কক্সবাজার সদর উপজেলায় শীতকালীন বাগদা চিংড়ি চাষে সফলতা লাভ করেছেন খামারী-উদ্যোক্তারা। সদ্যগত শীতকালে বিভিন্ন প্রজেক্টে চাষকৃত বাগদা চিংড়ি এখন আহরণ উপযোগী হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পরিবর্তে শুস্কমৌসুমে বাগদা চিংড়ি চাষ করে সফল হওয়ায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সঞ্চার হয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
জানা যায়, এতদিন কেবলমাত্র বর্ষাকালীন চাষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল চিংড়ি উৎপাদন। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় একই জমিতে ডিসেম্বরÑমে মাস পর্যন্ত শুস্ক মৌসুমে লবণ চাষ ও মেÑ নভেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে বাগদা চিংড়ি চাষ করা হত। এতদিন এটাই ছিল প্রথাগত চাষ মৌসুম। কিন্তু বিগত কয়েকমাস আগে লবণ মৌসুম শুরু হলে লবণ চাষ না করে এবছর পরিক্ষামূলক ভাবে চিংড়ি চাষ শুরু করেন পোকখালী ও গোমাতলীর ৬/৭জন উদ্যোক্তা। উপকূলীয় পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব গোমাতলীর হাফেজী ঘোনা, ফকিরা ঘোনা ও বাইক্যা ছড়া প্রজেক্টসহ পশ্চিম গোমাতলীর বাহিরের ঘোনা ও বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় শীতকালীন চিংড়ি চাষ। মাটি কাটা, পাড় মেরামত ও অপরাপর সব প্রস্তুতির পর প্রজেক্টে পোনা অবমুক্ত করা হয়। ২ মাস আগে ছাড়া এসব পোনা এখন আহরণ উপযোগী বাগদা চিংড়িতে পরিণত হয়েছে। আর কিছুদিন পরেই আহরণ ও বিক্রি করা যাবে বলে জানিয়েছেন সফল চাষীরা। বাগদা চিংড়ি চাষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট এ্যাকোয়া কনসালটেন্সি সূত্রে জানা যায়, ঘের প্রস্তুতির পর মাটিÑপানি পরীক্ষা করে চুন ও সার প্রয়োগ করার পর ঘেরে সুস্থÑসবল মানসম্মত পোনা মজুদ এবং মজুদ পরবর্তী নিয়মিত পরিচর্যা, খাদ্য প্রয়োগ, পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পানির গভীরতা রক্ষা সহ সার্বিক পরিচর্যা করলে অল্প সময়েই ফসল তোলা সম্ভব। চিংড়ি চাষী ও উদ্যোক্তা হান্নান মিয়া বলেন, শীতকালীন চিংড়ি চাষে এ সফলতা এতদাঞ্চলের চাষীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (সদর) ড.মঈন উদ্দিন আহমদ বলেন, চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে চাষীদেরকে যাবতীয় পরামর্শ ও সহযোগীতা দেয়া হচ্ছে।