মূল খবরে যান

শিরোনাম
● শ্মশানের দেয়াল ভাঙার অভিযোগে ক্ষোভ, ৮ অক্টোবরের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে উখিয়ায় দুর্গাপূজা বন্ধের সিদ্ধান্ত● কৃষকের যত চ্যালেঞ্জ● খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছেন● ফাল্গুনী মেকওভার পার্লারে নিম্নমানের সাজ, নারীদের হয়রানি-হুমকি ‘আমাদের বিরুদ্ধে রিভিউ দিলেও আমাদের কিছু যায়-আসে না’● সম্প্রতি উখিয়ায় সার ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে “গণসংযোগ” ও “উখিয়া বার্তা” নামক অনলাইন সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে● সাহসিকতা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে পিপিএম পদক পেলেন ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া● অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মাহমুদুল হক সিকদারে’র জানাযার নামাজ সম্পন্ন● ঢাবি কক্সবাজার স্টুডেন্টস ফোরামের নতুন নেতৃত্বে এমরান-তারেক-সাহিক● উখিয়া প্রেসক্লাবে নতুন নেতৃত্বের শপথ, দায়িত্ব হস্তান্তর ও নবীন সদস্য বরণ● বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক হলেন সোহেল

বাইশারীর মিরঝিরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় একজন মাত্র শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান

শেয়ার করুন

At- 07.03.2015
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের চারিদিকে পাহাড় বেষ্টিত জায়গায় অবস্থিত আলীক্ষ্যং মিরঝিরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে একশতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র একজন শিক্ষক। ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এছাড়া প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকরা আছেন মহা-চিন্তায়।
এ বিদ্যালয়ে চার পদে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। এই একজন শিক্ষককেই পাঠদানের পাশাপাশি ব্যবস্থ থাকতে হয় প্রশাসনিক কাজে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদেরও স্কুলের প্রতি আগ্রহ নেই বললে চলে।
সরজমিনে দেখা যায়, চারিদিকে পাহাড় মাঝে মিরঝিরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। তখন বাজে মাত্র এগারটা। শিক্ষার্থীরা স্কুল মাঠে খেলাধুলায় মত্ত। স্কুলে কোন শিক্ষক নেই। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমা আক্তার ও মোর্শেদা আক্তার জানান, নতুন বছরে একজন মাত্র শিক্ষক দিয়ে আমাদের ক্লাস চলছে। তাও মাঝে মধ্যে বন্ধ থাকে। এভাবে লেখাপড়া করে কিভাবে পিএসসি পরীক্ষা দেব? আমরা পিএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে চাই।
গনমাধ্যমকর্মীরা স্কুলে এসেছে শুনে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক থেকে শুরু করে মৌজা হেডম্যান, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা ছুটে এসে মনের ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
অভিভাবক মোঃ ইউনুছ, আনোয়ার হোসেন, ক্যজ মার্মা সহ অন্যান্যরা বলেন, স্কুলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা আমাদের ছেলেমেয়েদের গলাটিপে হত্যা করছেন। আমাদের ছেলেমেয়েরা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে ঠিকমতো পড়ালেখা হচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পিএসসি পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করবে। তারা পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবী জানান।
মৌজা হেডম্যান মংথোয়াইহ্লা মার্মা জানান, শিক্ষক না থাকায় এই দূর্গম অঞ্চলের পাহাড়ী বাঙ্গালী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষক নিয়োগ জরুরী। এ জন্য তিনি জেলা পরিষদের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোবাশ্বের হোসেনের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে জানান, বিদ্যালয়টি ভৌগোলিকভাবে গহীন অরণ্যে অবস্থিত। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না। শিক্ষকের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে এবং আগামী দুই মাসের ভিতরে শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্থ করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৫ সালে জাতীয়রকরণ করা হয়। বিগত দিনে তিন জন শিক্ষক দিয়ে স্কুলে পাঠদান দিয়ে আসলেও নতুন বছরে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান। শিক্ষক সংকটের কারণে এলাকার মানুষ ছেলেমেয়ের পড়ালেখার জন্য চিন্তায় আছেন। এহেন পরিস্থিতির কথা আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যা জানিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।

শেয়ার করুন