২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৬ রমজান, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির আর্তনাদ   ●  কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বসন্ত উৎসব সম্পন্ন ও ভর্তি মেলা উদ্বোধন   ●  নারী ভোট ও আওয়ামী সমীকরণে জমে উঠেছে উখিয়া–টেকনাফের নির্বাচনী মাঠ   ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার   ●  অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিনের বিবৃতি   ●  দৈনিক নিরপেক্ষের স্টাফ রিপোর্টার হলেন তারেক আজিজ   ●  রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় অ্যাডভোকেসি সেশন অনুষ্ঠিত 

কক্সবাজারে ‘পুলিশের সোর্স’ পরিচয়ে হয়রানি


নিজস্ব প্রতিবেদক:

পুলিশের সোর্স পরিচয়ে মাদক ব্যবসা, থানার দালালি, মিথ্যা মামলায় হয়রানিসহ নানা অভিযোগ আনোয়ার হোসেন নামক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পরের জমি দখল, মামলায় ফাঁসানো, ছাড়ানোর কণ্টাকও নেন তিনি।
পলাতক আসামি ও বহু অপকর্মের হোতা আনোয়ার হোসেন কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ৮নং ওয়ার্ডের মেহেদী পাড়ার বদর আলম মেস্ত্রির ছেলে।
এই দালালের রোষানলে পড়ে মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে ইতোমধ্যে বাড়িঘর ছাড়া হয়েছে অনেকেই। মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে বাঁচতে পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কক্সবাজার পুলিশ সুপারকে দেয়া গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগে দেখা যায়, দালাল আনোয়ার হোসেন নিজেকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দেন। নিজের পরিবারের সদস্যদের মাদক ব্যবসায় সহযোগিতাও করছেন। শুধু তাই নয়, ‘অমুককে পুলিশ খুঁজছে, তমুকের বিরুদ্ধে মামলা আছে’ বলে টাকা হাতিয়ে নেয়।
খরুশকুলের সমাজ ও মসজিদ কমিটির ৫০ জন গন্যমান্য ব্যক্তি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
খুরুশকুল মেহেদী পাড় সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহীন জানান, আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষকে হয়রানিমূলক বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ও অভিযোগে জড়িয়ে টাকা আদায় করে আসছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার নিরীহ লোকজনের জমি দখলের সাথেও জড়িত সে। মূলত পুলিশের দালাল হওয়ার কারনে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায়না কেউ।
খুরুশকুল মেহেদী পাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি নাজির সওদাগর জানান, আনোয়ারের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ট। সে আমার কিছু জায়গা দখল করেছিল। সেজন্য আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। যা বর্তমানেও চলমান।
২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আনোয়ার হোসেন। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী নাছির উদ্দিনের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কক্সবাজার সদর নির্বাচন অফিসের সদ্য সাবেক অফিস সহকারী ও বর্তমানে পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে নানাভাবে অপপ্রচার করছে। কুৎসা রটাচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২৩ জানুয়ারি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন মাহাবুব আলম। যার জিডি নং-১৫৫৪।
মাহাবুব আলম অভিযোগ করে বলেন, আনোয়ার হোসেন যে বিষয় নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে তা মোটেও সত্য নয়। তাকে নির্বাচনে বিজয়ী করে দেয়ার কথা বলে যে টাকা নেয়ার কথা সংবাদ মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে তাও বানোয়াট। আমার অফিস (সদর নির্বাচন অফিস) সিসিটিভি ক্যামরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আমার সাথে যে আনোয়ারের কোন কথা বা দেখা হয়েছে তার কোন প্রমাণ নেই। মূলত এই দালাল আনোয়ারের কাজ হচ্ছে মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণার ফাঁদ পেতে ধান্ধাবাজি করা। তার ধান্ধাবাজির রোষানলে পড়ে অনেক মানুষ নানাভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছে।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি থানায় কোন কাজ করি না। কাউকে হয়রানি করেছি বা মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করেছি, এমন প্রমাণ নেই।
নির্বাচন অফিসের কর্মচারী মাহাবুব আমাকে নির্বাচনে জিতিয়ে দেয়ার কথা বলে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা নিয়েছিল। কিন্তু সে আমাকে জিতিয়ে না দিয়ে তার বন্ধুকে জিতিয়ে দিয়েছে। আমার টাকাগুলো ফেরত চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। তাই মাহাবুব আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) মোঃ সেলিম উদ্দিন বলেন, আনোয়ার হোসেন নামের কারো সাথে আমাদের পরিচয় নাই। থানা সম্পূর্ণ দালালমুক্ত।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।