১৭ মার্চ, ২০২৬ | ৩ চৈত্র, ১৪৩২ | ২৭ রমজান, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  উখিয়ায় মাত্তুল শফিকের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা   ●  উখিয়ায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ   ●  জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী নুসাইবা ইরতিফা নুযহা   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির আর্তনাদ   ●  কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বসন্ত উৎসব সম্পন্ন ও ভর্তি মেলা উদ্বোধন   ●  নারী ভোট ও আওয়ামী সমীকরণে জমে উঠেছে উখিয়া–টেকনাফের নির্বাচনী মাঠ   ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার

বকেয়া বিল চাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে জরিমানা

ফাইল ছবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বকেয়া বিল চাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের দিয়ে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট সাইফুল ইসলাম জয়ের বিরুদ্ধে। কক্সবাজারে তারকা হোটেল দি কক্সটুডে এই অভিযোগ করেছে।

হোটেল কক্সটুডেরর নিরাপত্তা কর্মকর্তা তপন কুমার চক্রবর্তী অভিযোগ করেছেন, গত থার্টি ফাস্ট নাইটের (৩১ ডিসেম্বর) দিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে জেলা প্রশাসন লাবণী পয়েন্টের গোলঘরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানে হোটেল কক্স টুডে থেকে খাওয়ার অর্ডার করা হয়। যথারীতি ওই অনুষ্ঠানে অর্ডার অনুযায়ী ৩৫ হাজার টাকার খাওয়ার সরবরাহ করা হয়।

তিনি জানন, হোটেল কক্স-টুডে’র রেষ্টুরেন্ট ম্যানেজার ইকবাল হোসেন ওই খাওয়ারের বিল নিয়ে কয়েকবার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয়ের কাছে যান। ওই সময় পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় খাওয়ার বিল দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠেন। ওই সময় সাইফুল ইসলাম জয় হোটেল দি কক্স টুডে’র রেষ্টুরেন্ট ম্যানেজার ইকবাল হোসেনকে বিল প্রদানে অস্বীকৃতি জানান। একই সময় তিনি কক্স টুডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ আছে মর্মে হুমকি দেন। এবং হোটেল দি কক্স টুডে’কে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করে।

তপন চক্রবর্তী আরো জানিয়েছেন, আমরা আমাদের খাওয়ারের বকেয়া টাকা চাইতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের পর্যটন সেলে ২৮ জানুয়ারী আবারো যোগাযোগ করি। কিন্তু এখন অবধি বিল পরিশোধ করা হয়নি।

হোটেল কক্সটুডের পক্ষে এই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, খাওয়ারের বকেয়া বিল চাওয়ার কারণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় তাদের উপর ক্ষুব্দ হয়ে উঠে। এবং তিনি তাঁর পূর্বের হুমকির প্রতিফলন স্বরূপ গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যেমূলক ভাবে হোটেল কক্স টুডের রেষ্টুরেন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে। রেষ্টুরেন্টে কোন ধরণের অপরাধ না পাওয়া স্বত্বেও তিনি বকেয়া বিল চাওয়ার ব্যক্তিগত আক্রোশের জায়গা থেকে ওই সময় আমাদের হোটেলের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারির সাথে আশ্রাব্য ভাষায় দুর্ব্যবহার করতে থাকেন। এক পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় কোন ধরণের অপরাধ না করেও আমাদের হোটেলের পরিচালক (অপারেশন) সাখাওয়াত হোসেনকে আটক করে তাঁর গাড়িতে উঠিয়ে নেন এবং ইচ্ছেমত নাজেহাল করেন। হোটেলের অন্যান্য কর্মচারিরা আটকের কারণ জানার চেষ্টা করলে আমাদেরকেও গালিগালাজ করেন। পরে রেষ্টুরেন্টে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাওয়ার রাখার মিথ্যা অপরাধ দেখিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে সাখাওয়াত হোসেনকে ছেড়ে দেন। যদিও ওই অপরাধের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই।

বকেয়া বিল চাওয়ার কারণে হোটেল কক্স টুডেতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয়ের সাজানো অভিযান অত্যন্ত মানহানিকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক বিচার দাবী করেছেন হোটেল কতৃপক্ষ।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কক্সবাজার পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট সাইফুল ইসলাম জয় জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিনি এই অভিযান পরিচালনা করেন। পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫ সংশোধিত ২০১০(৬)ক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯(৩৯,৪৩) এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযনে হোটেল দ্যা কক্সটুডেকে ১০০০০০(এক লক্ষ টাকা) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। বকেয়া বিলের সাথে এই অভিযানের কোন সম্পর্ক নেই।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন জানিয়েছেন, তিনি ঐ দিন সরকারী কাজে চট্টগ্রামে ছিলেন। কক্সটুডেতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার ম্যাজিস্ট্রট তাকে অবহিত করেনি। কক্সটুডের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।