২১ এপ্রিল, ২০২৬ | ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ৩ জিলকদ, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার আসামি হলেন রামু থানার নবাগত ওসি আরমান   ●  ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টিমের সঙ্গে সাউথ কোরিয়া গেলেন লায়ন মো. মুজিবুর রহমান   ●  কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পেলেন উখিয়ার ডা. নুরুল আবছার শিমুল   ●  উখিয়ায় বসতভিটা দখলকে কেন্দ্র করে হামলা: নারী-পুরুষসহ আহত ৪, এলাকায় আতঙ্ক   ●  বার কাউন্সিলে উত্তীর্ণ সিবিআইইউ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা   ●  এআই বিষয়ে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার   ●  প্রতারণা-জালিয়াতিই যেন বেলায়তের নীতি!   ●  উখিয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পেল কৃষি উপকরণ   ●  পাতাবাড়ি স্কুল প্রাক্তনদের পুনর্মিলনী ২৮ মার্চ   ●  উখিয়ায় মাত্তুল শফিকের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা

টেকনাফে অবাধ বিচরণে মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড জড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা !

হুমায়ূন রশিদ,টেকনাফ ::টেকনাফে ৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও লোকালয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মানবিক সহায়তা এবং আইন-শৃংখলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিরাপদে রয়েছে। এসব ক্যাম্প অরক্ষিত ও লোকালয়ের নিকট হওয়ায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকজন এখন মাদক চোরাচালান এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আর রোহিঙ্গারা শ্রম বাজার দখলে নেওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পড়ছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,টেকনাফের হ্নীলা দমদমিয়া-জাদিমোরা, নয়াপাড়া-মোছনী, লেদা, আলীখালী, হোয়াইক্যং পুটিবনিয়া, চাকমারকূল এবং উপকূলীয় বাহারছড়া শাপলাপুর ৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং পার্শ্ববর্তী লোকালয়ের ভাড়াবাসা ও পরিচিত জনের বাসায় আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। সরকারী-বেসরকারী ও আর্ন্তজাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এসব রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
এসব ক্যাম্প সমুহে নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়মিত তদারকি করায় অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে স্থানীয় শ্রম বাজার রোহিঙ্গারা দখলে নেওয়ায় স্থানীয়রা অসহায় হয়ে পড়ে।

কিন্তু এসব ক্যাম্প সমুহের চারপাশে কাটাঁ তারের বেড়া নেই। ফলে রোহিঙ্গারা যখন ইচ্ছে তখন যেখানে-সেখানে গিয়ে নানা অপরাধে সম্পৃক্ত হয়ে উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্যদের যোগ-সাজশে মাদক চোরাচালানী এবং অবৈধ অস্ত্রধারী হয়ে বিশৃংখলার চেষ্টা চালায়। এই অশুভ চক্রের কারণে বিভিন্ন ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি,অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় নিয়ে অনেক তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক মাদক কারবারী ও অবৈধ অস্ত্রধারীরা অসহায় হয়ে পড়ে। এসব অপরাধী চক্রের বেশ কয়েকটি গ্রুপ পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে নানা অপতৎরতা চালাচ্ছে।
বিগত ৬ মাসে নিজেদের অর্ন্তদ্বন্দ এবং আইন-শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে ১০-১২জন রোহিঙ্গা নিহত হয়। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃংখলা বাহিনী কঠোর হওয়ায় ক্রমশ স্বস্তি ফিরতে শুরু করে এসব ক্যাম্প সমুহে। উক্ত বিষয়ে ক্যাম্পে নিয়োজিত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা জানায়,রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক মাদক কারবারী, অস্ত্রধারী ও অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবেনা।
এই বিষয়ে হ্নীলা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, অত্র ইউনিয়নে ৪টি বড় রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। কিন্তু এসব ক্যাম্পে দেওয়াল বা কাঁটা তারের বেড়া না থাকায় তারা সহজে বের হয়ে কাজ-কর্ম থেকে শুরু করে যা ইচ্ছে করে বেড়ায়। তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।
হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, আমরা দুই ইউনিয়ন একই দূর্ভোগ আর ভোগান্তিতে রয়েছি। উক্ত বিষয়ে সরকারের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ দরকার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল হাসান বলেন,৭টি ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা খাদ্য, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তায় নিরাপদে রয়েছে। তাদের যাবতীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনী কঠোরভাবে কাজ করে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তাদের অবাধ চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।