১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২৯ পৌষ, ১৪৩২ | ২৩ রজব, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  উখিয়ায় বেকারি মালিককে ছু’রি’কা’ঘা’ত, আটক ১   ●  খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সিবিআইউ ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে   ●  উখিয়া–নাইক্ষংছড়িতে আলোচিত মাদক ও জাল টাকা মামলার সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্য প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন   ●  আ.লীগের বদি’র ক্যাশিয়ার দশবছর পর ফিরলেন বিএনপিতে   ●  অসহায় শিশুদের জন্য শীতকালীন বস্ত্র উপহার দিল স্টুডেন্টস’ প্ল্যাটফর্ম   ●  মানবিক কাজে বিশেষ অবদান; হাসিঘর ফাউন্ডেশনকে সম্মাননা প্রদান   ●  দুই দিন ধরে নিখোঁজ প্রবাল নিউজের প্রতিবেদক জুয়েল হাসান, থানায় জিডি   ●  গ্রামে গ্রামে আনন্দের স্রোত   ●  সিবিআইউ’র আইন বিভাগের ১৭তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন   ●  ক্ষোভ থেকে হত্যার ছক আঁকেন অপরাধী চক্র

টেকনাফে ১হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজি ও ফলাদির চাষাবাদ

হুমায়ূন রশিদ,(টেকনাফ): টেকনাফে চলতি রবি মৌসুমে ১হাজার ৬শ ৯৩ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজি ও ফলমূলের চাষাবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭শ ৩হেক্টর জমি বিভিন্ন প্রজাতির শাক-সবজি এবং ৯শ ৯০হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলাদি চাষাবাদ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে খিরা, ভূট্টা, তরমুজ এবং বাঙ্গী বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
কৃষি অফিস সুত্র জানায়, উপজেলা হোয়ইক্যং ৫শ ৮৩ হেক্টর, হ্নীলা ৩শ ৯৮ হেক্টর, সদর ২শ ৪০ হেক্টর, বাহারছড়া ২শ ৫০ হেক্টর, সাবরাং-১শ ৬০ হেক্টর, সেন্টমার্টিন ৫৪ হেক্টর ও পৌরসভায় ৮ হেক্টর চাষযোগ্য জমিতে মুলা ১শ ১৪ হেক্টর, লাল শাক ৫০, বেগুন ১শ ৭ হেক্টর,টমেটো ৯০ হেক্টর, ফুলকপি ১২ হেক্টর, বাঁধাকপি ১৮ হেক্টর, সীম ৪০ হেক্টর, লাউ ৫৪ হেক্টর, বরবটি ৪৪ হেক্টর, ঢেড়ঁশ ৩৪ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ৫৫ হেক্টর, করলা ২৮ হেক্টর, বাটি শাক ২ হেক্টর, ফ্রান্সবিন ৫৩ হেক্টর ও অন্যান্য শাক-সবজি ২ হেক্টরসহ ৭শ ৩ হেক্টর জমিতে এবং আলু ১শ ১৭ হেক্টর, মিষ্টি আলু ৬৫ হেক্টর, বাদাম ১২ হেক্টর, ভূট্টা ১শ ৪২ হেক্টর, আখ ২ হেক্টর, ফেলন ৮৫ হেক্টর, পিয়াজ ২৪ হেক্টর, ধনিয়া ৪৬ হেক্টর, মরিচ ২শ ৩১ হেক্টর, তরমুজ ১শ ৪০ হেক্টর, খিরা ১শ ১ হেক্টর ও বাঙ্গী ২৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয় ৩ লক্ষাধিক জনসাধারণের পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারী অসংখ্য রোহিঙ্গাদের কারণে প্রথমে শাক-সবজি ও নিত্যপণ্যের দাম উর্ধ্বমুখী হলেও টেকনাফসহ পাশ^বর্তী উপজেলা সমুহে শাক-সবজি এবং ফলাদির ভাল ফলন হওয়ায় সেই শংকা কেটে গেছে। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি,বিবিধ তরকারীসহ খিরা, ভূট্টা, তরমুজ এবং বাঙ্গী বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
এই ব্যাপারে হ্নীলা লেচুয়াপ্রাংয়ের চাষী রফিকুল ইসলাম মুন্সী জানান, তিনি চলতি বছর ৮ একর জমিতে মুলা, টমেটো, বেগুন, ভ্ট্টূা, আলু, শীম, খিরার চাষাবাদ করেছেন। শীম ও খিরার চাষাবাদ তেমন ভাল না হলেও অন্যান্য ফসলাদি ভাল হয়েছে। উলুচামরীর কৃষক আব্দুস সালাম বঙ্গ বলেন, আমি ৪ কানিতে ফেলন চাষ করেছি। ইনশল্লাহ চাষ ভাল হয়েছে। হোয়াইক্যংয়ের লাতুরীখোলার অভি চাকমা বলেন, স্থানীয় উক্য নাই চাকমা, মেম্বার বাবুধন তঞ্চংগ্যা মরিচসহ যাবতীয় শাক-সবজির চাষাবাদ করে ভাল ফলন পেয়েছে। বাহারছড়া উত্তর উত্তর পাড়ার রহমত উল্লাহ, আব্দুল আউয়াল, আমান উল্লাহ, আবুল বশরসহ অনেক কৃষক মরিচ, আলুর পাশাপাশি ধান ও বাঙ্গী চাষে লাভবান হয়েছে। হ্নীলা ইউপির ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল হুদা বলেন, পশ্চিম লেদায় তরমুজ ও বাঙ্গীসহ শীতকালীন শাক-সবজির ভাল ফলন হয়েছে। হ্নীলা ফুলের ডেইলের শাক-সবজি চাষী আব্দুর রহিম জানান, ২কানি করলা, দেড় কানি মিষ্টি কুমড়া, আধকানিতে টমেটোসহ অন্যান্য সবজির চাষ করেছি। ইনশল্লাহ ফলনও ভাল হওয়ার পথে।

এই ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, সরকার নিজ জমিতে অধিক খাদ্য ফসল উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়ে কুষকদের চাষাবাদে উৎসাহ দিয়ে আসছে। এসব চাষাবাদ দেখা-শুনা, পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য ১৯জন উপসহকারী কৃষি অফিসার থাকার কথা থাকলে মাত্র ৯জন দিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আজ কৃষিখাতে এই সাফল্য বলে তিনি মনে করেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।