবন দখল!   ●  প্রতিক্রিয়া : ৫ না ৮—রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসলে কতজন নিহত? সংখ্যার এই বিভ্রান্তির দায় কার?   ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ

উখিয়াতে জমজমাট ক্রিকেট জুয়া


উখিয়া উপজেয়ার আনাচে-কানাচে ক্রিকেট খেলা নিয়ে চলে জমজমাট জুয়া। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেকার যুবক, ব্যবসায়ীসহ দোকানের কর্মচারীরা জড়িয়ে পড়ছে জুয়ার নেশায়। নিঃস্ব হয়ে অনেক ব্যবসায়ী এবং যুবক এখন পলাতক।
বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, টি টোয়েন্টি আসর, এমনকি ঘরোয়া লীগ ও বাদ যাচ্ছে না জুয়াড়িদের কবল থেকে। শক্তিশালী দলের পক্ষে জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি প্রতি ওভারে ওভারে ধরা হয় বাজি। এই জুয়ার শ্রুতে টাকার পাশাপাশি হারাচ্ছে নিজস্ব ব্যবহৃত জিনিসপত্রও। অনেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে ধার-দেনা করে জুয়া খেলায় মেতে উঠেছে। পরে ওই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় নানান বিশৃংখল ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে আবার ধারের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার উখিয়া সদর, কোটবাজার, মরিচ্যা, সোনারপাড়া, কুতুপালং, বালুখালী, পালংখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে চিহ্নিত কয়েকজন জুয়াড়ীর মধ্যস্থতায় লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়। কয়েকটি শক্তিশালী জুয়াড়ী সিন্ডিকেট এইসব টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উপজেলার কোটবাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকান, সেলুনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মোবাইল থেকে জুয়া নিয়ন্ত্রণে করে জুয়াড়ী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে রয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ড্রাইভার এমনকি শ্রমজীবিও। এদিকে ক্রিকেট জুয়ায় মেতে হলদিয়ার ধুরুমখালী এলাকার যুবক আজাদ সব হারানোর পরও টাকা পরিশোধ করতে না পারায় জমি বন্ধক রেখে পরিবারের সদস্যরা থাকে উদ্ধার করে বলে জানান স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোটবাজারের এন আলম শপিং কমপ্লেক্সের এক ব্যবসায়ী জানান, পার্শ্ববর্তী এক ব্যবসায়ী স্ট্যাম্প সহকারে টাকা নিয়ে ক্রিকেট জুয়ায় হারিয়ে এখন পলাতক রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উখিয়া ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্র জানায়, লোভের ফাদে পড়ে নিজের সব টাকা হারিয়েছি। এমনকি পরিবারের জিনিসপত্র চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছি জুয়ার কারণে। ক্রিকেট জুয়া এমন এক মারাতœক জিনিস টাকা হারিয়ে ফেললে পাওয়ার আশায় আবারো জড়িয়ে একেবারে সব শেষ হয়ে যায়।
স্থানীয় এনজিও হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাসেম জানান, ক্রিকেট জুয়ায় সব পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ায় বেড়ে যাচ্ছে নানান বিশৃঙ্খল ঘটনার। জুয়ার নেশায় পারিবারিক সহিংসতা, নির্যাতনও পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবিলম্বে ক্রিকেট জুয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।