২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৯ রমজান, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী নুসাইবা ইরতিফা নুযহা   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির আর্তনাদ   ●  কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বসন্ত উৎসব সম্পন্ন ও ভর্তি মেলা উদ্বোধন   ●  নারী ভোট ও আওয়ামী সমীকরণে জমে উঠেছে উখিয়া–টেকনাফের নির্বাচনী মাঠ   ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার   ●  অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিনের বিবৃতি   ●  দৈনিক নিরপেক্ষের স্টাফ রিপোর্টার হলেন তারেক আজিজ

করোনা যুদ্ধ : এক ত্যাগী বীরের বীরগাঁথা স্মৃতিচারণ

সাম্প্রতিক করোনা যুদ্ধের সর্বোচ্চ ত্যাগী এক বীর সৈনিক হল সুজন বড়ুয়া, জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক, চট্টগ্রাম। যার কথা উল্লেখ না করলে নয়। এই মহামারী যুদ্ধে উনার থেকে বেশি কেউ ত্যাগ স্বীকার করেছেন এমন ব্যক্তি আছে বলে আমার মনে হয় না। ভোর থেকে শুরু করে রাত ১২টা ১টা পর্যন্ত বিরামহীন লড়ে যাচ্ছেন এই বীর। নাওয়া খাওয়া তো মাঝেমধ্যে ভুলেই বসেন। উনার যে একটা সংসার আছে, একটা ফুটফুটে মেয়ে আছে, পরিবার পরিজন ও মা-বাবা আছে এবং মমতার টান আছে তা এই যুদ্ধের যাঁতাকলে ভুলেই গেছেন সব যেন বিসর্জন হয়ে গেছে।

সেই করোনার সূচনালগ্ন ফেব্রুয়ারী শেষ থেকে অদ্যবধি প্রায় চার মাস ঘরে যাওয়া হয়নি। একপলক দেখার সুযোগ হয়নি একমাত্র আদো বাবা ডাকা মেয়েটির, দেখার সুযোগ হয়নি স্ত্রী ও পিতা-মাতা এবং নবজাত একমাত্র ভাতিজির। মেয়ে যখন ফোনে আদোকন্ঠে বাপ্পি আস বলে তখন জবাবটা দিতে উনার বুকে কি যে অনুভব হয় তা বুঝাবার ভাষা আমার নেই। শুরু থেকে অদ্যবধি করোনা বিষয়ক স্বাস্থ্য বলেন প্রশাসন বলেন এমন কোন মিটিং, সভা, ট্রেনিং, কনফারেন্স, আলোচনা নেই যেখানে উনার সংশ্লিষ্টতা ছিলনা। তিনি বিচক্ষণতার সহিত সকলের সাথে সমন্বয় রক্ষা করে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উনার এই নিঃস্বার্থ শ্রম, মেধা, চৌকস দক্ষতা, বিচক্ষণতা আর সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে সহকর্মী হয়েও আজ তিনি একজন জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক। সহকর্মী হিসেবে উনার এই পদোন্নতিতে আমি গর্ববোধ করি। উনার এই অগ্রগতি অপ্রতিরোধ্য হোক।
তার এই ত্যাগের বিনিময়ে পদোন্নতিতে কতিপয় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার আরএস বিএস ঘাটাঘাটি করতে থাকে। কিভাবে তাকে বেকায়দায় ফেলবে ফন্দি ফিকিরে ব্যস্থ থাকে। তারা ভাবে আমরা অধম তাই তাকে উত্তম হতে দেবনা। আরে অধম ওনাকে দেখে শিখেন কাজ কিভাবে করতে হয়। কাজের মাধ্যমে দেশের সেবা কিভাবে করতে হয়। পদোন্নতি কিভাবে পেতে হয়। ঈর্ষা নয় উনাকে অনুকরণ করুন।
একদিন করোনা হয়তো চলে যাবে, পরিস্থিতি হয়তো স্বাভাবিক হবে। কিন্তু উনার এই ত্যাগ, পরিশ্রম, নির্ঘুম সেবা, জাতি স্মরণ রাখবেন। দেবেন এর যোগ্য পুরষ্কার।
পরম করুনাময় সৃষ্টিকর্তা যেন উনাকে সুস্থ সুন্দর ও নিরাপদ রাখেন এই কামনা করছি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।