২১ মার্চ, ২০২৬ | ৭ চৈত্র, ১৪৩২ | ১ শাওয়াল, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  উখিয়ায় মাত্তুল শফিকের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা   ●  উখিয়ায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ   ●  জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী নুসাইবা ইরতিফা নুযহা   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির আর্তনাদ   ●  কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বসন্ত উৎসব সম্পন্ন ও ভর্তি মেলা উদ্বোধন   ●  নারী ভোট ও আওয়ামী সমীকরণে জমে উঠেছে উখিয়া–টেকনাফের নির্বাচনী মাঠ   ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার

রহমতের বরিষায় সিক্ত হওয়ার মাস রমজান

Ramadan_thereport24

 ২ রমজান শনিবার। মুমিনের সামনে এক অনাবিল সুযোগ নিয়ে বছর বছর ফিরে আসে এই মাস। মুসলিম উম্মাহ্‌র ভেতরে অভূতপূর্ব সাড়া পড়ে যায় এ মাসের আগমনে। তার আগমনী গানে সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি গ্রহণ করে সকলে। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু অফুরন্ত সুযোগের দরজা উন্মুক্ত করে দেন মুমিনের সামনে। প্রকৃত রোজা পালন করে মানুষের মতো মানুষ হওয়া জরুরী। সেটিই স্পষ্ট হয় পবিত্র রমজানে। মাওলানা আলাউদ্দীন ইমাম রোজার তৎপর্য সম্পর্কে বয়ান দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘আল্লাহ মুসলমানদের আল্লাহর বাহিনী তথা হিজবুল্লাহ ঘোষণা করে বলেন, উলায়িকা হিজবুল্লাহ। মানে মুসলমানগণ আল্লাহর বাহিনী। দুনিয়ার শাসকগণ যেমন তাদের বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয় আল্লাহ্ও মুসলমান নামক তাঁর বাহিনীর চারিত্রিক, নৈতিক ও মানবিক গুণের বিকাশের জন্য মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মতো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। যেন তারা লোভ, মোহের অনুরাগ বিরাগের ঊর্ধ্বে থেকে তাদের সব রকমের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করতে পারে। তাদের দ্বারা যেন কোনো ধর্ম-বর্ণের মানুষ নিগৃহীত ও নির্যাতিত না হয়। সব অঞ্চলের সকল রকমের সব ধর্মের মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়।’ আল্লাহ্ বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, মানবতার উপকারের জন্যই তোমাদের বাছাই করা হয়েছে’ (আল-কুরআন)। মুসলমানগণ আন্তর্জাতিক খোদায়ী সৈনিক। এদের কাজ হচ্ছে মানব জাতিকে সকল অন্যায়, পাপ ও মানবতাবিরোধী কাজ থেকে মুক্ত করা। মানুষকে মানুষের গোলামী, প্রভুত্ব ও জুলুম, অত্যাচার থেকে মুক্ত করে দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। এর জন্য চাই লোভ, মোহমুক্ত মানবপ্রেমী একদল খোদাভীরু নিরপেক্ষ বাহিনী। তাই তাদের জন্য এই সিয়াম সাধনার প্রশিক্ষণ।’

রোজা আল্লাহ্‌র দেয়া একটি মৌলিক ইবাদত ও প্রশিক্ষণ। প্রতিটি মুসলিম নর-নারীকে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে। সুবহে সাদেক থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত খানা, পানীয় ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম সাওম বা রোজা। সাওম শব্দের অর্থ হল বিরত থাকা। সকল ধরনের অন্যায়, পাপাচার ও অপকর্ম থেকে বিরত থাকতে হয় বলেই রোজা সাওম অভিধায় আখ্যায়িত। সাওম মুসলমানদের আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় শুধু নাজায়েজ কাজ নয়, প্রয়োজনে কিছু কিছু জায়েজ কাজও বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করে। এটাই সাওমের মূল কথা। আল্লাহ্ বলেন, ‘হে ঈমানদারেরা তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা তাকওয়া তথা খোদাভীতিপূর্ণ সংযমী জীবনে অভ্যস্ত হতে পার।’ [আল-কুরআন]। আল্লাহ্‌র নবী (সা.) বলেন, ‘যে মিথ্যা ও পাপাচার ত্যাগ করতে পারল না সে খানা, পানীয় ত্যাগ করায় আল্লাহ্‌র কোনো প্রয়োজন নেই।’ [আল হাদীস]। আল্লাহ্‌র নবী (সা.) আরও বলেন, ‘যে ঈমানদারী ও আত্মসমালোচনার সাথে রোজা রাখবে আল্লাহ্ তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দিবেন।’ [আল হাদীস]।

 

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।