৫ মার্চ, ২০২৬ | ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ১৫ রমজান, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  উখিয়ায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ   ●  জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী নুসাইবা ইরতিফা নুযহা   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির আর্তনাদ   ●  কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বসন্ত উৎসব সম্পন্ন ও ভর্তি মেলা উদ্বোধন   ●  নারী ভোট ও আওয়ামী সমীকরণে জমে উঠেছে উখিয়া–টেকনাফের নির্বাচনী মাঠ   ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার   ●  অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিনের বিবৃতি

বড় জয়ে শুরু টাইগারদের এশিয়া কাপ

এশিয়া কাপ খেলতে দুবাই যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বারবার বলেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের গুরুত্বের কথা। প্রথম ম্যাচের উপরই নির্ভর করছে এশিয়া কাপের সম্ভাবনা বলেও মন্তব্য করেছিলনে মাশরাফি। সেই ম্যাচেই বাংলাদেশ উতরে গেছে লেটার মার্কস পেয়ে।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে মুশফিকের অনবদ্য শতক (১৪৪), মিথুনের (৬৩) নায়োকচিত ব্যাটিং আর বোলারদের নিখুঁত বোলিংয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় লাল সবুজের সৈনিকরা।

২৬২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কা ইনিংস শুরু করে ছয়ের মার দিয়ে। পরের বলেই আবার চারের মার দিয়ে লঙ্কান ওপেনার থারাঙ্গা দেন ঝড়ো সূচনার আভাস। তবে না, এখানেই শেষ। দ্বিতীয় ওভার থেকেই আক্রমণ শুরু টাইগার বোলারদের।

মোস্তাফিজের কাটার, মাশরাফির লাইন-লেংথে নিখুঁত বল, রুবেলের গতি আর মিরাজের মায়াবী ঘুর্ণিতে একেক পর এক লঙ্কান ব্যাটসম্যান পরাস্ত হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে ওঠেন বাংলাদেশি বোলাররা। টাইগারদের বোলিং তোপে ১২৪ রানেই অল আউট হয়ে যান হাথুরুসিংহের শিষ্যরা

শেষ দিকে দিলরুয়ান পেরেরা হারের ব্যবধান কম করার চেষ্টা করেও বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। লঙ্কানদের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন পেরেরা (২৯)। এ ছাড়া থারাঙ্গা ২৭, কুশল পেরেরা ১১, মেথুস ১৬ ও লাকমাল ২০ রান করেন। মাশরাফি-মোস্তাফিজ-রুবেল এ ত্রয়ী নেন দুই উইকেট করে। মেহেদি-মোসাদ্দেক-সাকিব নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মাশরাফি। ব্যাটিংয়ের শুরুটা হয়েছিল নড়বড়ে। প্রথম ওভারেই মালিঙ্গার জোড়া আঘাতে লিটন-সাকিব রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান সাজঘরে। এ দুজনের উইকেট হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই তামিম আঙুলে চোট পেয়ে চলে যান মাঠের বাহিরে।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দেখাচ্ছিল পথ হারা পথিকের মতো। তখনই ব্যাট হাতে ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়ে যান মুশফিক-মিথুন। ধীরে ধীরে থিতু হতে থাকেন ক্রিজে। ওভার গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাচ্ছিল দুজনের ব্যাটে স্ট্রোকের ফুলঝুরি। বাড়ছিল রানের চাকা। শেষ পর্যন্ত দুজনের ব্যাটে বাংলদেশ ফিরে সঠিক কক্ষপথে। ৬৮ বলে ৬৩ রান করে মিথুন আউট হয়ে গেলে ভাঙে ১৩১ রানের জুটি।

তখনো ব্যাট হাতে কঠিন স্তম্ভের মত একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিক। অন্যপ্রান্ত থেকে দেখেছিলেন সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিল। ব্যাটিংয়ে ভরসার প্রতীক মাহমুদুল্লাহ ফিরে যাওয়ার পরপরই মোসাদ্দেক আউট হয়ে গেলে আবার বাংলাদেশ শিবিরে দেখা দেয় শংকা। মাঝে মেহেদি মিরাজ (১৫), মাশরাফি (১১) ও মুস্তাফিজ (১০) সঙ্গ দেন মুশফিককে।

কিন্তু ২২৯ রানে নবম উইকেটের (মুস্তাফিজ) পতন হলেই মনে হচ্ছিল শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। তখনই ক্রিকেট বিশ্ব দেখে এক অবাক কাণ্ড। সদ্য হাসপাতাল থেকে ফেরা হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে তামিম মাঠে নেমে যান ব্যাট হাতে। এক হাতে ব্যাট নিয়ে একটি বাউন্সও প্রতিরোধ করেছিলেন আহত যোদ্ধা তামিম।

তামিমের সঙ্গ পেয়ে মুশফিকের ব্যাটের ধার যেনো বেড়ে যায় কয়েকগুণ। চার-ছয়ের ফুলঝুরি ফোটান মরুর বুকে। তামিমকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৩২ রান যোগ করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মুশফিক। ১৫০ বলে ১৪৪ রানে পেয়ে যান ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস।

লঙ্কানদের হয়ে ফাস্ট বোলার মালিঙ্গা একাই নেন চার উইকেট। ধনাঞ্জয়া সিলভার দুই উইকেট ছাড়াও লাকমাল-আপোন্সো-থিসারা পেরেরা নেন একটি করে উইকেট।

ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রান করে মুশফিক ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে পান।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।