মূল খবরে যান

শিরোনাম
● শ্মশানের দেয়াল ভাঙার অভিযোগে ক্ষোভ, ৮ অক্টোবরের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে উখিয়ায় দুর্গাপূজা বন্ধের সিদ্ধান্ত● কৃষকের যত চ্যালেঞ্জ● খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছেন● ফাল্গুনী মেকওভার পার্লারে নিম্নমানের সাজ, নারীদের হয়রানি-হুমকি ‘আমাদের বিরুদ্ধে রিভিউ দিলেও আমাদের কিছু যায়-আসে না’● সম্প্রতি উখিয়ায় সার ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে “গণসংযোগ” ও “উখিয়া বার্তা” নামক অনলাইন সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে● সাহসিকতা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে পিপিএম পদক পেলেন ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া● অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মাহমুদুল হক সিকদারে’র জানাযার নামাজ সম্পন্ন● ঢাবি কক্সবাজার স্টুডেন্টস ফোরামের নতুন নেতৃত্বে এমরান-তারেক-সাহিক● উখিয়া প্রেসক্লাবে নতুন নেতৃত্বের শপথ, দায়িত্ব হস্তান্তর ও নবীন সদস্য বরণ● বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক হলেন সোহেল

প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে জামায়াতে নেতাসহ আসামিরা, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

উখিয়ায় একই পরিবারের দুই ভাই হত্যার পর আরেক ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম

শেয়ার করুন

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী যেন পরিণত হয়েছে বিচারহীনতার এক ভয়ংকর উদাহরণে। একই পরিবারের দুই ভাইকে নির্মমভাবে হত্যার পর এবার তৃতীয় ভাইকে প্রকাশ্য রাস্তায় কুপিয়ে ও পিটিয়ে প্রায় পঙ্গু করে দেওয়ার মতো হামলা চালিয়েছে। ধারাবাহিক এই হামলাগুলো পরিকল্পিত হত্যা নাকি প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে বেপরোয়া সন্ত্রাসীদের দাপট—তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে স্থানীয়দের মাঝে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী পুটিবনিয়া এলাকায়। স্থানীয় জালাল ফকিরের বসতবাড়ির সামনে সড়কের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলার শিকার হন মো. রাসেল (২৮)। তিনি হাজী জালাল আহমদের ছেলে।

পরিবারের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০১২ ও ২০২৪ সালে হাজী জালাল আহমদের দুই ছেলেকে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ওই মামলার সাক্ষী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য হওয়ায় আসামিরা এবার রাসেলকে হত্যা করে পুরো পরিবারটিকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেমেছে।

এ ঘটনায় হাজী জালাল আহমদ উখিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, নুরুল বশর, জাহেদ আলম, জুহুর আলম ওরফে আব্ববুইয়া, আব্দুল মাবুদ, শহীদ উল্লাহ, আব্দুল মজিদ, আবুল বশর ওরফে বদিয়া, কফিল উদ্দিনসহ ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র দল রাসেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্র, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে নির্বিচারে আঘাত করা হয়। হামলার ভয়াবহতায় রাসেলের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে একাধিক স্থানে হাড় ভেঙে বেরিয়ে আসে। শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাকারীরা নিশ্চিত ছিল—সেদিনই রাসেল বাঁচবেন না।

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেলকে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল হয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হত্যা মামলার আসামিরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। হামলার আগেও একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তাঁরা। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

হাজী জালাল আহমদ— ২০১২ সালে হারিয়েছেন তার এক ছেলে জসিমকে। ২০২৪ সালে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন আরেক ছেলে আরাফাত। দুই সন্তানের হত্যার বেদনা এখনো ভুলতে পারেননি তিনি। এরই মধ্যে আরেক ছেলে মো. রাসেলকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এক বাবার জীবনের একের পর এক নৃশংসতার আঘাতে ভেঙে পড়েছে।

হামলার শিকার হওয়া মো. রাসেল মৃত্যুশয্যা আর সন্তানদের ওপর হামলার আতঙ্ক—এই চরম পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়েছেন তার স্ত্রী। পরিবারটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় আক্রান্ত, প্রতিটি মুহূর্ত যেন প্রাণের সঙ্গে লড়াই করছেন।

২০২৪ সালে ২৮ ডিসেম্বর রাতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী পুঁটিবনিয়া এলাকায় পিটিয়ে হত্যা করা হয় জালাল হাজির ছেলে মোহাম্মদ আরফাতকে।

স্বামী আরফাতকে হারানোর পর দুই শিশুসন্তানের সঙ্গে দুঃখের সঙ্গী হয়ে বাঁচতে বাধ্য তার বিধবা স্ত্রী। প্রতিটি মুহূর্তে ফিরে আসে স্বামীর হত্যার স্মৃতি—একটি কষ্ট, যা এখনও তার হৃদয় ভেঙে দিচ্ছে।

২০১২ ও ২০২৪ সালে দুই ছেলেকে হারানোর ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই এবার মৃত্যুশয্যায় আরেক ছেলেকে দেখতে হচ্ছে মাকে। একের পর এক সন্তান হারানোর এই নির্মম পরিণতিতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।

এদিকে হামলার পরও অভিযুক্তদের কেউ কেউ এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে পুরো পরিবার।

এ বিষয়ে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর আহমদ বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—দুই ভাই হত্যার বিচার চলাকালে তৃতীয় ভাইয়ের ওপর এমন নৃশংস হামলার পরও যদি আসামিরা ধরা না পড়ে, তাহলে উখিয়ায় আইনের শাসন আদৌ আছে কি না?

শেয়ার করুন