১৯ আগস্ট, ২০২৬ | ৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৫ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮


শিরোনাম
  ●  কক্সবাজার পুলিশ সুপারকে ঘিরে তিনজনের বদলি-পদায়ন বাণিজ্য   ●  পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু   ●  উখিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা, রক্তদান ও উন্নত খাবার বিতরণ   ●  আলোচিত ৫০ হাজার পিস ইয়াবা আটকের মামলায় নাম নেই ইয়াবার মুল মালিক ডালিম ও ভুট্টোর   ●  ফরেস্ট রেঞ্জার্স ডে উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া ইকোপার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন   ●  জবিস্থ কক্সবাজার ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে কলিম-নয়ন   ●  হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক উত্তর শাখার ৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন   ●  হাসপাতাল ছাড়লেন আহত ৫ বনকর্মী, এসিএফ’র নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন   ●  কক্সবাজারে বনভূমি দখল উচ্ছেদে গিয়ে হামলা, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ৫ বনকর্মী আহত   ●  স্নাতকের শেষবর্ষের ছাত্র ইমরানকে ‘ছাত্রলীগ ট্যাগ’ লাগিয়ে নাশকতা মামলায় চালান, পরীক্ষা চলাকালেই পাঠানো হলো কারাগারে

শহরে শব্দদূষণে বিপর্যস্থ জনজীবন

index

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে শব্দদূষণ বড় বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি। শব্দদূষণের যাঁতাকলে পড়ে পৌরবাসী অজান্তেই বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রন্ত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে শহরবাসী। এ বিপর্যয়ের প্রধান শিকার সাধারন বাসিন্দা ও প্রাণিকুল। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত শব্দদূষণের ফলে পরিবেশের বিরুপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারন মানুষের উপর। সাধারনত পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রধান উপকরণের মধ্যে রয়েছে বায়ু দূষণ,পানি দূষণ ও শব্দদূষণ। ডা:মোহাম্মদ শাহজান বলেন,শব্দ হচ্ছে সব ধরনের যোগাযোগের মাধ্যম। তবে এর একটি নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে। শব্দ যখন অতিরিক্ত মাত্রায় উৎপন্ন হয় তখন সহ্যসীমার বাইরে চলে যায়। আর এটি তখন দূষণের পর্যায়ে পড়ে। তবে মাত্রাতিরিক্ত শব্দ যে কোন মানুষের দেহে মারাত্বক ক্ষতির কারণ হতে পারে যা নিরব ঘাতকের মতো। শহরে শব্দদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে গাড়ির হর্ন। এরপর রয়েছে ইটভাঙ্গার মেশিনের শব্দ,অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের যন্ত্রপাতির শব্দ,বিভিন্ন সভাসমাবেশের মাইকিং এর শব্দ। আতিক,রহমত,বক্কর,আলিফ,সোমাইয়া,হুমায়রাসহ কয়েক স্থানীয় বাসিন্দা জানান,শহরে আশংকাজনকহারে বৈধ-অবৈধ মোটরসাইকেল,সিএনজি,টমটম,মালবাহী গাড়িবেড়ে যাওয়ায় এসব যানবাহনের অতিরিক্ত হর্নের সৃষ্ট শব্দ জনজীবন অতিষ্ট করে তুলেছে। অন্যদিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা ভবন নির্মাণের যন্ত্রপাতির উচ্চ শব্দের ফলে দূিষত হচ্ছে পরিবেশ। এছাড়া জনবসতি এলাকার বিভিন্ন দোকান আর উঠতি বয়সের তরুণদের উচ্চশব্দে মোটরসাইকেলের হর্ণবাজানো কিংবা মিউজিক বাজানো এবং মাইক বা সাউন্ড বক্সের শব্দও ব্যাপক দূষণ ঘটাচ্ছে। সূত্র মতে,মানুষের জন্য শব্দের সহনীয় মাত্রা হচ্ছে ৪৫ ডেসিবল। কিন্তু শহরের কোথাও কোথাও শব্দদূষণের মাত্রা ৫০ থেকে ৬০ ডেসিবল ছাড়িয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে,উচ্চমাত্রার শব্দ প্রতিদিন ৪০সেকেন্ড করে শুনলেই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ঘিরে ফেলে। এতে শ্রবণশক্তি বিকল হয়ে পড়ে। এছাড়া উচ্চ শব্দ দেহের বিভিন্ন ধরনের জটিলতাও সৃষ্টি হয়। এতে মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তপাত হয়। কারণ উচ্চ শব্দের ফলে দেহের নিউরণ কোষ ভেঙ্গে যায়। এছাড়া শব্দদূষণের কারণে ক্ষণস্থায়ী বা স্থায়ী উভয় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সরেজমিনে দেখা গেছে,শহরে শব্দদূষণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ,গাড়িচালক,শিশু-কিশোর,ছাত্র-ছাত্রী,অসুস্থ ব্যক্তি,গর্ভবতী মহিলাসহ সাধারন মানুষ। শব্দদুষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ২০০৬ সালে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা পাস করলেও পর্যটন শহরে তা কার্যকর হচ্ছে না।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।