১৩ মার্চ, ২০২৬ | ২৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২৩ রমজান, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  উখিয়ায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ   ●  জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী নুসাইবা ইরতিফা নুযহা   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির আর্তনাদ   ●  কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বসন্ত উৎসব সম্পন্ন ও ভর্তি মেলা উদ্বোধন   ●  নারী ভোট ও আওয়ামী সমীকরণে জমে উঠেছে উখিয়া–টেকনাফের নির্বাচনী মাঠ   ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার   ●  অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিনের বিবৃতি

ক্যান্সার আক্রান্ত তাজুল বাঁচতে চায়

ছবি- তাজুল ইসলাম
মৃত্যু নিশ্চিত জানার পরও কে না চায় রঙের পৃথিবীতে আরো কিছু দিন বেঁচে থাকতে। সবাই চায় এই পৃথিবীটাকে ঘুরে ঘুরে দেখতে। তেমনি একজন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের মধ্যম বাইশারী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হাশেম প্রকাশ মিড়ার পুত্র তাজুল ইসলাম (৪৪) জানালেন দুনিয়ায় বেঁচে থাকার আকুতি। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে মৃত্যু শয্যায় শায়িত।
১৬ মে ২০১৫ ইং সকাল ৬ টা ৩০ মিনিট। এই প্রতিবেদক তাজুল ইসলামের চিকিৎসার খবর নিতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ীর বাইরে গাছের ছায়ায় একা কাঠের চৌকিতে শায়িত। পাশে কেউ নেই। দেখেই দু’চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলতে লাগলেন, এতদিন পর একজন প্রতিবেশী মানুষ আমাকে দেখতে আসল। আর কেউ আসেনি। প্রতিবেশী, বিত্তবান না কোন জনপ্রতিনিধি।
মনে পড়ে হাদিসে কুদসীর কথা- কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যখন জিজ্ঞাসা করবেন তোমার প্রতিবেশী যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্য শয্যায় শায়িত ছিল, তখন তুমি কোথায় ছিলে? তখন কি জবাব দেব। কিছুটা দ্বায়মুক্তির জন্য গনমাধ্যমকর্মী হয়ে বিত্তবানদের কাছে সহযোগীতার আহবান জানানোর চেষ্টা করলাম।
ছোট বোন নাছিমা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, আল-ফুয়াদ খতিব হাসপাতাল এবং সর্বশেষ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিন্তু দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত তাজুল ইসলামের পক্ষে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে ঔষুধ ক্রয় করার টাকাও তার কাছে নাই। যেখানে স্ত্রী-সন্তানদের দু’বেলা খাবার সংগ্রহ করতে অক্ষম সেখানে আবার মরণব্যাধি ক্যান্সারের চিকিৎসা?
যে ব্যক্তি জীবনে কারো মুখের উপর কথা বলেনি সে যখন রোগাক্রান্ত হয়ে বিছানায় শায়িত তখন তাকে দেখতে এলোনা কোন আপনজন। যার টাকায় অনেক মানুষই জীবন-জীবিকা চালিয়েছিল তারা কোথায় যেন হারিয়ে গেল। স্মরণ হয় “সকাল বেলার ধনীরে তুই, ফকির সন্ধ্যা বেলা”।
পারিবারিক সুত্র জানায়, কর্ম চঞ্চল তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন রাবার বাগানে টেপার হিসাবে কাজ করেছিলেন। শরীর কাজ করতে যখন সায় দিচ্ছিল না, তখন তিনি টেপার পদ ছেড়ে একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসায় নেমে পড়েন। সেখানেও বেশীদিন টিকতে পারেন নি। ক্যান্সারে খুড়ে খুড়ে খেয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যু শয্যায় শায়িত হতে হলো।
বর্তমানে তাজুল ইসলাম বাঁচার আকুতি জানিয়ে এলাকার বিত্তবানদের একটু সহানুভূতি কামনা করেছেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।