১৪ মার্চ, ২০২৬ | ১ চৈত্র, ১৪৩২ | ২৪ রমজান, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  উখিয়ায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ   ●  জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী নুসাইবা ইরতিফা নুযহা   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির আর্তনাদ   ●  কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বসন্ত উৎসব সম্পন্ন ও ভর্তি মেলা উদ্বোধন   ●  নারী ভোট ও আওয়ামী সমীকরণে জমে উঠেছে উখিয়া–টেকনাফের নির্বাচনী মাঠ   ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার   ●  অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিনের বিবৃতি

গরু বেচার টাকা আনতে গিয়ে ৪দিনধরে নিখোঁজ দুই রোহিঙ্গা হিন্দু : আহত হয়ে ফিরল ৮জন

বিশেষ প্রতিবেকঃ মিয়ানমারের রাখাইনে পাশবিকতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা দুই হিন্দু ৪দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত রোববার থেকে ১০জন আশ্রিত রোহিঙ্গা হিন্দু নিখোঁজ হন। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত চার দফায় ৮জন ফিরে আসলেও বৃহস্পতিবারেও অপর দুজন ফিরে আসেনি। উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রিত হিন্দুদের সেবক সুজন শর্মা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর দুই হিন্দু আশ্রিত নিখোঁজ উল্লেখ করে উখিয়া থানায় লিখিত জানানো হয়েছে। মিয়ানমারে ফেলে আসা গরু এনে বিক্রির টাকা আনতে গিয়ে তারা নিখোঁজ হন বলে দাবি করা হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদ্বয় হলেন, মিয়ানমারের ছিকনছড়ি এলাকার নিরঞ্জন শীল (৬০), রবীন্দ্র শীল (৫৫)।
ফিরে আসা আহত হিন্দুরা হলেন, ছিকনছড়ির সুরধনের ছেলে মধু রাম পাল (৩৫), সুরধন পাল, তেজন্দ্র পাল (২৮), অনিল রুন্দ্র, কাজল শীল। বাকীদের নাম পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যে আহত অনিল রুন্দ্র, কাজল শীলের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত অবস্থায় ফিরে আসাদের বরাত দিয়ে তাদের দেখভালের দায়িত্বরত বাবুল শর্মা বলেন, মিয়ানমার থেকে নির্যাতনে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া হিন্দুরা রাখাইনে প্রায় ৩৫টি গরু-ছাগল ফেলে আসে। সেসব নিয়ে এসে বিক্রি করে রাখাইনে তাদের প্রতিবেশী অলি উল্লাহ, ইমাম হোছন, নুরুল হক। তারা গরু-ছাগল বিক্রির সাড়ে ৫ লাখ টাকা নেয়ার কথা বলে সীমান্তের ওপারে তাদেরকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তারা আরো জানায়, একটি নদী পার হওয়ার পর তাদের চোখ বেধে নির্যাতন চালানো হয়।
হিন্দু আশ্রিতদের মুখপাত্র ও উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালংয়ের ইউপি সদস্য স্বপন শর্মা রনি বলেন, আশ্রিত ১০ হিন্দু আমাদের অগোচরে যায়। এর মধ্যে ফিরে আসা ৮জন তাকে বলেন মিয়ানমারের বাসিন্দা এবং পরিচিত হওয়ার সুবাদে তাদের খোঁজ নিয়ে আসে সেখানকার মুসলিম প্রতিবেশী। পরে ফোন করে গরু বিক্রির টাকা নেয়ার কথা বলে তাদেরকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করেছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
এ ঘটনায় এখনো দু’জন নিখোঁজ এবং এ বিষয়ে উখিয়া থানায় লিখিত জানানো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবী করেন তিনি।
তবে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পায়নি। তবে সম্ভাব্য স্থানে পুলিশী অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।
এদিকে আহতদের কয়েকজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানতে পেরে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এদের ব্যাপারে জানতে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পুঁ চ নু এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহীন আবদুর রহমানের মুঠোফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।