মূল খবরে যান

শিরোনাম
● সাংবাদিক এ এইচ সেলিম উল্লাহর মা আর নেই● রামুতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, যৌথ অভিযানে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ জব্দ● কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ● উখিয়ায় ৯ জীবিত বকসহ শিকারি আটক● নিরাপদ সড়ক গড়তে কক্সবাজারে বিআরটিএর সচেতনতামূলক সভা● কম খরচে প্রসূতি সেবা দিয়ে প্রশংসিত ডা. রোকসানা● শ্মশানের দেয়াল ভাঙার অভিযোগে ক্ষোভ, ৮ অক্টোবরের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে উখিয়ায় দুর্গাপূজা বন্ধের সিদ্ধান্ত● কৃষকের যত চ্যালেঞ্জ● খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছেন● ফাল্গুনী মেকওভার পার্লারে নিম্নমানের সাজ, নারীদের হয়রানি-হুমকি ‘আমাদের বিরুদ্ধে রিভিউ দিলেও আমাদের কিছু যায়-আসে না’

কক্সবাজারের ৪ ভাষা সংগ্রামীকে সম্মাননা দিলেন জেলা প্রশাসন

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক:
ভাষা সংগ্রামে কক্সবাজার থেকে বিশেষ অবদানের প্রেক্ষিতে ৪ ভাষা সংগ্রামীকে সম্মাননা দিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। ভাষা সংগ্রামের ৬৬ বছরের মাথায় প্রথমবারের মতো জেলার জীবিত এ চার ভাষা সংগ্রামীকে সম্মাননা দিয়ে ইতিহাস গড়ছেন জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন। বুধবার রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দানে এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্ত ভাষা সংগ্রামীরা হলেন কক্সবাজারের বরণ্যে শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, রামু কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশতাক আহমদ (রামু), কক্সবাজারের কৃতি শিক্ষক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এম.এ.শুক্কুর (টেকনাফ), জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু অন্ত:প্রাণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের বলিষ্ঠ সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধি বাদশাহ মিয়া চৌধুরী (উখিয়া) ও এক সময়ের বিশিষ্ঠ শ্রমিক সংগঠক, প্রগতিশীল সকল আন্দোলনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক জালাল আহমদ (প্রয়াত জননেতা একেএম মোজাম্মেল হকের বড় ভাই)।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস’ গ্রন্থে তৎকালীন কক্সবাজার মহকুমায় ভাষা আন্দোলনের যে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিবৃত হয়েছে সেই ইতিহাসে এ চার ভাষা সংগ্রামীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাই ৬৬তম অমর ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে ইতিহাসের এই চার বরণ্যে সন্তানকে পদক ও উত্তরীয় দিয়ে জেলাবাসির পক্ষে সম্মানিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ভাষা সংগ্রাম থেকেই স্বাধীন সর্বভৌম বাংলাদেশের বীজ বুনন হয়েছে। তাই ভাষা সংগ্রামে যারা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তারা দেশের পূজনীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁদের সম্মাননা দেয়া যুক্তিযুক্ত মনে হওয়ায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গুণ বা ভাল কাজের স্বীকৃতি দিলে সমাজে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। প্রজন্ম ভাল কাজের জন্য উৎসাহিত হয়।

সংবর্ধনার জবাবে কৃতি শিক্ষক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এম.এ.শুক্কুর বলেন, সম্মাননা পাব বলে সেদিন ভাষা সংগ্রামে আমরা যুক্ত হয়নি। দায়বোধ থেকেই মায়ের ভাষার জন্য আন্দোলনে নেমেছিলাম। আমাদের আন্দোলনের সোনালী ফসল ঘরে এসেছে। আমরা মায়ের ভাষা বাংলায় কথা বলছি, লিখছি মনের ভাব প্রকাশ করছি। তবে, যেকোন ভাল কাজের স্বীকৃতি দিলে ভালই লাগে। কখনো ভাবিনি ভাষা সংগ্রামের ৬৬ বছর পরে এসে সেসময়কার আন্দোলনের স্বীকৃতি পাব। জীবনসায়ান্মে চলে আসা মানুষগুলোর ভাল কাজের স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানিত করায় জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ একেএম ফজলুল হক চৌধুরী, জেলা জাসদ সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রæয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় কক্সবাজারের ভাষা সংগ্রামীদের সম্মাননা প্রদানের সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ভাষা সংগ্রামীদের সম্মাননা প্রদানের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী জিন্নাত। সবাই তার প্রস্তাবনায় সম্মতি দেয়ায় ভাষা আন্দোলনের ৬৬ বছরের মাথায় জেলা প্রশাসন এ মহতি উদ্যোগ নিয়ে আরেক ইতিহাস গড়ছেন।

শেয়ার করুন