১২ মার্চ, ২০২৬ | ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২২ রমজান, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  উখিয়ায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ   ●  জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী নুসাইবা ইরতিফা নুযহা   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির আর্তনাদ   ●  কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বসন্ত উৎসব সম্পন্ন ও ভর্তি মেলা উদ্বোধন   ●  নারী ভোট ও আওয়ামী সমীকরণে জমে উঠেছে উখিয়া–টেকনাফের নির্বাচনী মাঠ   ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার   ●  অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিনের বিবৃতি

কক্সবাজারে রেল : শুরুতেই ইজিবাইক চালকদের দৌরাত্ম্য ২০ টাকা ভাড়া রাতা-রাতি ৫০ টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ লিংক রোড় থেকে প্রধান সড়ক হয়ে শহরের লালদিঘীর পাড়া অথবা বাইপাস হয়ে কলাতলীর মোড় পর্যন্ত ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক (টমটম) ভাড়া ছিল ২০ টাকা। আর রেল আসাকে কেন্দ্র করে ট্রাফিক পুলিশের চালু করা ‘কক্স-ক্যাব’ নামের অ্যাপ নিয়ে যেভাড়া এখন জনপ্রতি অতিরিক্ত ৩০ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। যা নিয়ে জেলাব্যাপী তীব্র সমালোচনা চলছে।
কক্সবাজারের ঝিলংজায় অবস্থিত আইকনিক রেল স্টেশনটি লিংক রোড় থেকে অনুমানিক ২০০ মিটার আগেই অবস্থিত। আর ট্রাফিক পুলিশের অ্যাপের কারণে তা ৩০ টাকা অতিরিক্ত করে জনপ্রতি নেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। একই সঙ্গে ইজিবাইক দীর্ঘদিন ধরে রিজার্ভ ১৫০ টাকা হলেও তা করা হয়েছে ২০০ টাকা।
শুক্রবার থেকে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাত্রীবাহি রেল চলাচল শুরু হয়। এরপর শুক্রবার রাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ট্রেনে কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের রেল স্টেশন থেকে কক্সবাজার শহরে আসাকে নির্বিঘœ ও হয়রানি মুক্ত করতে কক্স-ক্যাব (টমটম) এর ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ। কক্সবাজার শহরে কলাতলী পর্যন্ত কক্স-ক্যাব (টমটম) এর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং রিজার্ভ ২০০ টাকা।
নিরাপদ ও পর্যটন বান্ধব ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ার লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ এবং নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দময় ভ্রমণের জন্য কক্স-ক্যাব নিবন্ধিত চালকদের গাড়ি (টমটম) ব্যবহার করার আহ্বান জানান মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী।
কিন্তু এটা জানাজানি হওয়ার পর থেকে জেলাব্যাপী শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ প্রসঙ্গে খোরশেদ আলম নামের এক যুবক লেখেছেন, কলাতলীর মোড় হয়ে রেল স্টেশনে শুক্রবার সকালেও ১০ টাকা জনপ্রতি ভাড়া নিয়ে অনেকে গেছেন। এটা ৫০ টাকা করার কারণ কি?
আবাসিক হোটেল কর্মকর্তা করিম উল্লাহ লেখেছেন, লিংক রোড পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ২০ টাকা। এটা ৫০ টাকা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। অথচ ভাড়া তো পৌরসভা পূর্ব থেকে নির্ধারণ করা ছিল।
এটাকে অযৌক্তিক এবং হাস্যকর সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছে সংবাদকর্মী তারিকুল ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তাপস রক্ষিত জানান, ২০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা নির্ধারণের কোন কারণ থাকতে পারে না। এটা দ্রæত বাতিল করে পূর্বের ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, ইজিবাইক সহ অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া আগে থেকে পৌরসভা নির্ধারণ করে রেখেছে। লিংক রোড় থেকে কলাতলী বা লিংক রোড় থেকে কক্সবাজার শহর ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা।
তবে এ ভাড়া ট্রাফিক পুলিশ নির্ধারণ করেনি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, অ্যাপটি চালু করা হয়েছে। নিবন্ধন করা হয়েছে চালকদের। অ্যাপের মাধ্যমে চালকরাই এ ভাড়া নির্ধারণ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যেহেতু আলোচনা হচ্ছে তা নিয়ে পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অথচ কক্স ক্যাব অ্যাপে নিবন্ধিত ইজিবাইক চালকরা বলেছেন ভিন্ন কথা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চালক জানান, অ্যাপটি জেলা ট্রাফিক পুলিশের করা। ট্রাফিক পুলিশের কথায় অনেক চালক এটায় নিবন্ধিত হয়েছে। অ্যাপের ভাড়াও দূরত্ব অনুসারে অ্যাপে নির্ধারণ করে দেয়া। ট্রাফিক পুলিশ নিম্চয় বুঝে-শুনে এমন ভাড়া নির্ধারণ করেছেন এমনটাই অভিমত তাদের।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।