মূল খবরে যান

শিরোনাম
● সাংবাদিক এ এইচ সেলিম উল্লাহর মা আর নেই● রামুতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, যৌথ অভিযানে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ জব্দ● কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ● উখিয়ায় ৯ জীবিত বকসহ শিকারি আটক● নিরাপদ সড়ক গড়তে কক্সবাজারে বিআরটিএর সচেতনতামূলক সভা● কম খরচে প্রসূতি সেবা দিয়ে প্রশংসিত ডা. রোকসানা● শ্মশানের দেয়াল ভাঙার অভিযোগে ক্ষোভ, ৮ অক্টোবরের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে উখিয়ায় দুর্গাপূজা বন্ধের সিদ্ধান্ত● কৃষকের যত চ্যালেঞ্জ● খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছেন● ফাল্গুনী মেকওভার পার্লারে নিম্নমানের সাজ, নারীদের হয়রানি-হুমকি ‘আমাদের বিরুদ্ধে রিভিউ দিলেও আমাদের কিছু যায়-আসে না’

রোহিঙ্গারাই রাখাইন জ্বালিয়ে দিয়েছে: মিয়ানমারের সেনাবাহিনী

শেয়ার করুন

কক্সবাজার সময় ডেস্কঃ মিয়ানমারের রাখাইনে সৃষ্ট সংকটের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সে দেশের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে  রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ-যৌন নিপীড়ন ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও সেনা-তদন্ত প্রতিবেদনে তা অস্বীকার করা হয়েছে। জাতিসংঘসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংকটের কারণ হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী করলেও প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে সেনাবাহিনী উল্টো দোষ চাপিয়েছে ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’দের ওপর। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় আড়াল করতে তাদের বাঙালি সন্ত্রাসী নামে ডাকে মিয়ানমার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ওই সেনা-তদন্ত প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সেই প্রতিবেদনে বাঙালি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ওই বাঙালি সন্ত্রাসীদের কারণেই রাখাইনে বসবাসকারী মানুষেরা দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেনাবাহিনীর এই প্রতিবেদনকে ‘চোখে ধুলা’ দেওয়ার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। তারা জাতিসংঘের তদন্ত কমিটিকে ওই অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথায় উঠে আসে সেনাসদস্যদের নৃশংসতা, বর্বরতা। তবে এই সব কিছুই অস্বীকার করেছে সেনাবাহিনী।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নিরপরাধ গ্রামবাসীদের’ তারা গুলি করেনি, নারীদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন চালায়নি, গ্রামবাসীদের নির্যাতন করেনি, আটক বা হত্যা করেনি, তদের সম্পদ, সোনা, পশু চুরি করেনি, মসজিদে আগুন দেয়নি, বাড়িতে আগুন দেয়নি এবং তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য জোর করেনি।

সেনাবাহিনী বলে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সন্ত্রাসীরাই গ্রামবাসীদের বাড়িতে আগুন দেয়। তাদের ভয়েই পালিয়ে যায় গ্রামবাসীরা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক মুখপাত্র জানান, ‘একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে সেনাবাহিনী দায় স্বীকার করবে না। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই্ এই সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।’

ওই অঞ্চলে দায়িত্বপালন করা জেনারেলকে বদলি করা হয়েছে। তবে কোনও কারণ দেখানো হয়নি।  বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মিয়ানমার সফর করার কথা রয়েছে।

শেয়ার করুন