১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২৭ শাবান, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  নারী ভোট ও আওয়ামী সমীকরণে জমে উঠেছে উখিয়া–টেকনাফের নির্বাচনী মাঠ   ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার   ●  অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিনের বিবৃতি   ●  দৈনিক নিরপেক্ষের স্টাফ রিপোর্টার হলেন তারেক আজিজ   ●  রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় অ্যাডভোকেসি সেশন অনুষ্ঠিত    ●  উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবে ৮ নতুন সদস্য   ●  প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে আসিফ ইমরানের অনুপ্রেরণার গল্প

নো-ম্যানস ল্যান্ডের রোহিঙ্গারা স্থানান্তর হচ্ছে বালুখালিতে

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার রোহিঙ্গা উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে গত ৪ দিন ধরে অবস্থান নিলেও ঢুকতে দেয়নি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। ধানক্ষেত ও বেঁড়ি বাধের উপর রাত-দিন কাটানো নো-মেনস ল্যান্ডে অবস্থান নেওয়া ৩০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাদের মানবিক দিক বিবেচনায় খাদ্য সরবরাহ করে আসে বিভিন্ন সংস্থা।
এদিকে সীমান্তে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে। এই উদ্যোগ দেরিতে নেওয়া হলো কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তর মেলেনি। একইভাবে প্রশাসনের কেউ বলতে পারছেন না নো-ম্যানস ল্যান্ডে সদ্য অনুপ্রবেশকারি রোহিঙ্গাদের গন্তব্য কোথায়।
রোহিঙ্গাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বরত বিজিবি’র সদস্যরা বলছেন, ‘ওপরের নির্দেশ রয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের তল্লাশি করে ও কলেরা টিকা খাওয়ানোর পর ক্যাম্পে পাঠানো হবে।
গত রোববার থেকে নতুন করে উপজেলার পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নতুন করে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। বিজিবি তাদের আটকে দিলেও অনেক রোহিঙ্গা রাতের আধারে কুতুপালং, বালুখালি ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গত দুই দিনে বৃষ্টিতে ভিজে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করে নানা সমস্যা রোগে ভুগছে নারী-শিশু সহ হাজারো রোহিঙ্গারা।
কথা হয় আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নতুন আসা গর্ভবতী নারী সুফিয়া বিবির সাথে। তিনি বলেন, দীর্ঘ পথ হেঁটে আসায় পা ফুলে গেছে। নড়াচড়াও করতে পারছে না। একই অবস্থা সাত মাসের অন্তসত্ত্বা ইশরাত বিবির। তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে তিনি দুদিন ধরে পানিতে বসে আছে। এখানে মরে যাব, তারপরও মিয়ানমারে যাব না। সেখানে গেলে মগের হাতে মরতে হবে। সে মৃত্যু আমি চাই না। সবার একই কথা মগদের মার-কাট ও নির্যাতনের বর্ণনা।
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও রোগ প্রতিষেধক টিকা কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ডা. মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন করে আসা সাড়ে ৭ হাজার রোহিঙ্গাদের টিকা খাওয়ানো হয়েছে। শারীরিক অবস্থা ভালো ছিলোনা বলে এমআর এবং ওভিবা নামে ২টি টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান। প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের রাবার বাগান ও রেজিষ্টার্ড ক্যাম্পে রাখা হচ্ছে। নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১৫ হাজারের মতো বলেও ধারণা করেন তিনি।


সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল সুত্রে জানা যায়, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের কুতুপালং ও ঘুমধুম এলাকায় রাখা হচ্ছে। নতুন করে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বলেও জানিয়েছে সুত্র।
নুতন করে আসা রোহিঙ্গাদের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ৪দিন ধরে আটকে রাখা এবং আজ সকাল থেকে ঢুকতে দেওয়ার বিষয়ে জানতে বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়ন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর: ইকবাল আহমেদের সাথে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সংযোগ না পাওয়া তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।