৫ জুলাই, ২০২৬ | ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ১৯ মহর্‌রম, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রমজান আলী   ●  পাতেলী খালের তীরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ৪৭ বছর পর আবারও আলোচনায় শাহজাহান চৌধুরী   ●  মরিচ্যা বাজারের মডেল মসজিদ ও মার্কেট পরিদর্শনে ইউএনও রিফাত আসমা   ●  দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোল রক্ষক জিকুকে সংবর্ধিত করলো ক্রীড়া সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএসপিএ   ●  কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার   ●  বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এমপি জাফর আলম   ●  টেকনাফে প্যারাবনে আটটি বস্তায় মিলল বিদেশি৩৮৮ক্যান বিয়ার ও৭৬ বোতল মদ   ●  মানুষের কথা বলেই যাবে কক্সবাজার বার্তা   ●  টেকনাফে বিদেশী হুইস্কিসহ মাদক কারবারী আটক   ●  নজিবুল ইসলামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি : গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি

বৃষ্টিতে কক্সবাজারে লবণ ও শুঁটকিতে কোটি টাকার ক্ষতি

 Untitled-1.psd

শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কক্সবাজারের লবণ ও শুঁটকি ব্যবসায়ীরা।

যদিও মাঠ থেকে লবণ ও অধিকাংশ শুঁটকি বৃষ্টির আগেই তুলে ফেলা হয়েছিল।

লবণ ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির কারণে আরও সপ্তাহ দুয়েক মাঠে নামতে পারবেন না তারা।

কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও লবণ চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার একর জমিতে প্রায় ৩০ হাজার চাষী মাঠে লবণ চাষ করছেন। বৃষ্টির কারণে এ সব জমিতে থাকা লবণের অধিকাংশই পানির সাথে মিশে গেছে।

পেকুয়ার মগনামার লবণ চাষী ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আনাচ জানান, তার ১০-১২ কানি জমিতে লবণ চাষ ছিল। বৃষ্টির কারণে মাঠের অধিকাংশ লবণই পানির সাথে মিশে গেছে। এতে তার প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে আরও ১০-১৫ দিন পর্যন্ত মাঠ থেকে লবণ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে বলে জানান তিনি।

অবশ্য কম ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন পেকুয়ার মগনামা কাজীবাড়ি এলাকার লবণ চাষী মো. ফয়সাল। ৮-৯ কানি জমিতে লবণের চাষ করেছিলেন এই চাষী। বৃষ্টির আগেই বেশিরভাগ লবণ মাঠ থেকে তুলে ফেলায় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

কুতুবদিয়ার লেমশাখালীর লবণ চাষী নুরুল ইসলাম জানান, অনেক চাষী লবণ তুলতে না পারায় তা পানির সাথে মিশে গেছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ উপজেলার উপকূলে থাকা ছোট-বড় শুঁটকি মহালগুলোতেও বৃষ্টির কারণে শুঁটকি নষ্ট হয়ে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এসব এলাকার শুঁটকি উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে শুঁটকি মহালে থাকা ২-৩ দিনের মাছই সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়েছে। এসব মাছ ২/৩ দিনে অনেকটা কাঁচা থেকে গেছে। না শুকানোর আগেই গুদামে রাখতে হয়েছে এসব মাছ। তাছাড়া বৃষ্টিতে ভিজেও গেছে। ফলে এসব শুঁটকির মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নাজিরারটেক, মহেশখালীর সোনাদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ও কুতুবদিয়া এলাকার শুঁটকি মহালগুলো। দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি মহালগুলো গড়ে উঠেছে এসব এলাকায়।

দেশের বৃহৎ শুঁটকি মহাল নাজিরার টেকের শুঁটকি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহাদাত উল্লাহ জানান, নাজিরারটেক মহালে দুই হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী শুঁটকি উৎপাদন করেন। এর মধ্যে অধিকাংশ ব্যবসায়ীর শুঁটকি মহাল থেকে গুদামজাত হয়ে গেছে। তবে ৫০-৬০ জন ব্যবসায়ীর মাছ মহালে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ছিল। এসব মাছ অনেকের পুরো আবার কারো আংশিক নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে নাজিরারটেক শুঁটকি মহালে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সোনাদিয়া শুঁটকি মহালের ব্যবসায়ী আবদুল করিম জানান, বৃষ্টি হওয়ায় তার ৭০ হাজার টাকার মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রায় ব্যবসায়ীর মাছই নষ্ট হয়ে গেছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।