২০ মার্চ, ২০২৬ | ৬ চৈত্র, ১৪৩২ | ৩০ রমজান, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  উখিয়ায় মাত্তুল শফিকের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা   ●  উখিয়ায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ   ●  জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী নুসাইবা ইরতিফা নুযহা   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির আর্তনাদ   ●  কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বসন্ত উৎসব সম্পন্ন ও ভর্তি মেলা উদ্বোধন   ●  নারী ভোট ও আওয়ামী সমীকরণে জমে উঠেছে উখিয়া–টেকনাফের নির্বাচনী মাঠ   ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার

লোহাগাড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যেু নিয়ে নানা গুঞ্জনঃ দেবর মামুন পলাতক

রায়হান সিকদার,লোহাগাড়া প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ভবানী পুর আজিজ ডাক্তারের পাড়ায় সৌদিয়া প্রবাসীর এক স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সে তিন সন্তানের জননী বলে জানা গেছে । ২৪ মে (রবিবার) সকাল ১১টায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ গৃহবধুর রহস্যজনক মত্যুকে ঘিরে চলছে এলাকায় নানা গুঞ্জন। এটি কি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকাবাসীর কানাঘুষার শেষ নেই। তবে, ঘটনার পর থেকেই নিহত গৃহবধূর দেবর মামুন পলাতক রয়েছে।

নিহত গৃহবধুর নাম অাঞ্জুমান আক্তার গিন্নী(২৮ )। সে ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী নুরুল আলমের স্ত্রী এবং ৩ সন্তানের জননী।

নিহত গৃহবধূর ছোট ভাই মুহাম্মদ আলী জানান, দেবর মামুন ও তার ২ জা`র সাথে বাড়ির সীমনা নিয়ে তাঁর বোন আঞ্জুমান আক্তার গিন্নীর পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে প্রায় সময়ই কথা কাটাকাটি সৃষ্টি হতো। ঘটনার দিন ফজরের নামাজের পর গিন্নীর সাথে অামার শেষ কথা হয়।
তাদের বাড়ির পাশের আমার এক খালাতো বোনের মাধ্যমে বোন গিন্নীর মৃত্যুর খবরটি পেয়ে সাথে সাথে তার শ্বশুর বাড়ি গিয়ে গিন্নীর লাশ খাটে পড়ে থাকতে দেখে আমি অবাক হয়ে পড়ি।
তার বোনকে দেবর মামুন মাদকাসক্ত হয়ে মারধর করেছে।
এ সময় তিনি আরো জনান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সীমানা বিরোধের জের ধরে দেবর মামুন ও ২ জাঁ মিলে পরিকল্পিতভাবে আমার বোন গিন্নীকে হত্যা করেছে। আমি বোন গিন্নী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের জোর দাবী করেন।

নিহত গৃহবধূ গিন্নীর বড় জাঁ খালাদা আক্তার জানান, ঘটনারদিন সকাল ৮ টায় দেবর মামুন ও গিন্নীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। মামুন ও গিন্নীর মধ্যে লোহার রড নিয়ে টানাটানি করতে দেখি। এক পর্যায়ে দেবর মামুন গিন্নীকে লাথি, কিল ও ঘুষি মারতে থাকলে সে মাথা ঘুঁরে পড়ে যায়। এর পর আমি বাড়িতে ঢুকে যায়। পরে কি হয়েছে এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।

অভিযুক্ত মুন্নীর ঝাঁ কাইছার আক্তার পাখি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এখন গর্ববতী ও অসুস্থ।কিছুদিন পরে ঘটনারদিন গিন্নীর সাথে বাড়ির সীমানার দরজা নিয়ে একটু কথাকাটি হয়। এরপর দেবর মামুনের সাথে কি হয়েছে আমি জানিনা। তবে, একটু স্বার্থনেষী মহল এ ঘটনায় তাকে জড়িয়ে ষড়ষন্ত্র চলার পায়তারা চালাচ্ছে । এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি আর কিছুই জানেননা বলেও দাবী করেন।

এদিকে, সোমবার (২৫ মে) ঈদুল ফিতরের দিন আছর নামাজের পর শ্বশুর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে নিহত গিন্নীর লাশ দাফন করা হয়েছে।

মাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ অবুঝ তিন শিশু :

নিহত গৃহবধু গিন্নীর ৪ বছর বয়সী এক ছেলে, ৩ বছর ও ৬ মাস বয়সী দুই মেয়ে মাকে হারিয়ে অঝোরে কান্না করছে অবুঝ শিশুরা। বার বার কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছিলেন তারা। তাদের সান্তনা দেয়ার মতো কারো কোন ভাষা নেই। এখন মা হারা এ অবুঝ শিশুদের কান্না থামাবে কে ?

গিন্নীর বড় ছেলে অবুঝ শিশু নোমানের (৪) কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, মামুন বাবা আমার আম্মুকে মেরেছে। লাথি মেরেছে। এরপর আর কিছু বলতে পারতেছেনা।

তবে, গৃহবধু গিন্নীর মৃত্যেুর ঘটনায় সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে বড়হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যানএমডি জুনাঈদ চৌধুরী বলেন, মামুন খুব খারাপ ছেলে। সে সবসময় মাদক সেবন করতো। এলাকাবাসী থেকে জানতে পারলাম সে প্রায়ই ভাবী গিন্নীকে মারধর করতো। ঘটনারদিনও সে রড দিয়ে গিন্নীকে মারধর করে। এখন মারধরের অপমান সহ্য করতে না পেরে গিন্নী আত্নহত্যা করলো, নাকি গিন্নীকে মেরে লাশটি ঝুলিয়ে দিলো ঠিক বুঝতে পারছি না। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি পরিস্কার হবে।

লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, মৃত গৃহবধু গিন্নীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় গৃহবধু গিন্নীর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে দেবর মামুন ও দুই জাঁ’কে আসামী করে দন্ডবিধী ৩০৬ ধারামতে লোহাগাড়া থানায়
আত্নহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দেবর মামুনকে আটক করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।